০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মেয়েদের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড, প্রায় ১০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব

আইসিসি বলেছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নারী ক্রিকেট ইভেন্ট আয়োজনের লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং মেয়েদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

মেয়েদের বিশ্বকাপ দেখার রেকর্ড, প্রায় ১০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 10:38 PM

Updated : 04 Nov 2026, 10:38 PM

সম্প্রচারের ক্ষেত্রে এবং স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখায় রেকর্ড গড়েছে ২০২৬ উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এছাড়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই আসর যুক্তরাজ্যে মোট ৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছে।

আইসিসি বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, টুর্নামেন্ট-পরবর্তী প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছে যে, এবারের আসরটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নারী ক্রিকেট ইভেন্ট আয়োজনের লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং মেয়েদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ৩৩ ম্যাচ মিলিয়ে মোট ৪৭ কোটি ১০ লাখ ঘণ্টা দেখা হয়েছে, যা এটিকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি দেখা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরিণত করেছে। ২০২৪ আসরের (১৮ কোটি ৪০ লাখ ঘণ্টা) তুলনায় যা ১৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বার্মিংহামে ভারত ও পাকিস্তানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দেখা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ম্যাচ সাত কোটি ৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় দেখা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা নারী টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টুর্নামেন্টের আরও তিনটি ম্যাচ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচসহ এই চারটি ম্যাচ এখন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা চারটি ম্যাচ-অস্ট্রেলিয়া ও ভারত (৫ কোটি ৪০ লাখ ঘণ্টা), দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত (৫ কোটি ১০ লাখ ঘণ্টা) এবং বাংলাদেশ ও ভারত (৪ কোটি ২০ লাখ ঘণ্টা)।

আসরটি প্রভাব কেবল বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘নিলসেন’-এর করা একটি স্বাধীন অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাজ্যে মোট ৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছে।

এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে সরাসরি ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব এবং আয়োজক শহরগুলোর জন্য তৈরি হওয়া মিডিয়া ভ্যালু। এছাড়া টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাজ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

নিলসেনের আরেকটি গবেষণায় টুর্নামেন্টটির সামাজিক প্রভাবের দিকটিও উঠে এসেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা মত দিয়েছেন, এর মধ্যে ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সি মেয়েদের ৫০০ জন অভিভাবকের ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন যে, ‘ক্রিকেট কেবল পুরুষদের খেলা’-এমন প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনে সহায়তা করেছে এবারের আসরটি। এছাড়া ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি ৫০০ জন নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

অভিভাবকদের ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন যে, এই টুর্নামেন্টের ফলে তাদের মেয়েদের ক্রিকেট ক্লাব বা একাডেমিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে।

আসরটি ইতোমধ্যেই স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি, ডিজিটাল সম্পৃক্ততা এবং ভক্তদের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অনেক নতুন রেকর্ড গড়েছে।

আসরের ২৫ ম্যাচ ডে মিলিয়ে মোট দুই লাখ ৪৫ হাজার ৮১৫ জন দর্শক স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখেছেন, যা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির আগের রেকর্ডকে এক লাখেরও বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ২৮ হাজার ৮৮৭ জন দর্শকের উপস্থিতি যুক্তরাজ্যে কোনো নারী ক্রিকেট ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড গড়েছে।

আইসিসির বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্ট-সংক্রান্ত কনটেন্ট ৩২০ কোটি বার দেখা হয়েছে, যা আগের আসরের তুলনায় প্রায় ২৫০ শতাংশ বেশি।