Published : 05 Sep 2025, 01:46 AM
দ্বাদশ ওভারে ৮০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে বিস্ফোরক রেকর্ড জুটিতে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন ফাখার জামান ও মোহাম্মদ নাওয়াজ। পরে দুর্দান্ত বোলিং করলেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অনায়াসে হারিয়ে ফাইনালে উঠল সালমান আলি আগার দল।
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ৩১ রানে।
পাকিস্তানের জয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত হলো আফগানিস্তানেরও। টানা তিন হারে আমিরাতের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ১৭১ রানের জবাবে ১৪০ রানের বেশি করতে পারেনি আমিরাত।
একপর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের রান হবে দেড়শর পাশেপাশে। ১৮ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ১২৯। সেখান থেকে শেষ দুই ওভারে তারা তোলে ৪২ রান, শেষ ১০ বলে ৮টি চারের সঙ্গে ছক্কা মারে একটি।
সিরিজে প্রথম তিন ম্যাচে অল্পে আটকে যাওয়া ফাখার এবার ১০ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন ৪৪ বলে অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংস। সাত নম্বরে নেমে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। জীবন পান অবশ্য দুজনই।
এই দুজন অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটি গড়েন ৫১ বলে। টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ উইকেটে বা এর নিচে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ জুটি এটিই। পেছনে পড়ে গেছে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে ইফতিখার আহমেদ ও শাদাব খানের ৮২ রানের জুটি।
‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ যদিও ফাখার ও নাওয়াজের কেউ নন। সিরিজে প্রথমবার খেলতে নেমে চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে এই স্বীকৃতি পান আবরার।
২৬ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এটি। গত মে মাসে লাহোরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯ রানে ৩ উইকেট ছিল তার আগের সেরা।
আমিরাতের ওপেনার আলিশান শারাফুর ৫১ বলে ৬৮ ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করার মতো কিছু করতে পারেননি।
রান তাড়ায় আমিরাতের শুরুটা খারাপ ছিল না। পাওয়ার প্লেতে তারা বিনা উইকেটে করে ৪১ রান।
সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে (১৯ বলে ১৯) ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন আবরার। পরের চার ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
আবরার একই ওভারে বিদায় করেন বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান আসিফ খান ও রাহুল চোপড়াকে। নিজের কোটার শেষ ওভারে হার্শিত কাউশিককে আউট করে চতুর্থ শিকার ধরেন তিনি।
একপ্রান্ত ধরে রেখে ৩৮ বলে ফিফটি করেন শারাফু। পরে তাকে থামান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ধ্রুব পারাশারের ১৫ বলে ১৮ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে আমিরাত।
আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারা পাকিস্তান এ দিন আগে ব্যাটিং নিয়েছিল টস জিতে। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি শাহিবজাদা ফারহান (১১ বলে ১৬)। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও থামেন অল্প রানে।
মোহাম্মদ হারিস ১৪ রান করতে বল খেলেন ১৭টি। অধিনায়ক সালমান ও হাসান নাওয়াজ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। একশর আগে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছিল পাকিস্তান।
সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করে ফাখার ও নাওয়াজের জুটি। আমিরাতের ফিল্ডিংয়ের দায়ও ছিল এতে। দারুণ বোলিং করা হায়দার আলির শেষ ও ইনিংসের ষোড়শ ওভারে পরপর দুই বলে এই দুই ব্যাটসম্যানের ক্যাচ ফেলে দেয় ফিল্ডাররা।
ফাখার ৩৮ ও নাওয়াজ ১৩ রানে জীবন পান। সুযোগটা তারা কাজে লাগান দারুণভাবে। ১৯তম ওভারে জুনাইদ সিদ্দিকের শেষ চার বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান নাওয়াজ। শেষ ওভারে মুহাম্মাদ জাওয়াদউল্লাহর শেষ পাঁচ বলে পাঁচটি চার মারেন ফাখার।
তাদের শেষের তাণ্ডবে যে উচ্চতায় পৌঁছে যায় পাকিস্তানের স্কোর, তার ধারেকাছেও যেতে পারল না আমিরাত।
দল হারলেও দারুণ এক কীর্তি গড়েন জুনাইদ। এ দিন একটি শিকার ধরে আমিরাতের প্রথম বোলার হিসেবে এই সংস্করণে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩২ বছর বয়সী পেসার। ৭২ উইকেট নিয়ে তার পরে আছেন জাহুর খান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭১/৫ (সাহিবজাদা ১৬, সাইম ১১, ফাখার ৭৭*, সালমান ৭, হারিস ১৪, হাসান নাওয়াজ ৪, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৩৭*; জুনাইদ ৪-০-৫২-১, রোহিদ ৪-০-২১-১, ধ্রুব ৪-০-৩৫-১, জাওয়াদউল্লাহ ৩-০-৩৮-০, হায়দার ৪-০-১৭-২, ডি’সুজা ১-০-৫-০)
আরব আমিরাত: ২০ ওভারে ১৪০/৭ (শারাফু ৬৮, ওয়াসিম ১৯, ডি’সুজা ৯, আসিফ ৭, রাহুল ০, হার্শিত ৩, ধ্রুব ১৮*, হায়দার ১২, জুনাইদ ০*; আফ্রিদি ৪-০-২৩-১, সালমান ৪-০-৩১-০, আবরার ৪-০-৯-৪, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৩-০-৩০-১, সালমান ১-০-৫-০, সাইম ৩-০-২৯-০, ফাহিম ১-০-১১-০)
ফল: পাকিস্তান ৩১ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আবরার আহমেদ