Published : 13 May 2025, 11:52 AM
সাচিন টেন্ডুলকার থেকে ভিরাট কোহলি, দায়িত্বের পালাবদল হয়েছে মসৃণ পথে। ভরসা, আস্থা আর নির্ভরতার জায়গায় আসেনি তেমন পরিবর্তন। কিন্তু এরপর? গত ৩৩ বছর ধরে যে পজিশন নিয়ে ভাবতে হয়নি ভারতীয় দলকে, কোহলির অবসরের পর সেটিই এখন তাদের সামনে বড় প্রশ্ন। টেস্টে চার নম্বরে ব্যাট করবেন কে?
টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুর দুই বছর ছয়-সাতে ব্যাট করার পর ১৯৯২ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে চার নম্বরে তুলে আনা হয় টেন্ডুলকারকে। সফরের প্রথম তিন টেস্টে ছয়-সাতেই ব্যাট করেন তিনি। তৃতীয় টেস্টে সিডনিতে ছয়ে নেমে ১৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটিং জিনিয়াস। পরের টেস্টে অ্যাডিলেইডের প্রথম ইনিংসে ছয়ে খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবার ব্যাট করেন চারে। সেই ইনিংসে ১৭ রানে আউট হয়ে যান। তবে পরের টেস্টেই পার্থের গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে চারে নেমে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ পেসারের বোলিং আক্রমণের সামনে ১১৪ রানের ইনিংস উপহার দেন ব্যাটিং মাস্টারক্লাস মেলে ধরে। চার নম্বর পজিশনও দ্রুত আপন করে নেন তিনি।
পরে কখনও নাইটওয়াচম্যানের কারণে, কখনও নানা পারিপার্শ্বিকতার কারণে ব্যাটিং পজিশন একটু এদিক-সেদিক হয়েছে বটে, তবে চার নম্বরের প্রতীক ছিলেন তিনিই। ১৭৯ টেস্টে এই পজিশনে ব্যাট করেন ভারতের ক্রিকেট ইশ্বর। তিনি যখন অবসরে গেলেন, কোহলি ততদিনে পুরোপুর তৈরি।
টেন্ডুলকারের সময়টায় মূলত পাঁচ নম্বরে ব্যাট করেছেন কোহলি। কখনও করেছেন তিনে আর ছয়ে। টেন্ডুলকারের বিদায়ের পর প্রথমবার চারে সুযোগ পেয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে জোহানেসবার্গ টেস্টে ১১৯ ও ৯৬ রানের ইনিংস খেলে কোহলি জানিয়ে দিলেন, ঝান্ডা বয়ে নিতে তিনি প্রস্তুত।

টেন্ডুলকারের বিদায়ের পর ভারতের ১১৫ টেস্টের ৯৮টিতেই কোহলি ছিলেন চার নম্বরের আস্থা হয়ে। মাত্র ৯ টেস্টে চারে ব্যাট করে কোহলির পরে আছেন আজিঙ্কা রাহানে।
সবশেষ যেবার পুরো সিরিজে কোহলি একদমই খেলতে পারেননি, গত বছর দেশের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই সিরিজে চার নম্বরে খেলাতে হয়েছে চারজনকে – লোকেশ রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার, রাজাত পাতিদার ও দেবদুত পাডিক্কাল।
ভারতের হয়ে ১০৩ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পুজারা, মূলত তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হলেও যিনি চারে খেলেছেন সাত টেস্টে, তিনি ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে বলেছেন, চার নম্বরে নতুন কাউকে খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লাগবে ভারতের।
“আমাদের অন্তত গোটা দুই সিরিজ লাগবে এটা বের করতে যে, চার নম্বরের জন্য উপযুক্ত কে। কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পজিশন। দলের সেরা ব্যাটারকে চার নম্বরে প্রয়োজন হয় এবং আমার মনে হয়, এবার এখনও পর্যন্ত যা অবস্থা, টিম ম্যানেজমেন্টকে খুঁজে বের করতে হবে এখানে সবচেয়ে ভালো মানিয়ে নিতে পারবে কে।”
দায়িত্ব আপাতত যে পাবেন, তার শুরুটা হবে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়েই। আগামী মাসেই ভাতের ইংল্যান্ড সফর। যেখানে বিরুদ্ধ কন্ডিশনে সামলাতে হবে সুইং বোলিংয়ের পরীক্ষা। পুজারার মতে, ওই সিরিজ থেকে ভালো একটি ধারণা মিলতে পারে।
“টেস্ট দলে এখন বেশ কজন ক্রিকেটার একাদশে জায়গার লড়াইয়ে আছে, এই পর্যায়ে কারও জায়গা পাকা নয়। এই প্রক্রিয়াটায় কিছুটা সময় লাগবে।”
“কোনো কিছু বলে দেওয়ার সময় এখনও হয়নি। তবে এটা গুরুত্বপূর্ণ হবে যে, ইংল্যান্ডে কে ভালো করছে। কারণ, ইংল্যান্ডে যে ভালো করবে, চার নম্বরের জন্য সে ভালো পছন্দ হতে পারে।”
রোহিত শার্মার অবসরের পর টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার বিবেচনায় এগিয়ে যিনি, সেই শুবমান গিল চার নম্বরে খেলতে পারেন কি না, এই প্রশ্ন করা হয় পুজারাকে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গিল ওপেন করে থাকেন, টেস্ট ক্রিকেটেও ওপেনার হিসেবে শুরু করেন ক্যারিয়ার। পরে তিনি নেমে যান তিন নম্বরে। ৩২ টেস্টের ক্যারিয়ারে এখনও তিন নম্বরের নিচে নামেননি ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
পুজারার মতে, টপ অর্ডারই গিলের উপযুক্ত জায়গা।
“শুবমান এমন একজন, নতুন বল খেলায় যার সামর্থ্য বেশি। তিন নম্বরে ব্যাট করার আগে সে ইনিংস ওপেন করেছে। বল যখন কিছুটা নতুন ও শক্ত, তখন ব্যাট করতে পছন্দ করে সে। পুরোনো বলে সে সামলে নিতে পারবে? এই পর্যায়ে এটা বড় প্রশ্ন।”
“যেহেতু সে নতুন বলে ভালো ব্যাট করেছে, আমি বলব, এখনও তার শীর্ষ তিনের মধ্যেই ব্যাট করা উচিত। এটাই তার আদর্শ জায়গা, তার সঙ্গে মানিয়ে যায়। ইংল্যান্ডে যদি সে চারে ব্যাট করে এবং ভালো করে, তাহলে হ্যাঁ, সে ভারতীয় দলের চার নম্বরের ব্যাটসম্যান হতে পারে।”