০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আভিশেকের ঘাড়ে নি:শ্বাস ফেলছেন ইশান কিষান

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এখন শীর্ষ দুটি স্থানেই ভারতের দুজন।

আভিশেকের ঘাড়ে নি:শ্বাস ফেলছেন ইশান কিষান
বিশ্বকাপ জয়ের পর আভিশেক শার্মা (বাঁয়ে) ও ইশান কিষানের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Mar 2026, 04:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পর, আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়েও ভারতের ক্রিকেটারদের উন্নতি হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এখন শীর্ষ দুটি স্থানেই ভারতের দুজন; আভিশেক শার্মা ও তিলাক ভার্মা। 

২০ ওভারের ক্রিকেটের এবারের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গত রোববার; ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে ভারতের তৃতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর, বুধবার র‌্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আইসিসি।

বোলারদের মধ্যে শীর্ষে ফিরেছেন রাশিদ খান।

টুর্নামেন্ট জুড়ে অনেক ভোগান্তির পর, শিরোপা লড়াইয়ের দিনে ২১ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন আভিশেক শার্মা। তিনি অবশ্য আগে থেকেই এই সংস্করণের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছেন, এখন তার রেটিং পয়েন্ট ৮৭৫।

টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দল হিসেবে ভারতের টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে ব্যাট হাতে দারুণ অবদান রাখেন ইষান কিষান। ফাইনালে ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংসসহ আসরে মোট ৩১৭ রান করেন তিনি। এতে দুই ধাপ এগিয়ে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় দুইয়ে আছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। 

আভিশেকের সঙ্গে কিষানের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র ৪।

কিষানকে জায়গা ছেড়ে দিতে এক ধাপ করে নেমে গেছেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান ও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। 

সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়া পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন হতাশায় ভরা হলেও, দলটির ওপেনার ফারহানের ব্যক্তিগতভাবে আসর বেশ ভালো কাটে; দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিসহ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৬ ম্যাচে ৩৮৩ রান করেন তিনি। আর ইংল্যান্ডের সল্ট বিশ্বকাপে আট ম্যাচ খেলে একটি ম্যাচে ফিফটি করতে পারেন। সেমি-ফাইনালসহ শেষ তিন ম্যাচে দুই অঙ্কের ঘরেই যায়নি তার রান।

ফাইনালে ২৫৬ রানের পাহাড় টপকানোর লক্ষ্যে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। সেদিন কিউইদের হয়ে একমাত্র পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলতে পারেন টিম সা্ইফার্ট। ওপেনিংয়ে নেমে ২৬ বলে ৫২ রান করেন তিনি।

চার ধাপ এগিয়ে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আছে সাইফার্ট। 

আর ইংল্যান্ডের আট ম্যাচের সবগুলোই খেলে একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করেন জ্যাকব বেথেল। সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন তিনি সেমি-ফাইনালে, ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ২৫৩ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে। বেথেলের ৪৮ বলে ১০৫ রানের জবাবে ২৪৬ পর্যন্ত যেতে পারে ইংলিশরা। 

ওই ইনিংসের সৌজন্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৭ ধাপ এগিয়ে ১৬ নম্বরে আছেন বেথেল। 

ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন। টুর্নামেন্টের শুরুতে দলে ঠিকমতো জায়গা না পাওয়া এই ব্যাটসম্যান ভারতের শেষ তিন ‘নক্আউট ম্যাচেই’ ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে পরিণত হওয়া লড়াইয়ে অপরাজিত ৯৭ রানের পর, সেমি-ফাইনালে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন স্যামসন। এরপর, ফাইনালেও তিনি ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। 

চমৎকার এই পারফরম্যান্সে এক লাফে ১৮ ধাপ এগিয়েছে স্যামসন, আছেন ২২ নম্বরে। এছাড়া চাপ ধাপ এগিয়ে ২৭ নম্বরে আছেন শিভাম দুবে। 

র‌্যাঙ্কিংয়ের কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য উল্লেখযোগ্য কিছু অবনতিও হয়েছে।

যেমন বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন ভারনু চক্রবর্তি। জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ ১৪ উইকেট নিলেও, শেষ দিকে আশা পূরণ করতে পারেননি এই লেগ স্পিনার। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে একটি করে উইকেট পেলেও, রান বিলিয়েছেন অকাতরে।

বোলারদের তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে এখন দুইয়ে আছেন ভারুন। আর শীর্ষে উঠেছেন আফগান স্পিনার রাশিদ খান।

ফাইনালে মাত্র ১৫ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা জাসপ্রিত বুমরাহ এক ধাপ এগিয়ে আছেন ষষ্ঠ স্থানে। এছাড়া শিরোপা লড়াইয়ে তিন উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পেসার আকসার প্যাটেল ছয় ধাপ এগিয়ে আছেন ১৭ নম্বরে।

টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে আছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা। পরের সাতটি স্থানেও কোনো রদবদল নেই।