২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

নাঈমের ডাবল সেঞ্চুরি, ১০ ছক্কায় আজিজুল ১৪২, ২২ বলের ফিফটিতে জাওয়াদের রেকর্ড

প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন নাঈম আহমেদ, শেষের লড়াইয়ে দুর্দান্ত শতক উপহার দিলেন আজিজুল হাকিম, দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়লেন জাওয়াদ আবরার।

নাঈমের ডাবল সেঞ্চুরি, ১০ ছক্কায় আজিজুল ১৪২, ২২ বলের ফিফটিতে জাওয়াদের রেকর্ড

নাঈম আহমেদের ডাবল সেঞ্চুরির আনন্দ। ছবি: বিসিবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Oct 2026, 07:25 PM

Updated : 20 Oct 2026, 07:33 PM

নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে শেখ পারভেজ রহমান যখন আউট হলেন, তখন ৮০ রানও হয়নি আজিজুল হাকিমের। সেখান থেকে শেষ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে অসাধারণ লড়াই মেলে ধরলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার। শেষ জুটিতে যোগ করলেন ৬৭ রান, নিজেকে রাঙালেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে।

জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডে শতকের দেখা পেলেন আরেক বাঁহাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখও। আগের দিনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে এবারের জাতীয় লিগের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন রাজশাহীর তরুণ ব্যাটসম্যান নাঈম আহমেদ।

ঝড়ো ফিফটিতে রেকর্ড গড়লেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি জাওয়াদ আবরার। শতরানের সুবাস পেয়েও হারিয়ে ফেলেন অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান। শেষ দিনে সেঞ্চুরির হাতছানি আছে অমিত হাসানের সামনে।

প্রথম সেঞ্চুরিতে আজিজুলের ১৪২

সিলেটের আউটার মাঠে জমে উঠেছে খুলনা ও চট্টগ্রাম ম্যাচ। শেষ দিন জয়ের জন্য চট্টগ্রামের করতে হবে ১০১ রান। খুলনার নিতে হবে ৫ উইকেট।

দিনের শুরু থেকেই চমৎকার ব্যাটিং করেন আজিজুল। তবে দলের আড়াইশ পেরোতেই সঙ্গীর অভাবে একা হয়ে যান ১৯ বছর বয়সী ওপেনার। তবে লড়াই থামাননি। সফর আলিকে নিয়ে দশম উইকেটে আরও ৬৭ রান যোগ করেন আজিজুল। জুটিতে সফরের অবদান ২১ বলে ০ রান!

৭০ ওভারে খুলনা দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর শরিফের বলে পরপর দুই ছক্কায় ৮৮ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান আজিজুল।

তবে সেখানেই থেমে যাননি। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আরও ৪২ রান যোগ করেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরে মাহমুদুল হাসান জয়ের বলে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় থামে ৯ চার ও ১০ ছক্কায় তার ১৪৭ বলে ১৪২ রানের ইনিংস।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আজিজুলের শুরুটা হলো দারুণ সম্ভাবনাময়। প্রথম চার ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে তিনটি ফিফটি করেন তিনি। এবার পঞ্চম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ।

আজিজুলের বিদায়ে ৩২৩ রানে থামে খুলনার দ্বিতীয় ইনিংস। পরে ২৭৫ রানের লক্ষ্যে উড়ন্ত সূচনা করে চট্টগ্রাম। উদ্বোধনী জুটিতে ১৩০ রান যোগ করেন জয় ও সাদিকুর রহমান।

এরপর দিনের শেষ ঘণ্টার নাটকীয়তায় ম্যাচে ফেরে খুলনা। সামিউন বশিরের কনকাশন বদলি হিসেবে নামা রাকিব হাওলাদের বলে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন জয়। ৭ চারে করেন তিনি ৬০ রান। রাকিবের বলে ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ রান করা সাদিকুর।

পরে ইয়াসির আলি চৌধুরির কনকাশন বদলি নামা তাসামুল হক টিকতে পারেননি। শাহাদাত হোসেন ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মুরাদও দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম।

শেষ দিন দলকে জেতানোর অভিযানে নামবেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ও শামীম হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)

খুলনা ১ম ইনিংস: ২০১

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ২৫০

খুলনা ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১৬১/৬) ৭৯.২ ওভারে ৩২৩ (আজিজুল ১৪২, আফিফ ৫৯, সামিউন ২১, শেখ পারভেজ ৭, সফর ০*; শরিফ ৯-০-৫৭-১, রুবেল ২৮-৪-১০৯-৩, আশরাফুল ৯-৩-১৯-০, হাসনাত ৯-০-৪৬-০, মুরাদ ১৬-৩-৬১-২, জয় ৮.২-০-৩০-৩)

চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৭৫) ৫২ ওভারে ১৭৪/৫ (জয় ৬০, সাদিকুর ৭৬, তাসামুল ২, শাহাদাত ৭, মুরাদ ৫, ইরফান ১৫*, শামীম ৯*; মেহেদি ১৮-৬-৪৩-১, সফর ৩-০-১৩-০, রাকিব ১৫-৪-৪৪-৪, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-২৯-০, পারভেজ ৯-২-৩১-০, আফিফ ৪-১-১৪-০)

নাঈম ২০২*, জাওয়াদ ৯১

আগের দিনই ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন নাঈম আহমেদ। তৃতীয় দিন সকালে সেই পথটুক পার হতে বেশি সময় নেননি ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। কামরুল ইসলামের বলে বাউন্ডারি মেরে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

Image

অসাধারণ ব্যাটিংয়ে শতরান করেছেন আজিজুল হাকিম। ছবি: বিসিবি।

২৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৬৭ বলে ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। ২২৮ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী।

বড় লিডের বোঝা মাথায় নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন জাওয়াদ আবরার। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ফিফটি করে ফেলেন বরিশালের তরুণ ওপেনার।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এটিই দ্রুততম ফিফটি। ২০১৪-১৫ মৌসুমের জাতীয় লিগে ২৪ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

রেকর্ড গড়া ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগান জাওয়াদ। তবে শেষ পর্যন্ত ৯ রান বাকি থাকতে ফিরে যান ড্রেসিং রুমে। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৪ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি।

পরের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবু দিন শেষে খুলনার লিড ছাপিয়ে ২১ রানে এগিয়ে যায় বরিশাল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)

বরিশাল ১ম ইনিংস: ২২৯

রাজশাহী ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৪২৪/৫) ১০২.১ ওভারে ৪৫৭/৭ডি. (নাঈম ২০২*, মেহেরব ৫৭, সানজামুল ৩, নিহাদ উজ জামান ২*; কামরুল ১৭.১-১-৭৭-১, রুয়েল ১৯-১-১০০-৩, অভি ১৮-১-৭২-২, মইন ২৫-৩-১০৮-১, শহিদুল ১৫-০-৬২-০, ইফতেখার ১-০-৮-০, রাফসান ৭-১-২৮-০)

বরিশাল ২য় ইনিংস: ৭৫ ওভারে ২৪৯/৫ (জাওয়াদ ৯১, ইফতেখার ২৬, রাফসান ৩০, ফজলে মাহমুদ ৩৩, হাফিজুর ৩৯, আবদুল্লাহ ২৮*; শফিকুল ১৫-১-৬২-১, মোহর ১০-২-২০-০, মেহেরব ১৬-৪-৪৪-১, সানজামুল ২০-৩-৯০-১, নিহাদ উজ জামান ১৪-১-৩২-১)

অমিতের ৬ রানের অপেক্ষা

চট্টগ্রামে রংপুরের বোলার-ফিল্ডারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে সিলেট। পুরো দিন ৮৬ ওভার ব্যাটিং করে মোটে ২০১ রান করেছে তারা। বিপরীতে অবশ্য হারিয়েছে ৮টি উইকেট।

তৃতীয় দিন শেষে সিলেটের লিড এখন ২০৮ রানের। শেষ দিন লক্ষ্য বাড়ানোর অভিযানে নামবেন অমিত হাসান। তবে অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান কেউ বাকি নেই।

দিনের শুরুতে জাকির হাসানের বিদায়ের পর আর তেমন বড় কোনো জুটি পায়নি সিলেট। ষষ্ঠ উইকেটে আশরাফুল হোসেনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৩ রানের জুটি গড়েন অমিত।

আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর এবার ৬ চারে ৯৪ রানে অপরাজিত সম্প্রতি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ব্যাটসম্যান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)

সিলেট ১ম ইনিংস: ১৭৯

রংপুর ১ম ইনিংস: ২০৬

সিলেট ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৩৪/০) ১০০ ওভারে ২৩৫/৮ (সৈকত ৩৬, জাকির ১৮, অমিত ৯৪*, গালিব ৪, জাকের ১০, নাসুম ১৯, আশরাফুল ২১, তোফায়েল ১২, খালেদ ১, নাঈম ২*; মেহেদি ১৬-৪-৩৯-২, নাসির ৪-১-৭-০, ইকবাল ২-০-৬-০, হাশিম ৩০-৯-৪৬-২, হাসিবুল ১২-২-২৬-১, রিজওয়ান ১০-০-৪০-১, মামুন ১২-৩-২৭-১, স্বাধীন ১৪-২-৩৬-১)

ড্রয়ের পথে ময়মনসিং-ঢাকা

কক্সবাজারে তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস। ময়মনসিংহের ৩৮৭ রানের জবাবে তৃতীয় দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৪২ রান।

আগের রাউন্ডে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলা মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবার করেন ১৩৫ রান। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটিতে তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ২১৩ বলে ১৩ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মারেন তিনি।

তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় শতরানের আশা জাগিয়ে কাছে গিয়ে থমকে যান তাইবুর। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪৮ বলে তিনি খেলেন ৯৩ রানের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৩৮৭

ঢাকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১২০/৩) ১১১.১ ওভারে ৩৪২/৯ (নাঈম ১৩৫, মাহফুজুর ১০, মাহিদুল ৮, তাইবুর ৯৩, আমিনুল ৩৪, সুমন ১০*, আরিফ ০, শাকিল ০*; আবু হায়দার ৯.১-২-৩০-১, গালিব ১৩-১-৪৭-০, রিজান ৫-১-২২-০, রকিবুল ২৯-৩-৬৩-৪, আজিজুল ২০-৩-৪৬-১, শুভাগত ২৪.৫-৩-৮৭-২, আল আমিন ৮.১-১-২৮-০, আরিফুল ২-০-৮-১)