Published : 25 May 2026, 12:49 PM
ক্যারিয়ারে গৌরবের কত রেকর্ডই তো গড়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। কত অর্জনে সমৃদ্ধ করেছেন নিজেকে। তার সামনে খাবি খেয়েছেন দুনিয়ার তাবত ব্যাটসম্যান। সেই তারই এবার উল্টো অভিজ্ঞতা হলো আইপিএলে। আসজুড়ে এতটাই বিবর্ণ ছিলেন তিনি, শেষ পর্যন্ত একটি রেকর্ডে নাম লেখা হয়ে গেল তার, যে রেকর্ড চায় না কোনো বোলারই।
এবার আইপিএলে ১৩ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। বল করেছেন ২৯৪টি, রান দিয়েছেন ৪১০। তার বোলিং গড় এবার ১০২.৫০। এই বোলিং গড়ই তাকে এনে দিয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত এক প্রথম।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একটি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে অন্তত ২৫০ বল করা বোলারদের মধ্যে বোলিং গড়ের সেঞ্চুরি করা প্রথম বোলার বুমরাহ।
তার আগে রেকর্ডটি ছিল ভারতেরই এক বোলারের এবং সেটিও আইপিএলে। ২০১৪ আসরে ২৭৬ বল করে ৩৮০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন প্রজ্ঞান ওঝা। এই বাঁহাতি স্পিনারের বোলিং গড় ছিল ৯৫।
তালিকায় এর পরের নামটি যার, তিনি এমন বাজে বোলিং করেছিলেন বিপিএলে। ২০২২ বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বেনি হাওয়েলের গড় ছিল ৮৬.২৫। সেবার ২৬২ বল করেছিলেন ইংলিস এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ৩৪৫ রান দিয়ে তার উইকেট ছিল ৪টি।
বুমরাহর যে এমন অবস্থা হতে পারে, এবারের আইপিএলের আগে তা ছিল অভাবনীয়। আইপিএলের আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ে তার ছিল বড় অবদান। ফাইনালে তিনিই ছিলেন ম্যান অব দা ম্যাচ, টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার মতো ছিল তার পারফরম্যান্স।
কিন্তু আইপিএলের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অচেনা। প্রথম কয়েক ম্যাচের পর আস্তে আস্তে তা সবার নজরে পড়তে শুরু করে। প্রথম পাঁচ ম্যাচেই তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য, যা তার আইপিএল ক্যারিয়ারে আগে কখনও হয়নি।
ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা পান। পরের ম্যাচেই আবার উইকেটশূন্য থাকেন ৪ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে। এর পরের ম্যাচে একটি উইকেট নিয়ে আবার টানা তিন ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। পরের ম্যাচে আবার একটি উইকেট নিতে পারেন। মুম্বাইয়ের শেষ ম্যাচে রোববার তাকে দেখা যায়নি একাদশে।
এতটা বাজে আইপিএল তার কাটেনি আগে কখনোই। এবারের চারটির চেয়ে কম উইকেট অবশ্য তিনি পেয়েছেন। ২০১৩ ও ২০১৫ আসরে তিনটি করে উইকেট ছিল তার। তবে ম্যাচ খেলেছিলের মোটে দুটি ও চারটি।
পুরো মৌসুম খেলে এবারের আগে তার সবচেয়ে বাজে মৌসুম ছিল ২০১৪ আসরে। সেবার ১১ ম্যৌাচ খেলে উইকেট নিয়েছিলেন পাঁচটি। তার পরও সেবার ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন ৭.৫৮, বোলিং গড় ছিল ৬০.২০। এবার ওভারপ্রতি রান গুনেছেন ৮.৩৬, বোলিং গড় তো সেঞ্চুরিই ছাড়িয়েছে।
তার বাজে পারফরম্যান্সের মৌসুমে ধুঁকেছে তার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সও। ১০ দলের মধ্যে নবম হয়ে আসর শেষ করেছে তারা।
একটি কারণ অবশ্য দুদিন আগে বলেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচ মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে। মৌসুমজুড়েই এই পেসার হালকা চোট নিয়ে খেলেছেন বলে জানান কোচ।