Published : 07 Aug 2026, 07:13 PM
ভোটিংয়ে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। প্রথম তিন জনের মধ্যে ব্যবধান কেবল তিন ভোটের, প্রথম দুই জনের মধ্যে এক ভোটের। এই লড়াইয়ে অ্যালেক্স কেয়ারি ও মিচেল স্টার্ককে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার ‘অ্যালান বোর্ডার মেডেল’ জিতেছেন ট্রাভিস হেড।
৩২ বছর বয়সী হেড টানা দুইবার পেলেন এই স্বীকৃতি। একাধিকবার পুরস্কারটি জয়ী ষষ্ঠ ক্রিকেটার তিনি। তার আগে এই নজির গড়েন রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথ (চার বার করে), ডেভিড ওয়ার্নার (তিন বার) ও শেন ওয়াটসন (দুই বার)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে ব্রিজবেনে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক বোর্ডার নিজেই মেডেল প্রদান করেন হেডকে।
‘শেন ওয়ার্ন টেস্ট প্লেয়ার অব দা ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন পেসার মিচেল স্টার্ক। প্রয়াত স্পিন কিংবদন্তির বাবা কিথের কাছ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তিনি।
এছাড়া বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার হয়েছেন মিচেল মার্শ, বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পেয়েছেন টিম ডেভিড।
হেড বর্ষসেরা হয়েছেন ১৫৩ ভোট পেয়ে, ১৫২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় কেয়ারি, তৃতীয় হওয়া স্টার্ক পেয়েছেন ১৫০ ভোট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সূচির সংঘাতের কারণে ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) সকল খেলোয়াড়কে একত্রিত করার জন্য কোনো তারিখ খুঁজে পায়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে সিডনিতে দেওয়া হয় মেয়েদের পুরস্কার। যেখানে টানা দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কার ‘বেলিন্ডা ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড’ জেতেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।
গত বছর হেডকে ‘অ্যালান বোর্ডার মেডেল’ দেওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কার একটি হোটেলে। অস্ট্রেলিয়া দল তখন শ্রীলঙ্কা সফরে ছিল। এবার স্বয়ং বোর্ডারের কাছ থেকে মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান।
“এবিকে (অ্যালান বোর্ডার) এই কক্ষে পেয়ে নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান ও সম্মানিত বোধ করছি আমি; (গত বছর শ্রীলঙ্কায় হওয়া অনুষ্ঠান থেকে) এটাই পার্থক্য যে, তিনি এটি প্রদান করার জন্য এখানে উপস্থিত।
ভাবতে বেশ ভালো লাগছে যে, আমি দুটি মেডেল পেয়েছি। ২০ বছর পর আমার সন্তানেরা সেগুলো দেখতে পারবে আর আমি তাদের (এ সম্পর্কে) বলতে পারব।”
ভোটিংয়ের জন্য বিবেচিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ভোটিংয়ে টেস্টের গুরুত্ব ওয়ানডের দ্বিগুণ ও টি-টোয়েন্টির তিন গুণ। প্রতিটি ম্যাচে ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও গণমাধ্যমকর্মীরা ৩-২-১ পদ্ধতিতে ভোট দেন।
ঘরের মাঠে গত অ্যাশেজ সিরিজে তিনটি শতকসহ ৬২৯ রান করেন হেড। স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৭.৩৬। পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টে রান তাড়ায় চোটাক্রান্ত উসমান খাওয়াজার পরিবর্তে ওপেনিংয়ে নেমে ৮৩ বলে ১২৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর অ্যাডিলেইডে ১৭০ ও সিডনিতে খেলেন ১৬৩ রানের ইনিংস।
বিবেচিত সময়ে সব মিলিয়ে ১১ টেস্টে হেড করেন ৯৭১ রান, যা পরবর্তী সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কেয়ারির চেয়ে প্রায় ২০০ রান বেশি। উইকেটের সামনে ও পেছনে কেয়ারির ধারাবাহিক ভূমিকা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে সামগ্রিক ভোটিংয়ে হেডের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে থেকে শেষ করার মাধ্যমে। এই সময়ে কিপার-ব্যাটসম্যান কেয়ারি দুটি টেস্ট সেঞ্চুরি করেন- গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫৬ ও অ্যাডিলেইডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬।
ম্যাকাইতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে হেডের ১৪২ রানের ইনিংসটিই হয়তো পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
টেস্টের সেরা স্টার্ক ভোটিং পর্বে ১৭.৮০ গড়ে ৫২ উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে অ্যাশেজ সিরিজে ১৯.৯৩ গড়ে তার উইকেট ছিল ৩১টি। জশ হেইজেলউড পুরো সিরিজে না থাকায় ও প্যাট কামিন্স একটির বেশি ম্যাচ খেলতে না পারায় অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অ্যাশেজে সিরিজ সেরাও হন বাঁহাতি এই পেসার।
গত বছর জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ৯ রানে ৬ উইকেটের বোলিং ফিগারও উল্লেখযোগ্য, যেখানে ১০০তম টেস্টে ৪০০তম উইকেট শিকার করেন তিনি।
ওয়ানডের সেরা হওয়ার পথে মার্শ ছয় ম্যাচে ৬০.৮০ গড়ে করেন ৩০৪ রান। ১৯৭.৫০ স্ট্রাইক রেট ও ৪৯.৩৭ গড়ে ৩৯৫ রান করেন টি-টোয়েন্টির সেরা ডেভিড।