১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

উইকেটের সামনে সেঞ্চুরি, উইকেটের পেছনে রেকর্ড লিটনের

খালেদ মাসুদকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি লিটন কুমার দাসের সামনে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 08:59 PM

Updated : 12 Oct 2026, 08:59 PM

আবু ধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনটি যেন শুধুই লিটন কুমার দাসের। ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ কয়েকবার তিনি পেলেন ভাগ্যের ছোঁয়া। সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন তিন অঙ্কের জাদুকরী মাইলফলকে। পরে ফিল্ডিংয়ে নেমে গ্লাভস হাতে ভাঙলেন ২২ বছর পুরোনো এক রেকর্ড।

চলতি টেস্টের শেষ ইনিংসে আফগানিস্তানের প্রথম তিন উইকেটে সবকটির ক্যাচ নেন লিটন। এর আগে প্রথম ইনিংসে চার ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিংও করেন তিনি। সব মিলিয়ে ৮টি ডিসমিসাল নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়লেন ৩২ ছুঁইছুঁই এই উইকেটকিপার।

২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে দুই ইনিংসে তিনটি করে ক্যাচ নেন খালেদ মাসুদ। এর সঙ্গে প্রথম ইনিংসে করেন একটি স্টাম্পিং। দীর্ঘ ২২ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ম্যাচে তার ৭টি ডিসমিসালই এতদিন ছিল বাংলাদেশের রেকর্ড।

টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হাতে বরাবরই ছন্দময় লিটন। সাম্প্রতিক সময়ে তার কিপিংও পেয়েছে নতুন মাত্রা। এরই যেন প্রমাণ এই আবু ধাবি টেস্ট। দুই ইনিংসে দারুণ কিছু ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রেও দেখিয়েছেন দারুণ ক্ষিপ্রতা।

প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকে ছিল লিটনের বড় অবদান। সেই তিন উইকেটের দ্বিতীয়টিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কাইস আহমাদের দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি দেন তিনি।

এর আগে ইনিংসের শুরুতে শাহিদউল্লাহ মালিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার ক্ষেত্রেও চমৎকার ক্যাচ নেন অভিজ্ঞ এই কিপার।

বাংলাদেশের রেকর্ড নিজের করার পর বিশ্ব রেকর্ডও হাতছানি দিয়ে ডাকছে লিটনকে। টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড ১১টি।

১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের রিশাভ পান্ত দুই ইনিংস মিলিয়ে পেয়েছিলেন ১১টি ডিসমিসাল।

আফগানিস্তানের বাকি সাত উইকেটের মধ্যে তিনটি ডিসমিসাল পেলেই বিশ্ব রেকর্ডে ভাগ বসাবেন লিটন, চারটি পেলে সবাইকে ছাড়িয়ে তিনিই পৌঁছে যাবেন চূড়ায়।