১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে ৫ সেঞ্চুরি

বল হাতে ৬ উইকেটের পর ব্যাটিংয়ে শতকের দেখা পেলেন শেখ মেহেদি হাসান, ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন সাদিকুর রহমান।

ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে ৫ সেঞ্চুরি

জাতীয় ক্রিকেট লিগে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন (বাঁ থেকে) শেখ মেহেদি হাসান, মাহিদুল ইসলাম ও মার্শাল আইয়ুব। ছবি: বিসিবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 07:36 PM

Updated : 11 Oct 2026, 07:36 PM

প্রথম দিনই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে ফেলেছিল ঢাকা। পরের দিন সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলকে রান পাহাড়ে তুললেন মার্শাল আইয়ুব ও মাহিদুল ইসলাম। দুজনই পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। অন্য তিন মাঠেও দাপট দেখালেন ব্যাটসম্যানরা।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে শতরানের দেখা পেয়েছেন মোট ৫ ব্যাটসম্যান। এছাড়া ৯০ ছুঁয়েছেন আরও দুজন। প্রথম রাউন্ডের মতো এবারও তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেয়েছেন চট্টগ্রামের সাদিকুর রহমান। লম্বা সময় পর সেঞ্চুরি করেছেন শাহাদাত হোসেন।

বল হাতে ৬ উইকেটের পর ব্যাটিংয়ে শতক পেরিয়ে অপরাজিত শেখ মেহেদি হাসান।

মেহেদির সেঞ্চুরি, কালামের আক্ষেপ

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও উজ্জ্বল মেহেদি। তার দারুণ সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর বিপক্ষে বড় লিড পেয়েছে খুলনা।

দ্বিতীয় দিন শেষে খুলনার সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৪২৭ রান। এরই মধ্যে ৩০৮ রানে এগিয়ে গেছে তারা।

দিনের প্রথম বলেই আজিজুল হাকিমকে (৫৫) ফিরিয়ে ভালো শুরু করেছিল রাজশাহী। তবে দিনের বাকি অংশে দাপট দেখায় খুলনা।

একপ্রান্ত ধরে রেখে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান কালাম সিদ্দিকি। কিন্তু নিহাদ উজ জামানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সেই আশা শেষ হয় তরুণ ব্যাটারের। ১০ চারে তিনি করেন ১৬৩ বলে ৯১ রান।

পরে আট নম্বরে নেমে ওয়ানডে মেজাজের ব্যাটিংয়ে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেন মেহেদি। দিনের শেষ ওভারে ক্যাচ আউট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১১৪ বলে ১০৪ রান করেন তিনি।

এছাড়া উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ইমরানউজ্জামান ১৬২ বলে ৫২ ও তরুণ অলরাউন্ডার সামিউন বাশির ৭২ বলে করেন ৫৭ রান।

রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নিহাদ উজ জামান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১১৯

খুলনা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১০৮/১) ১২৭ ওভারে ৪২৭/৯ (আজিজুল ৫৫, কালাম ৯১, মিঠুন ২১, আফিফ ৩৯, ইমরানউজ্জামান ৫২, সামিউন ৫৭, মেহেদি ১০৪, পারভেজ ১০, সফর ৫*, হালিম ০*; শফিকুল ১৩-২-৪৫-০, আলি ১৬-১-৬৮-০, সানজামুল ৩৬-১-১৩৮-২, মেহেরব ২০-৩-৭৬-২, নিহাদ ৩৪-৬-১০১-৩), সাব্বির ৮-০-৩০-১)

মার্শাল ১৭৫, মাহিদুল ১০৮

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেটের বোলার-ফিল্ডারদের হতাশায় ডুবিয়ে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৪৭ রান করেছে ঢাকা। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে স্থানীয় দলটির সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৫৪ রান। এখনও ৩৯৩ রানে পিছিয়ে তারা।

২ উইকেটে ৩৪৩ রান নিয়ে রোববারের খেলা শুরু করে ঢাকা। তৃতীয় উইকেটে ২৩৩ রানের জুটি গড়েন মার্শাল আইয়ুব ও মাহিদুল ইসলাম।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৩০তম সেঞ্চুরি করে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেন মার্শাল। ২৪০ বলে ১৯ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ৩৮ ছুঁইছুঁই ব্যাটার।

মাহিদুল পান পঞ্চম সেঞ্চুরির স্বাদ। ঢাকার অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১৪১ বলে ১০৮ রান।

আগের দিন ১৩১ রানে চোট পেয়ে উঠে যাওয়া নাঈম শেখ এদিন আর ৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি।

সিলেটের পক্ষে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।

পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু করে সিলেট। ওয়ানডে মেজাজের ব্যাটিংয়ে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ বলে ৪৮ রান করে আউট হন মুবিন আহমেদ। ১০ চারে ৬৫ রানে ত্থামেন জাকির হাসান।

দিন শেষে সৈকত আলি ৩১ ও অমিত হাসান ৯ রানে অপরাজিত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ১ম ইনিংস: (আগের ৩৪৩/২) ১৩৩.৫ ওভারে ৫৪৭/৬ডি. (নাঈম ১৩৭, মার্শাল ১৭৫, মাহিদুল ১০৮, আমিনুল ৬, সুমন ৬*, তাইবুর ৭*; ইকবাল ২১-২-৯৭-০, তোফায়েল ১৫-৩-৫২-০, নাসুম ৪৭-৩-১৯৮-৪, অনিক ১১-০-৫২-০, নাঈম ৩৬.৫-৪-১২০-২, গালিব ২-০-৯-০, সৈকত ১-০-৫-০)

সিলেট ১ম ইনিংস: ৪০ ওভারে ১৫৪/২ (জাকির ৬৫, মুবিন ৪৮, সৈকত ৩১*, অমিত ৯*; সুমন ৯-৩-৩০-০, রিপন ৫-১-২১-১, এনামুল ৭-০-৩১-০, আরিফ ১৩-০-৪১-০, আমিনুল ৬-০-৩০-১)

সাদিকুর-শাহাদাতের সেঞ্চুরি

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ছড়ি ঘুরিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা। সারা দিন ৮১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪০৭ রান যোগ করেছে তারা।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান। এরই মধ্যে ১৯৩ রানের লিড পেয়ে গেছে তারা।

৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। সেই জুটি ভাঙে ১১৯ রানে। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৭৫ বলে ৫৭ রান করে ফেরেন জয়।

পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ১২৫ রান যোগ করেন সাদিকুর। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৭৯ বলে ৭৪ রান করে আউট হন পারভেজ।

জয়-পারভেজ ফিফটি পেরিয়ে থেমে গেলেও, অবিচল থেকে টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি করে ফেলেন সাদিকুর। আগের রাউন্ডে ১১৫ রানের ইনিংস খেলা বাঁহাতি ওপেনার এবার করেন ১৯ চার ও ২ ছক্কায় ১৬৩ বলে ১৪৯ রান।

পাঁচ নম্বরে নামা ইয়াসির আলি চৌধুরি ফিরে যান অল্পেই। এরপর আর বিপদ ঘটতে দেননি শাহাদাত হোসেন ও ইরফান শুক্কুর। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১৭১ রান।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরিতে ১০১ রানে অপরাজিত শাহাদাত। একই সম্ভাবনা জাগিয়ে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৯ বলে ৯২ রান করে ফেলেছেন ইরফান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বরিশাল ১ম ইনিংস: ২৮২

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৭২/০) ৯৩ ওভারে ৪৭৯/৪ (জয় ৫৭, সাদিকুর ১৪৯, পারভেজ ৭৪, শাহাদাত ১০১*, ইয়াসির ১, ইরফান ৯২*; রুয়েল ১৭-০-৯৯-০, মইন ২১-০-১১২-১, অভি ১৬-০-৮৩-২, মোজাম্মেল ১৪-২-৬৩-২, রাফসান ৫-০-২২-০, মইনুল ১০-১-৬০-০, ইফতেখার ১০-০-৩৮-১)

রংপুর-ময়মনসিংহ

অন্য তিন মাঠের মতো সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ব্যাটসম্যানদের দাপট দেখা যায়নি। বোলিং নৈপুণ্যে ময়মনসিংহকে ফলো-অন করানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর।

দ্বিতীয় দিন শেষে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৮৩ রান। এর আগে ৯ উইকেটে ৪২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে রংপুর। ফলো-অন এড়াতে এখনও ৯০ রান প্রয়োজন ময়মনসিংহের।

৬ উইকেটে ৩৭০ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে আর ৫২ রান যোগ করে ব্যাটিং ছেড়ে দেয় রংপুর।

পরে ময়মনসিংহ ব্যাট করতে নামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়েন খালিদ হাসান ও আরিফুল ইসলাম। এর আগে-পরে কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি।

খালিদ ৮ চার ও ২ ছক্কায় ১১৭ বলে ৭২ এবং আরিফুল ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৮১ বলে ৪৬ রান করে আউট হন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর ১ম ইনিংস: ১০৫.৩ ওভারে ৪২২/৯ডি. (রিজওয়ান ১৮, নবিন ১০, আলাউদ্দিন ১১, হাশিম ৯, স্বাধীন ৪*, মুশফিক ৬*; গালিব ২০-২-৮৭-২, আবু হায়দার ১২.৩-০-৫০-২, রকিবু ২৭-৪-১০৬-১, রিজান ৫-১-২২-১, শুভাগত ১৫-২-৬২-০, আজিজুল ১৯-৫-৪১-২, আলআমিন ৭-০-৩৭-১)

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৬১ ওভারে ১৮৩/৬ (মাহফিজুল ৭, খালিদ ৭২, আরিফুল ৪৬, মজিদ ১৯*, আলআমিন ২, শুভাগত ৪, রিজান ২৬, আবু হায়দার ৬*; মুশফিক ১১-৪-৩৬-৩, আলাউদ্দিন ৭-১-২৫-০, রিজওয়ান ৯-১-২৮-০, স্বাধীন ১৯-৪-৫০-৩, হাশিম ১২-৪-৩২-০, ইকবাল ৩-১-১২-০)