বোলারদের দাপটের দিনে মাহফিজুলের আরেকটি সেঞ্চুরি
তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি করলেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন, পঞ্চাশ পেরিয়েছেন জাকির হাসান ও ইমরানউজ্জামান।
সালাউদ্দিন শাকিলের শর্ট ডেলিভারি ঠিকঠাক হুক করতেই বলের গন্তব্য বুঝে গেলেন মাহফিজুল ইসলাম। সঙ্গে সঙ্গে ড্রেসিং রুমের দিকে ছুটে গেলেন তরুণ ওপেনার। হেলমেট খুলে ব্যাট হাতে লাফিয়ে উঠলেন। এমন উচ্ছ্বাস ও উদযাপনকে নিয়মিত ঘটনাই করে তুলছেন তিনি। তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় শতক বলে কথা!
জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন শুধু মাহফিজুলই। অন্য তিন মাঠ মিলিয়ে পঞ্চাশ পেরিয়েছেন শুধু জাকির হাসান ও ইমরানউজ্জামান। বোলারদের দাপটে তিন মাঠেই প্রথম দিনে শুরু হয়ে গেছে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের সুবিধার জন্য এই রাউন্ড শুরু করা হয়েছে এক দিন পিছিয়ে। তবে সিলেটের জাকের আলি ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ ছাড়া কেউই খেলছেন না এই রাউন্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বিশ্রাম বেছে নিয়েছে মুশফিকুর রহিম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন চৌধুরি, তাইজুল ইসলাম ও সাদমান ইসলাম।
আবারও মাহফিজুলের সেঞ্চুরি
চলতি জাতীয় লিগের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে মাহফিজুল ইসলাম। এমনিতে নারায়ণগঞ্জের ছেলে হলেও সার্বিক বিবেচনায় ময়মনসিংহের হয়ে খেলছেন ২২ বছর বয়সী ওপেনার। তৃতীয় রাউন্ডে তিনি পেয়ে গেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ। অন্য তিন ইনিংসের দুটিতেই খেলেছেন ৬৫ ছাড়ানো ইনিংস।
কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে ঢাকার বিপক্ষে প্রথম দিনে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২২৬ রান। মাহফিজুল ছাড়া কেউই উইকেটে তেমন টিকতে পারেননি। দিনের শেষভাগে তাকে সঙ্গ দেন রিজান হোসেন।
শুরু থেকে রয়েসয়ে ব্যাটিংয়ে ১৪৫ বলে ফিফটি করেন মাহফিজুল। পরে রানের গতি বাড়িয়ে ৭১ বলে করে ফেলেন পরের পঞ্চাশ রান।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে মাহফিজুলের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। এবারের লিগ শুরুর আগে ১৪ ম্যাচের ২৬ ইনিংসে ছিল স্রেফ একটি সেঞ্চুরি। এবার পাঁচ ইনিংসে যোগ করলেন আরও দুটি।
দিনের শেষভাগে রিজানের সঙ্গে ৮০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন মাহফিজুল। শেষ পর্যন্ত ২৩৭ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১১৬ রানে অপরাজিত তিনি। রিজানের সংগ্রহ ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ বলে ৪৩ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৮৬ ওভারে ২২৬/৪ (মাহফিজুল ১১৬*, খালিদ ২৪, আরিফুল ০, মজিদ ১৮, আল আমিন ২১, রিজান ৪৩*; সুমন ১৫-৪-৩২-১, আরিফ ৩১-৩-৭৩-১, আমিনুল ১৪-০-৪২-২, মাহফুজুর ১২-২-৩৩-০, তাইবুর ৩-০-৩-০)
একার লড়াইয়ে জাকিরের ফিফটি
চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে একাই লড়াই করেছেন জাকির হাসান। তবে সারা শরীরে ক্র্যাম্প করায় সম্ভাবনাময় ইনিংসটি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি সিলেট অধিনায়ক।
প্রথম দিনে ১৭৯ রানে গুটিয়ে গেছে সিলেট। পরে ঘণ্টাখানেকের জন্য ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুরের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩২ রান।
রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দারুণ জবাব দিয়ে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৫ বলে ৭১ রান করেন জাকির। দ্বিতীয় সেশনে ইনিংসের ৪৯তম ওভারের প্রথম বল খেলার পর শরীরের বিভিন্ন পেশিতে টান অনুভব করেন তিনি। পরে আর ব্যাটিং চালিয়ে নিতে পারেননি, ফিল্ডিংয়েও নামেননি। টিম ম্যানেজমেন্টের আশা, পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠে ফিরবেন অধিনায়ক।
জাকিরের ফিফটি ছাড়া স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কেউ ২৫ রানও করতে পারেননি। জাকের আলি ৫৬ বলে ১৯ রান করে আউট হন। ৯ নম্বরে নেমে ২ ছক্কায় ২৬ রান করেন খালেদ। ফলে ১৭৯ পর্যন্ত পৌঁছায় সিলেট।
রংপুরের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন সম্ভাবনাময় পেসার মেহেদি হাসান ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
সিলেট ১ম ইনিংস: ৬৮ ওভারে ১৭৯ (সৈকত ৮, জাকির ৭১ আহত অবসর, অমিত ১৬, গালিব ০, জাকের ১৭, আশরাফুল ১৬, নাসুম ২, তোফায়েল ০, খালে ২৬, নাঈম ১০, নাবিল ০*; মেহেদি ১০-২-২৯-৩, মামুন ৬-১-১৬-০, রিজওয়ান ৬-১-১৬-০, স্বাধীন ১৮-৫-৫২-৩, হাসিবুল ৯-০-২১-০, হাশিম ১৫-৭-২৬-২, ইকবাল ৪-০-১৬-০)
রংপুর ১ম ইনিংস: ১৩ ওভারে ৩২/১ (অনিক ৩, মিম ১৫*, ইকবাল ১৪*; খালেদ ৪-১-৩-০, তোফায়েল ৫-০-২২-১, নাঈম ৩-১-২-০, ১-০-৫-০)
ইমরানউজ্জামানের অপরাজিত ফিফটি
সিলেটের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ইমরানউজ্জামান। ২৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার অষ্টম ফিফটি।
এছাড়া ৪২ রান করেন তরুণ ওপেনার আজিজুল হাকিম। দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে কাটা পড়ায় পঞ্চাশ ছোঁয়া হয়নি তার। এর বাইরে এনামুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেনরা তেমন কিছু করতে না পারায় ২০১ রানে থেমে যায় খুলনার প্রথম ইনিংস।
দিনের শেষ সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করে চট্টগ্রাম। আগের রাউন্ডে তিন অঙ্কের দেখা পাওয়া শাহাদাত হোসেন ২০ রানে অপরাজিত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
খুলনা ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২০১ (এনামুল ৬, আজিজুল ৪২, কালাম ১১, মিঠুন ৯, আফিফ ১৮, ইমরানউজ্জামান ৬৪*, সামিউন ৭, মেহেদি ৬, মৃত্যুঞ্জয় ১৯, পারভেজ ১৮, সফর ০; রুবেল ২৩-৬-৫৮-২, শরিফ ৯-২-৪০-৩, আশরাফুল ১১-৩-২৭-১, হাসনাত ১৩-২-৩৩-১, মুরাদ ১৫-২-৪২-২)
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১৭ ওভারে ৭২/৩ (জয় ২৫, সাদিকুর ১২, শাহাদাত ২০*, ইয়াসির ২, ইরফান ৮*; সফর ৩-১-১৬-০, মেহেদি ৮-২-১৮-১, মৃত্যুঞ্জয় ৫-২-৩২-২, পারভেজ ১-০-৫-০)
বরিশাল-রাজশাহী
তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি রান করেছে বরিশাল। ৬৮.১ ওভারে অলআউট হওয়া দলটির সংগ্রহ ২২৯ রান। পরে ১০ ওভার খেলে সাব্বির হোসেনের উইকেট হারিয়ে রাজশাহী করে ২৪ রান।
বরিশালের পক্ষে ফিফটির দেখা পাননি কেউই। ত্রিশছোঁয়া ইনিংস খেলেন চারজন। আগ্রাসী শুরুর পর ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ বলে ৪০ রান করে ফিরে যান তরুণ ওপেনার জাওয়াদ আবরার।
উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪১ রান।
শেষ দিকে লেজের সারির দুই ব্যাটসম্যান শহিদুল ইসলাম ও চলতি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (ডব্লিউসিএল) খেলে আসা কামরুল ইসলামের ব্যাটে দুইশ পেরোয় বরিশাল। ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৬ বলে ৩২ রান করেন শহিদুল। কামরুলের সংগ্রহ ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬৩ বলে ৩৬ রান।
ডব্লিউসিএল ফেরত আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদ ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি।
রাজশাহীর পক্ষে ১১.৫ ওভারে পাঁচ মেডেনসহ মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
বরিশাল ১ম ইনিংস: ৬৮.১ ওভারে ২২৯ (জাওয়াদ ৪০, ইফতেখার ১৮, রাফসান ০, ফজলে মাহমুদ ১৭, হাফিজুল ১৪, আবদুল্লাহ ৪১, মইন ১৬, শহিদুল ৩২, কামরুল ৩৬, রুয়েল ১২*, অভি ০; মোহর ১৫-২-৬০-১, শফিকুল ১৬-৪-৬১-৩, মেহেরব ১৮-৭-৪৪-২, সাব্বির হোসেন ৪-১-২৩-০, নিহাদ ৪-০-২৪-০, সানজামুল ১১.৫-৫-১৫-৪)
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১০ ওভারে ২৪/১ (হাবিবুর ৬*, সাব্বির হোসেন ৫, নাঈম ১৩*; কামরুল ৪-০-৫-০, রুয়েল ৪-০-১৪-১, অভি ১-০-১-০, মইন ১-০-৪-০)
