দক্ষিণ আফ্রিকায় আবারও বোলিংয়ে বিবর্ণ বাংলাদেশ ‘এ’ দল
বাংলাদেশকে দিনভর হতাশায় ডুবিয়ে সেঞ্চুরি করেছেন সেনেকওয়ান ও কেশিলে।
আগের ম্যাচের মতো এবারও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে প্রথম দিনে সাবলীল ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড় গড়ার পথে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল।
সারাদিনে প্রতিপক্ষকে তেমন একটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি দলে আসা পেসার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুশফিক হাসান ও রেজাউর রহমান রাজা। দুই স্পিনার হাসান মুরাদ ও নাঈম হাসান টানা বোলিং করেন, কিন্তু তারাও পারেনি চাপ তৈরি করতে।
তাদেরকে অনায়াসে সামলে ওপেনার লেসগো সেনেকওয়ানের পর, প্রথম ম্যাচের দারুণ ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় সিনেথেম্বা কেশিলেও তিন অঙ্কের ছোঁয়া পেয়েছেন।
প্রথম চার দিনের ম্যাচে কেশিলের অপরাজিত ২০০ আর অধিনায়ক মার্কেস অ্যাকারম্যানের ২৫৬ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ৬৪৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ইনিংস ব্যাটিং করেও তাদের দলীয় সংগ্রহ টপকানো দূরে থাক, অ্যাকারম্যানের ইনিংসের সমান রানও করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
পচেফস্ট্রুমে রোববার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ৩৭২ রান তুলেছে স্বাগতিক দল।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ১১১ রানে আউট হন সেনেকওয়ান। আর প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক ছুঁয়ে ১১১ রানে অপরাজিত আছেন কেশিলে।
টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছয় জন ক্রিকেটার আছে বাংলাদশের একাদশে। আগের ম্যাচে ছিলেন সাত জন। এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে সেই সংখ্যাটা পাঁচ থেকে কমে তিন হয়েছে।
দিনের শুরুটা অবশ্য বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল বাংলাদেশের। চতুর্থ ওভারে প্রথম আঘাত হানে তারা। মুশফিকের বেরিয়ে যাওয়া বল ওপেনার শেপাং দিথোলের ব্যাট ছুঁয়ে জমা হয় উইকেটরক্ষক জাকের আলির গ্লাভসে।
এই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে দেড়শ রান যোগ করেন জুবাইর হামজা ও সেনেকওয়ানে।
রেজাউরের বলে নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ৬৮ রান করা হামজা, ভাঙে ১৫১ রানের জুটি। তার ১০৪ বলের ইনিংস গড়া ১০টি চার ও একটি ছক্কায়। টানা দুই ম্যাচে ফিফটির দেখা পেলেন তিনি।
তার বিদায়ের পর থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক অ্যাকারম্যান। কিছুক্ষণ পর থামে সেনেকওয়ানের ইনিংসও। নাঈম হাসানের বলে তিনি এলবিডাব্লিউ হয়ে যান। ১৬৯ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার।
১৯০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর, দারুণ ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে ভোগান কেশিলে ও গাভিন কাপলান। পঞ্চম উইকেটে দুজনে অবিচ্ছিন ১৮২ রান যোগ করেছেন। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৭২ রানে অপরাজিত আছেন কাপলান।
বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন মুশফিক, রেজাউর, নাঈম হাসান ও মুরাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল: ৮৯ ওভারে ৩৭২/৪ (সেনেকওয়ানে ১১১, দিথোল ৪, হামজা ৬৮, অ্যাকারম্যান ৪, কেশিলে ১১১*, কাপলান ৭২*; সাইফ উদ্দিন ১০-১-৫০-০, মুশফিক ১২-১-৪৭-১, রেজাউর ১৪-০-৬৯-০, মুরাদ ৩২-২-১১৪-১, নাঈম হাসান ২১-১-৯২-১)
