সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর ঝলকে তামিমদের বড় জয়

টানা আট ম্যাচ হেরে বিপিএলে বিব্রতকর রেকর্ড গড়ল দুর্দান্ত ঢাকা। 

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 04:28 PM
Updated : 10 Feb 2024, 04:28 PM

শুরুর ধাক্কা সামলে চমৎকার জুটি গড়লেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ। দুজনই খেললেন সত্তর ছোঁয়া ইনিংস। ফরচুন বরিশাল পেল বড় সংগ্রহ। বিপরীতে কোনো জবাব দিতে পারল না দুর্দান্ত ঢাকা। অনায়াস জয়ে মাঠ ছাড়ল তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দল।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ৪০ রানে জিতেছে বরিশাল। ১৯০ রানের লক্ষ্যে দুই বল বাকি থাকতে ১৪৯ রানে গুটিয়ে গেছে ঢাকা। 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করা ঢাকা এ নিয়ে হারল টানা ৮ ম্যাচ। বিপিএল ইতিহাসে টানা হারের রেকর্ড এটি। এত দিন এই বিব্রতকর কীর্তি ছিল সিলেট রয়্যালসের। ২০১২ সালে প্রথম আসরে শুরুর সাত ম্যাচ হেরেছিল তারা। 

আট ম্যাচে বরিশালের চতুর্থ জয় এটি। চট্টগ্রামে যাওয়ার আগে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে উঠেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দল। 

বরিশালের জয়ের বড় কারিগর সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৩৯ রান। বিপিএল ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে এর চেয়ে বড় জুটি আছে স্রেফ দুটি। 

চার নম্বরে নেমে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন সৌম্য। ৪৮ বলের ইনিংসে ৪ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মারেন বাঁহাতি ড্যাশিং ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ক্যারিয়ারসেরা ৪৭ বলে ৭৩ রানের ইনিংস।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশালের শুরুটা ভালো হয়নি। তিন ওভারের মধ্যে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তামিম, আহমেদ শেহজাদ ও মুশফিকুর রহিম। স্কোরবোর্ডে তখন ২০ রানও জমা হয়নি।

দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন তামিম। পরের ওভারে জোড়া আঘাত করেন তাসকিন আহমেদ। পুল খেলার চেষ্টায় ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে ক্যাচ দেন শেহজাদ। পরে গুড লেংথ ডেলিভারি খেলব না ছাড়ব ভাবতে ভাবতে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বোল্ড হন মুশফিক। 

এমন বাজে শুরুর পর হাল ধরেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। চতুর্থ ওভারে শরিফুলের বলে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মারেন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে মারেন বাউন্ডারি। পরে তাসকিনের বলে দুটি চার মারেন সৌম্য। দ্বিতীয়টিতে অবশ্য ক্যাচের মতো উঠে যায়। ফলো থ্রু-তে তা হাতে জমাতে পারেননি তাসকিন।

এরপর ধীরেসুস্থে ইনিংস এগিয়ে নেন দুই ব্যাটসম্যান। আরাফাত সানির বলে স্লগ সুইপে নিজের প্রথম ছক্কা মারেন সৌম্য। পরের ওভারে চাতুরাঙ্গা ডি সিলভার বলে মারা ছক্কায় পূর্ণ হয় জুটির পঞ্চাশ রান। 

ত্রয়োদশ ওভারে অনিয়মিত বোলার সাব্বির হোসেনের ওপর ঝড় বইয়ে দেন সৌম্য। দুটি ছক্কার সঙ্গে একটি চার মারেন তিনি। শেষ বলে এক রান নিয়ে ৩২ বলে পূর্ণ করেন নিজের পঞ্চাশ। 

এক ওভার পর তাসকিনের ইয়র্কার ধরনের ডেলিভারি ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে পাওয়া চারে ফিফটি স্পর্শ করেন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে লং অফ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কা মারেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

শরিফুলকেও ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আরেকটি ছক্কা মারেন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলে আবারও বড় শটের চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন তিনি। রিভিউ নিয়ে আউট নিশ্চিত করে ঢাকা। সমাপ্তি ঘটে মাহমুদউল্লাহর ৭ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংসের।

পরের ওভারে লাহিরু সামারাকুনের বলে দুই চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন শোয়েব মালিক। এর সৌজন্য জাগে দুইশ ছোঁয়ার সম্ভাবনা। তবে শেষ দুই ওভারে আসেনি প্রত্যাশামাফিক রান। অবশ্য স্কোরবোর্ডে জমা পড়া ১৮৯ রানও পরে ঢাকার জন্য ঢের প্রমাণিত হয়। 

রান তাড়ায় একবারের জন্যও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ঢাকা। দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন সাব্বির। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের ম্যাচে ফিফটি করা মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান। 

বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ওবেড ম্যাকয়ের স্লোয়ারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনের তামিমের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম। সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের প্রথম বলে শর্ট লেংথ ডেলিভারি পুল করার চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন সাইফ।

চতুর্থ উইকেট এসএম মেহেরব হাসান ও অ্যালেক্স রস ৩৯ রানের জুটি গড়েন। তবে রানের গতি বাড়াতে পারেননি তারা। ২৮ রান করতে ২৯ বল খেলেন মেহেরব। ৩ চারের সঙ্গে মারেন ১টি ছক্কাও। 

এরপর চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা, গাজী তাহজিবুল ইসলাম, লাহিরু সামারাকুনরা দ্রুত ফিরলে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বরিশালের জয়। তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি করেন রস। তার ৩ ছক্কা ও ৫ চারে ৩০ বলে ৫২ রানের ইনিংস শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়। 

বরিশালের পক্ষে ৪ ওভারে স্রেফ ২১ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন। ম্যাকয়ের শিকার ১৯ রানে ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ফরচুন বরিশাল: ২০ ওভারে ১৮৯/৪ (শেহজাদ ১০, তামিম ৪, সৌম্য ৭৫*, মুশফিক ১, মাহমুদউল্লাহ ৭৩, মালিক ১৯*; মেহেরব ১-০-৭-০, শরিফুল ৪-০-৩৬-২, তাসকিন ৪-০-৩৫-২, সামারাকুন ৪-০-৪৪-০, চাতুরাঙ্গা ৪-০-২৮-০, আরাফাত ১-০-১৪-০, সাব্বির ২-০-২৩-০)

দুর্দান্ত ঢাকা: ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ (সাব্বির ৫, নাঈম ১০, সাইফ ১২, রস ৫২, মেহেরব ২৮, চাতুরাঙ্গা ৪, তাহজিবুল ৭, সামারাকুন ০, তাসকিন ১২, শরিফুল ৭, আরাফাত ১*; মিরাজ ২.৪-০-১৭-২, আকিফ ৪-০-৪৭-১, ম্যাকয় ৪-০-১৯-২, তাইজুল ২-০-২২-০, সাইফউদ্দিন ৪-০-২১-৩, সৌম্য ৩-১-২১-০)

ফল: ফরচুন বরিশাল ৪০ রানে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: সৌম্য সরকার