১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তান ক্রিকেটের দুর্দশায় আকিবকে দায়ী করলেন আজহার

অন্যের ওপর দায় না চাপিয়ে আকিবকে নিজের দিকে তাকাতে বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক।

পাকিস্তান ক্রিকেটের দুর্দশায় আকিবকে দায়ী করলেন আজহার
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আজহার আলি। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 10:16 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

মাঠ ও মাঠের বাইরে যে অস্থির সময় পার করছে পাকিস্তান ক্রিকেট, তার জন্য হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদের তীব্র সমালোচনা করেছেন আজহার আলি। দায়িত্ব নিতে না পারলে সাবেক এই পেসারকে সরে দাঁড়াতে বলেছেন তিনি।

ইংল্যান্ডে পরপর দুই টেস্টে হারের পর দলে ব্যাপক রদবদল আনে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টের আগে সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে দেয় তারা। সঙ্গে অব্যাহতি দেয় প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে।

পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। মাঠের ভেতরে ও বাইরে দলটির এমন দুর্দশার জন্য সরাসরি আকিবকে দায়ী করেছেন আজহার। দা গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছেন, গত তিন বছর ধরেই অন্যের ওপর দায় চাপাতে ব্যস্ত আকিব। এবার তাকে নিজের ভুলের দিকে তাকাতে বলেছেন ৯৭ টেস্ট ও ৫৩ ওয়ানডে খেলা আজহার।

“গত তিন বছর ধরেই আমরা এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছি। পারফরম্যান্সের দায় তার নেওয়া উচিত। তার বিচারবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। এই সপ্তাহে তার একটি সাক্ষাৎকার শুনেছি। সেখানে তিনি সারফারাজ ও বাবরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছিলেন। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগে তিনিই তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন!

“কারো যোগ্যতা বিচার করার জন্য এটাই আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয়েছে। তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হয় এবং এরপর তিনি বলেন, ‘আমি দায়ী নই।’ আগে নিজের দিকে তাকান। আর আপনি যদি এই দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে কোনো পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে সরে দাঁড়ান।”

অধিনায়ক বাবর আজমের প্রতিও সহানুভূতি জানিয়েছেন আজহার। তার মতে, পাকিস্তানের অধিনায়ক হওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে কঠিন সময়।

“সম্ভবত পাকিস্তানের অধিনায়ক হওয়ার এটাই সবচেয়ে খারাপ সময়। আমার মনে হয়, তাকেও (বাবর) নিজের বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই রান খরার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা শুধু তার কাছ থেকে পারফরম্যান্স আশা করে গেছি, আর এর সঙ্গে এসেছে সমালোচনা। বিষয়টি তার মনে প্রভাব ফেলেছে। সে নিজেকে নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেছে, দলের ভেতর থেকেও কোনো সমর্থন পায়নি।

“আমার মনে হয় না, সে মিসবাহ বা ইউনিস খানের মতো মানসিকভাবে শক্তিশালী। বাবরের মতো মিসবাহ এতটা প্রতিভাবান ছিলেন না, কিন্তু তিনি অনেক বেশি দৃঢ় ছিলেন। ইউনিসও সমালোচনার মুখে পড়েছেন, কিন্তু কখনো নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। অবশ্য প্রত্যেক মানুষই আলাদা। এটা আমাদের বুঝতে হবে এবং এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সে নিজের সেরাটা দিতে পারে; তাকে পিছিয়ে দেওয়া নয়।”

পাকিস্তান দলকে বলা হতো ‘আনপ্রেডিক্টেবল।’ আজহারের মতে, এখন তাদের সেই চিরচেনা অনিশ্চয়তাও হারিয়ে গেছে। দলকে এখন বাজে পারফরম্যান্সের দিকে ধারাবাহিক দেখছেন তিনি।

“মানুষ আগে বলত পাকিস্তানের কাছ থেকে যেকোনো কিছু আশা করতে পারেন- যে কোনো দিন মাঠে নেমে ৪৬ রানে অলআউট হতে পারে আবার হারের দুয়ার থেকে জিতেও যেতে পারে। কিন্তু এখন আমাদের সেই অসামঞ্জস্যতাও আর নেই। আমরা একদম ধারাবাহিক হয়ে গেছি- তবে সবচেয়ে নেতিবাচক দিকে।”

এরপর বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে পাকিস্তানকে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়েছেন সাবেক ব্যাটসম্যান আজহার।

“আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, পেসাররা উঠে আসছে না কেন। বাংলাদেশের দিকে তাকান। তারা ঘরের মাঠে শুধু স্পিনের ওপর নির্ভর করে সন্তুষ্ট থাকেনি। ক্রিকেট জাতি হিসেবে নিজেদের উন্নতি করতে চেয়েছে এবং একঝাঁক পেসার তৈরি করেছে, যারা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জিতেছে।

“এমনটা ঘটবে শুধু এই আশায় বসে থাকলে হবে না, পাকিস্তানে এখনকার মনোভাবটা অনেকটা এমনই মনে হচ্ছে। আমাদের স্থিতিশীল কাঠামো দরকার, যেখানে মানুষকে নিয়োগ দিয়ে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত সমর্থন করা হবে। এই মুহূর্তে যেমন অনূর্ধ্ব-১৯ দল নেতৃত্বহীন। অথচ এই দায়িত্বটি সিনিয়র দলের প্রধান কোচের দায়িত্বের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়।”

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু আগামী বুধবার, বার্মিংহ্যামে। সেই ম্যাচে পাকিস্তানের লড়াই করবে, এমন কোনো সম্ভাবনাই দেখেন না আজহার।

“শেষ টেস্টটি যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, তাহলে আমি খুবই অবাক হব।”