Published : 27 May 2026, 10:00 AM
মৌসুমজুড়ে বেশ কবারই উত্তাল হয়েছে রাজাত পাতিদারের ব্যাট। তবে সেরাটা জমা রেখেছিলেন তিনি যেন প্লেঅফের জন্য। গুজরাট টাইটান্সের বোলারদের স্রেফ তুলাধুনা করে ছাড়লেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক। নতুন কিছু অবশ্য নয়। আইপিএলের প্লেঅফে আগেও জ্বলে উঠেছে তার ব্যাট।
এবারের আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মঙ্গলবার গুজরাটের বিপক্ষে ৩৩ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন পাতিদার। ৫ চার ও ৯ ছক্কায় অধিনায়কের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ২৫৫ রান তুলে ৯২ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
প্লেঅফে রুদ্র রূপে আবির্ভুত হওয়ার নজির তার আগেও আছে। প্রথম যেবার আইপিএলের প্লেঅফে খেলেন তিনি, টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি খেলেছিলেন সেদিনই। ২০২২ আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে বেঙ্গালুরুর হয়েই লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে করেছিলেন ৫৪ বলে অপরাজিত ১১২।
তখনও পর্যন্ত এতটা মারকাটারি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ছিল না তার। কিন্তু সেদিন তিনে নেমে ১২ চার ও ৭ ছক্কার ইনিংসে চমকে দিয়েছিলেন অনেককেই। এখনও পর্যন্ত সেটি তার ক্যারিয়ারের একমাত্র টি-টোয়েন্টি শতরান।
ওই আসরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও দলের বিপর্যয়ের মধ্যে ৪২ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন পাতিদার।
২০২৪ আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৩৪ রান।
গত আসরে বেঙ্গালুরুর নেতৃত্ব পান তিনি। প্রথমবার অধিনায়কত্ব করেই দলকে এনে দেন তিনি বহু কাঙ্ক্ষিত আইপিএল শিরোপা। সেই পথে প্রথম কোয়ালিফায়ারে ছোট্ট রান তাড়ায় শেষ দিকে নেমে অপরাজিত থাকেন তিনি ৬ বলে ১৫ রান করে। পরে ফাইনালে খেলেন ১৬ বলে ২৬ রানের ক্যামিও।
এবার তো তিনি আইপিএল ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটাচ্ছেন ব্যাট হাতে। প্রথমবার এক মৌসুমে রান করেছেন চারশর বেশি। শুধু রান সংখ্যাতেই নয়, মৌসুমের একদম প্রথম ম্যাচ থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিজের ব্যাটিংয়ের নতুন বিজ্ঞাপন মেলে ধরেছেন তিনি। সেটিরই সেরা রূপ দেখা গেল প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৩৩ বলে ৯৩ রানের ইনিংসে।
সব মিলিয়ে আইপিএলের প্লেঅফে ৬ ম্যাচ খেলে তার রান ৩৩৮। ব্যাটিং গড় ১১২.৬৬। স্ট্রাইক রেট ১৯৩.১৪।
যে কোনো মানদণ্ডেই আইপিএলের প্লেঅফে সেরা ব্যাটিং গড় এখন তারই। অন্তত ৭৫ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা স্ট্রাইক রেটও তারও।
ধারামসালায় মঙ্গলবার ১৩ ওভার শেষে পাতিদারের রান ছিল ১০ বলে ১৪। পরের ২৩ বলেই করেন ৭৯ রান! ওই সাত ওভারে তার দল তোলে ১২৬ রান।
দলকে জিতিয়ে ম্যাচ-সেরা হয়ে পাতিদার শোনালেন ব্যাটিংয়ের শুরুতে একটু সময় নেওয়ার কারণ।
“শুরুতে কয়েকটি বল একটু দেখেশুনে খেলি, উইকেটের আচরণ ও বলের ধরন বুঝতে ৮-১০ বল সময় নেই। এরপর আমার মাথা একদম পরিষ্কার হয়ে যে আমি কী করতে চাই, কীভাবে এগোতে চাই। উইকেট নিয়ে তখন আর কোনো ভাবনা থাকে না, সবসময় বোলারদের চাপে রাখতে চাই।”