Published : 17 Dec 2025, 01:55 PM
টিভি পর্দায় চোখ রেখে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ দেখে চমকে ওঠার কথা অনেকেরই। আগের দিন যাকে বাদ দিয়ে দল ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই উসমান খাওয়াজার নাম জ্বলজ্বল করছে একাদশে! ক্যারিয়ার শেষের শঙ্কায় থাকা ব্যাটসম্যান হঠাৎ পাওয়া সুযোগে খেললেন দারুণ এক ইনিংস। দলের বিপর্যয়ে নেমে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন অ্যালেক্স কেয়ারি। জফ্রা আর্চারের ছোবল সামলে অস্ট্রেলিয়াকে তিনশ পার করালেন দুজন।
অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট-বলের লড়াই জমে উঠল দারুণ। অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করল ৮ উইকেটে ৩২৬ রান নিয়ে।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১০৬ রান করে আউট হন কেয়ারি। মা, স্ত্রী, সন্তানদের সামনে ঘরের মাঠের সেঞ্চুরিটিকে এই কিপার-ব্যাটসম্যান বলছেন ‘স্পেশাল ইনিংস।’
শেষ সময়ে একাদশে ঢুকে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন খাওয়াজা। তার নিভতে থাকা ক্যারিয়ারে নতুন আশার আলো এই ইনিংস।
খাওয়াজার সুযোগ পাওয়া দিয়েই নাটকীয়ভাবে শুরু হয় টেস্ট। ‘মাথা ঘোরা’ ও ‘বমি বমি ভাব’ নিয়ে শারীরিক ভারসাম্যহীনতার সমস্যায় ম্যাচের বাইরে ছিটকে পড়েন স্টিভেন স্মিথ। সকালে নেটে ব্যাটিং করার পর নিজের অবস্থা বুঝে কোচের সঙ্গে কথা বলে তিনি চলে যান মাঠ ছেড়ে। তার জায়গাতেই সুযোগ পেয়ে চার নম্বরে ব্যাট করেন খাওয়াজা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুটা সাবলিল করলেও দুই ওপেনারের কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জফ্রা আর্চারের বাউন্সারে জেইক ওয়েদেরল্ড ফেরেন ১৮ রানে। পরের ওভারে ব্রাইডন কার্সের বলে পয়েন্টে জ্যাক ক্রলির অসাধারণ ক্যাচে ট্রাভিস হেড ফেরেন ১০ রানে।
তৃতীয় উইকেটে মার্নাস লাবুশেন ও উসমান খাওয়াজা গড়েন ৬১ রানের জুটি। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন আর্চার। তিন বলের মধ্যে ফিরিয়ে দেন তিনি লাবুশেন ও ক্যামেরন গ্রিনকে।
সেখান থেকেই খাওয়াজা ও কেয়ারির জুটি। দারুণ ফর্মে থাকা কেয়ারি শুরু করেন তার মতো করেই। খাওয়াজার ফর্ম সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছিল না মোটেও। বড় ইনিংস খেলতে পারছিলেন না, তার চেয়েও বড় কথা, ভালো ব্যাটিংই করতে পারছিলেন না। ম্যাচের পর ম্যাচ ধুঁকছিলেন। আচমকা পাওয়া এই সুযোগে অনেক দিন পর তাকে দেখা গেল আগের সেই ছন্দে। দুজন মিলে চাপ কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নেন বেশ গতিময়তায়।
চার নম্বরে আগে দুবারই মাত্র ব্যাট করেছেন খাওয়াজা। একবার ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, আরেকবার এই সিরিজের প্রথম টেস্টে, পরিস্থিতির কারণে। প্রথমবার ফিরেছিলেন ০ রানে, পরেরবার ২ রানে। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই পজিশনে ১০টি সেঞ্চুরি আছে তার, ব্যাটিং গড় ৫৩.১৫। এবার টেস্টেও দেখালেন সেই দক্ষতা।
একটা সময় মনে হচ্ছিল, সেঞ্চুরি করে দারুণ এক অধ্যায়ের জন্ম দেবেন খাওয়াজা। কিন্তু উইল জ্যাকসের অফ স্পিনে স্লগ সুইপ করে তার ইনিংস শেষ হয় ১২৬ বলে ৮২ রান করে। জুটি থামে ৯১ রানে।
এরপর জশ ইংলিসের সঙ্গে আরেকটি অর্ধশত রানের জুটি গড়ে তোলেন কেয়ারি। দারুণ শুরু করেও ইংলিস থমকে যান ৩২ রানে। কেয়ারিকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি দলে ফেরা অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।
তবে কেয়ারি ছিলেন লক্ষ্যে অবিচল। শতরান পূরণ করে ফেলেন তিনি ১৩৫ বলে।
তার ইনিংসও শেষ হয় খাওয়াজার মতো জ্যাকসকে স্লগ সুুইপ খেলে।
আগের টেস্টে ব্যাটে-বলে ইংল্যান্ডকে ভোগানো মিচেল স্টার্ক আবার কার্যকর ইনিংস খেলে দিনশেষে অপরাজিত ৩৩ রানে। ন্যাথান লায়ন ১৮ বল খেলে রান করতে পারেননি। তবে টিকে আছেন ক্রিজে।
ইংল্যান্ডের আর্চার আগুনে বোলিং করলেও অন্যরা ততটা সঙ্গ দিতে পারেননি তাকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৮৩ ওভারে ৩২৬/৮ (হেড ১০, ওয়েদেরল্ড ১৮, লাবুশেন ১৯, খাওয়াজা ৮২, গ্রিন ০, কেয়ারি ১০৬, ইংলিস ৩২, কামিন্স ১৩, স্টার্ক ৩৩*, লায়ন ০*; আর্চার ১৬-৫-২৯-৩, কার্স ১৩-০-৭০-২, টং ১৫-১-৬৩-১, স্টোকস ১৯-৩-৫৩-০, জ্যাকস ২০-৩-১০৫-২)।