Published : 04 Jan 2026, 11:03 PM
ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘রিটায়ার্ড আউট’ গত কয়েক বছরে বেশ নিয়মিত চিত্র। তবে এবার যেটা হলো, তেমন কিছু দেখা যায়নি আগে কখনও। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে রিটায়ার্ড আউটের ঘটনা ঘটল দুটি।
বিরল এই দৃশ্যের দেখা মিলেছে নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্প্যাশে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ওটাগোর ম্যাচে। মাউন্ট মঙ্গানুইতে রোববার ম্যাচের শেষটাও হয়েছে নাটকীয়ভাবে। শেষ ওভারে ১৮ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেছে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস।
২০ ওভারে ওটাগো করে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান। নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসও ৬ উইকেটে করে ১৬৬।
বে ওভালে রান তাড়ায় ১৬ ওভারে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ৩ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১০৯ রান। তখন জয়ের জন্য ২৪ বলে প্রয়োজন ৫৮ রান।
মন্থর ব্যাটিং করা জিত রাভালকে (২৮ বলে ২৩) তুলে নেওয়া হয় তখন। চোটাঘাত ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যান স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে গেলে বা তুলে নিলে ক্রিকেটের পরিভাষায় সেটিকে বলা হয় ‘রিটায়ার্ড আউট।’ রাভালের জায়গায় নামেন অধিনায়ক বেন পোমার, যিনি প্রথম বলেই মারেন ছক্কা, চতুর্থ বলে চার।
পরের ওভারে আরেক ব্যাটসম্যান জেভিয়ার বেলকে (১৩ বলে ৯) তুলে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামানো হয় স্কট কুগেলাইনকে। তিনিও ছক্কা মারেন প্রথম বলে।
১০ বলে ২০ রান করে ১৯তম ওভারে আউট হয়ে যান পোমার।
শেষ ওভারে দরকার পড়ে ১৯ রান। শুরুতেই ‘বিমার’ মেরে বসেন পেসার ড্যানরু ফার্নস, ‘নো’ বল। ওই বলে টিম প্রিঙ্গল সিঙ্গল নিয়ে স্ট্রাইক দেন কুগেলাইনকে। তিনি বৈধ প্রথম বলে মারেন চার। পরের বলে নেন দুই রান। তৃতীয় বলে রান আসেনি। পরের দুই বলে দুটি চার মারেন কুগেলাইন। শেষ বলে তাদের দরকার ছিল ৩। ইয়র্কার ডেলিভারিতে কুগেলাইন নিতে পারেন ২ রান, ম্যাচ টাই।
এই টুর্নামেন্টে নকআউট পর্ব ছাড়া অন্য কোনো ম্যাচ টাই হলে সুপার ওভার হয় না।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণেই খেলা ৩৪ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার কুগেলাইন ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১২ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ ওভারের নাটকীয়তায় টাই যেমন, তেমনি এক ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যানের রিটায়ার্ড আউটের ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ভাইটালিটি ব্লাস্টে এক ম্যাচে দুই ব্যাটসম্যান রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন, তবে সেটা একই ইনিংসে ছিল না। আট ওভারের লড়াইয়ে বার্মিংহ্যাম বিয়ার্সের কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও নটিংহ্যামশায়ারের সামিত প্যাটেলের এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল।
রাভাল ও বেলকে দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রিটায়ার্ড আউটের নজির হলো ৬৭টি। এখন এটি নিয়মিত হলেও কয়েক বছর আগেও এমন ছিল না। ২০২২ সালের আগ পর্যন্ত ছিল যেমন মাত্র ৩টি। সেখানে শুধু গত বছরই হয় ২৯টি। এই বছরের প্রথম চার দিনে হলো ৩টি। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে এই অভিজ্ঞতা হয় নিক ম্যাডিনসনের।