Published : 31 Aug 2026, 06:21 PM
ঘরের মাঠে সবশেষ পাঁচ টেস্টে ফিফটি কেবল দুটি। নিজের বর্তমান ফর্ম নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন জো রুট। ইংলিশ ব্যাটিং গ্রেটের বিশ্বাস, অতীতের মতো এবারও কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে বের করতে পারবেন তিনি।
রুটকে এই আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে তার অভিজ্ঞতা। টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ১৬৮ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ২০৮ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। নামের পাশে ৪১ সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ৬৮টি।
ইংলিশ গ্রীষ্ম শুরুর আগেও দারুণ ছন্দে ছিলেন রুট। অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ সফরে দল হতশ্রী পারফরম্যান্স করলেও ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন তিনি, করেন দুটি সেঞ্চুরি। তাসমান সাগর পারের দেশটিতে গত সফরের আগে ১৪ টেস্ট খেলে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না তার।
ঘরের মাঠে এখন সময়টা আশানুরূপ কাটছে না রুটের। গত জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলে কেবল একটি ফিফটি করতে পারেন তিনি। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজের দুই ম্যাচে একবার পান পঞ্চাশের দেখা।
পাঁচ টেস্টে রুটের ব্যাটিং গড় এখন ২৯.৪৪। ১৪ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ঘরের মাঠে এখন পর্যন্ত এটাই কোনো মৌসুমে তার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গড়।
তবে নিজের ফর্ম নিয়ে একদমই চিন্তিত নন ৩৫ বছর বয়সী রুট। পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট জয়ের পর বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে নিজের ১৪ হাজার টেস্ট রানের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
“অনেকদিন ধরে এই খেলাটা খেলছি এবং সব সময়ই এসব সমস্যার সমাধান করার ও সেগুলো কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে পেয়েছি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করি। ১৪ হাজার রান করেছি- এর পেছনে নিশ্চয়ই কারণ আছে। আর প্রায় ১৫ বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছি, এরও একটা কারণ আছে।
আলোচনা চলছে রুটের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও। সবশেষ সাত টেস্টে নয়বার তিনি এলবিডব্লিউ হয়েছেন তিনি। আর চলতি ইংলিশ গ্রীষ্মে পাঁচ টেস্টে সারবার হয়েছেন এলবিডব্লিউ। এতে নিজেও হতাশ রুট। তবে সমস্যা সমাধানে নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা আছে তার।
“অবশ্যই এটা হতাশাজনক যে একইভাবে আউট হওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে সম্ভবত চারটি আম্পায়ার্স কল রয়েছে, যেগুলো অন্যভাবেও হতে পারত। আর বলও সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দিক পরিবর্তন করছে।”
“পরিস্থিতিটা বাস্তবসম্মতভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হয়। তবে একই সঙ্গে উন্নতি করে যাওয়ার জন্য কী করতে হবে, সেটাও মাথায় রাখতে হয়। আমি নিশ্চিত, এই সময়টাও কাটিয়ে উঠব। এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই।”
টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতের সাচিন টেন্ডুলকার। ২০০ টেস্ট খেলা কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের রান ১৫ হাজার ৯২১। টেন্ডুলকারের রেকর্ডকে তাড়া করা রুট তার বর্তমান ফর্মের প্রসঙ্গ টেনে বোঝাতে চেয়েছেন, ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে রান করা কতটা কঠিন।
“এই খেলায় আপনাকে কিছুই সহজে দেওয়া হবে না। সবকিছুর জন্যই পরিশ্রম করতে হবে। আমি নিশ্চিতভাবেই সেটা করে যাব। আপনাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে এবং নিজেকে আরও উন্নত করতে, নতুন কিছু শিখতে ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ থেকে কখনো পিছিয়ে থাকিনি, সামনেও থাকব না।”
রুটের মতে, ইংল্যান্ডের এবারের মৌসুমের কন্ডিশন সব ব্যাটসম্যানের জন্যই ব্যাটিং কঠিন করে তুলেছে। আর এর পেছনে ডিউক বলের ভূমিকা দেখছেন তিনি। গত বছর ইংল্যান্ড-ভারতের সিরিজজুড়ে, বিশেষ করে প্রথম তিন টেস্টে একাধিকবার বল পরিবর্তনের জন্য দুই দলই দাবি জানিয়েছিল। এবার বলে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করেন রুট।
“এবারের গ্রীষ্মের বলগুলো কিছুটা আলাদা। আমার মনে হয়, বলের ওপরের আবরণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বল যেন দ্রুত আকার হারিয়ে না ফেলে, সেটা নিয়ে তারা চিন্তিত ছিল। এখন এগুলো পিচে বেশি দাগ ফেলছে।”
ব্যাট হাতে বড় কোনো অবদান রাখতে না পারলেও, টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুটা ভালোই হয়েছে রুটের। লর্ডসে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে তারা। রুট পুনরায় নেতৃত্ব নেওয়ার পর দুই টেস্টেই জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ২০২৪ সালের পর এটি তাদের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়।