ব্যাটিং বিভীষিকায় শঙ্কার মেঘ মিরপুরে
বোলারদের সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে লিড পেলেও বাজে ব্যাটিংয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে পরাজয়।
দুপুর সাড়ে তিনটাতেই নেমে এলো যেন সন্ধ্যা। মেঘলা আকাশ, ফ্লাডলাইটের আলোতেও গুমোট চারপাশ। আগের দুই দিনের মতোই আলোকস্বল্পতায় খেলা শেষ হলো বেশ আগেই। তবে প্রকৃতির চেয়েও বেশি আঁধার তখন হয়তো বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে। বোলারদের সৌজন্যে পাওয়া লিড পাওয়ার স্বস্তি যে ব্যাটসম্যানরা মিশিয়ে দিয়েছেন ধুলোয়!
রোস্টন চেইসের নীরিহ অফ স্পিনের জবাব পাননি ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসের মতোই অবিশ্বাস্যরকমের ব্যাখ্যাতীত শটে উইকেট হারিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। স্কোরবোর্ড স্বাক্ষী হয়ে আছে ব্যাটসম্যানদের অদক্ষতা আর অসচেতনতার।
অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে থামিয়ে লিড মিলেছিল ২৭ রানের। পর্যাপ্ত বোলিং না পেয়েও চার উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার নাঈম ইসলাম। সেই নাঈমই এখন আটে নেমে লড়াই করছেন ব্যাট হাতে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৭৯।
শের-ই-বাংলার উইকেটে স্পিন ধরছে বেশ, মিলছে টার্ন। বাউন্সও অসমান। চতুর্থ ইনিংসে কাজটা সহজ হবে না ক্যারিবিয়ানদের জন্যও। তবে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পুঁজি তো অন্তত গড়তে হবে!
ব্যর্থতার মিছিল শুরু তানজিদ হাসানকে দিয়ে। প্রথম ইনিংসে সাত রান করা ওপেনার এবার ফেরেন শূন্যতে। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলামও পারেননি এবার ভরসা জোগাতে। চেইসের ড্রিফট বুঝতে না পেরে বোল্ড হন তিনি ১৩ রানে।
নতুন ব্যাটসম্যান হৃদয় দ্বিতীয় বলেই চেষ্টা করলেন ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে। প্রথম ইনিংসেও স্রগ করার চেষ্টায় তিনি উইকেট হারিয়েছিলেন। তবে এবার যে শট খেললেন, সেটির ব্যাখ্যা হয়তো তিনিই দিতে পারবেন। যদিও, এই শটের কোনো ব্যাখ্যাই আসলে থাকতে পারে না।
চেইসের শিকার হন অধিনায়ক শান্তও। জোমেল ওয়ারিক্যান কেন আর পিছিয়ে থাকবেন! প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারি বাঁহাতি স্পিনার বিদায় করে দেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজকে। ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বিধ্বস্ত অবস্থা ইনিংসের।
জাকের আলি ও নাঈম কিছুটা লড়াই করে বিপদ কাটানোর চেষ্টা করেন। চতুর্থ দিনেও সেই লড়াই চালাতে হবে তাদের।
এই ম্যাচের একাদশে ছিলেন না জাকের। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে সুযোগাটা পেয়ে গেছেন হুট করে। তার দিকেই এক তাকিয়ে দল।
সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শুরু করে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে। আগের দিনের জুটিকে আরেকটু এগিয়ে নেন তেজনারাইন চান্দারপল ও জাস্টিন গ্রেভস।
তাইজুলকে স্লগ সুইপে ছক্কা মারলেও বাকি সময়টায় চান্দারপল ছিলেন বরাবরের মতোই অতি সাবধানী। ফিফটি করেন তিনি ১৬৪ বলে।
বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের গভীর মনোযোগে চিড় ধরে আরেকটু পর। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি (১৮৪ বলে ৫৬) শান্তর হাতে।
এরপর আরেকটি ফিফটি জুটি গড়ে তোলেন গ্রেভস ও রস্টন চেইস। এই জুটি থামতে পারত আগেই। কিন্তু শর্ট লেগে চেইসের ক্যাচ ছাড়েন মুমিনুল।
জুটি ভাঙে একটু পরই। দলের প্রথম ৫৮ ওভারে মাত্র ৩ ওভার বোলিং পাওয়া নাঈম দারুণভাবে জ্বলে উঠে ম্যাচে ফেরান দলকে। গ্রেভসকে ৪৬ রানে এলবিডব্লিউ করে শিকার শুরু করেন তিনি।
জীবন পান জশুয়া বিশপও। সহজ সেই ক্যাচ নিতে গিয়েই মাঠ পড়ে গিয়ে হেলমেটের ধাক্কায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন মুমিনুল। পরে ছিটকে যান তিনি ম্যাচ থেকেই। দুই বল পরই মিরাজ ফেরান বিশপকে।
এরপর দ্রুতই শেষ তিন উইকেট নিয়ে নেন নাঈম। শূন্য রানে শেষ তিন উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২৭ রানের লিড নিয়ে তখন বেশ উচ্ছ্বসিতই ছিল বাংলাদেশ। কে জানত, সেই খুশি দ্রুতই রূপ নেয় বিষাদে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৪ ওভারে ১৩৪/৪ (ক্যাম্পবেল ৫৪, কিং ১৫, চান্দারপাল ৪৩*, হজ ৭, জাঙ্গু ০, গ্রেভস ১৫*; হাসান ৬-১-২৫-১, শরিফুল ৫-১-১৭-০, মিরাজ ১৯-৪-৪৪-১, তাইজুল ১৫-৩-৪৪-২, নাঈম ৩-০-৪-০)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৯ ওভারে ৭৯/৬ (সাদমান ১৩, তানজিদ ০, শান্ত ১০, হৃদয় ০, লিটন ৪, জাকের ১৮*, মিরাজ ৯, নাঈম ১৮*; সিলস ৩-১-৭-০, জোসেফ ৪-১-১৭-১, ওয়ারিক্যান ১০-২-১৯-২, চেইস ১০-১-২৫-৩, বিশপ ২-০-১০-০)
