এক ম্যাচে দুই পেসারের সামনেই ছিল ৫ উইকেটের হাতছানি, তবে সৈয়দ খালেদ আহমেদের জোড়া অর্জনের অপেক্ষায় ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
Published : 31 Jan 2025, 09:39 AM
প্রশ্নটা ছিল মজা করেই, ‘শেষ ব্যাটসম্যানকে আপনি রান আউট না করে দিলেই তো কোনো একজন ৫ উইকেট পেতে পারতেন…!’ শরিফুল ইসলামও এক চিলতে হাসলেন শুনে। তবে উত্তরটা দিলেন খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতেই, “আসলে তো দল সবার আগে। আমি রান আউট করেছি… পরে নাও পেতে পারতাম। এই কারণে সামনে যেটা ছিল, সেটাই করে ফেলেছি…।”
এটুকু আসলে না বললেও চলত। রান আউটের সুযোগ থাকলেও কেউ সেটা করবেন না, এটা তো আর হয় না!
মজার উৎসটা আসলে ছিলেন শরিফুল নিজেই। বিপিএলে বৃহস্পতিবার সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য যখন এক উইকেট লাগে চিটাগং কিংসের, তখন পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার জন্য একটি করে উইকেট প্রয়োজন শরিফুল ও সৈয়দ খালেদ আহমেদের।
চার উইকেট আগে পান শরিফুল। পরে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেটের সুযোগ আসে খালেদের সামনে। আরিফুল হক ও রুয়েল মিয়াকে টানা দুই বলে ফিরিয়ে চার উইকেট হয়ে যায় তার। পরের বলে শেষ ব্যাটসম্যান সুমন খানকে ফেরাতে পারলেই জোড়া অর্জন হয়ে যেত। কিন্তু সেই ডেলিভারিতে এক রান নেন সুমন। ওভারের পরের দুই বলেও আর উইকেট পাননি তিনি।
৫ উইকেটের হাতছানি তখন শরিফুলের। সামনে পেয়েছিলেন তিনি শেষ ব্যাটসম্যান সুমনকেই। কিন্তু ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বল সামনে ঠেলে রান নিতে ছোটেন সুমন। অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানের সাড়া না পেয়ে চেষ্টা করেন ফিরে আসতে। কিন্তু বল ধরে সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন শরিফুল।
দুই পেসারই তাই ম্যাচ শেষ করেন চার উইকেট নিয়ে।
বিপিএলে নিজের সেরা বোলিং স্পর্শ করে ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন খালেদ। এর আগে ব্যাট হাতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ২৫ রান করেন ১২ বলে। তবে তাকে ছাপিয়ে ম্যাচ সেরা হন শরিফুল। ৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার। বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ৪ উইকেটের কীর্তি এটি।
পরে শরিফুল বললেন, তিনি খুব করে চাইছিলেন খালেদের হ্যাটট্রিক ও ৫ উইকেট।
“আমি খালেদ ভাইকে বলছিলাম, ‘ভাই হ্যাটট্রিক চান্স ও ৫টি নেওয়ার চান্স, আপনি একটি স্লিপ নেন। যদি এজ হয় (ব্যাটের কানায় লাগে.)…। আমি চাই আপনার ৫টা হোক এবং এই বছরের প্রথম হ্যাটট্রিক হবে আপনার।’ তখন উনি বললেন যে ‘ঠিক আছে।’ সঙ্গে মিঠুন ভাইও (অধিনায়ক) রাজি হয়েছে।”
“আমার নেওয়া থেকে খালেদ ভাই যদি ওই ওভারে খেলাটা শেষ করে দিতে পারতেন, ভালো হতো। কারণ পুরো টুর্নামেন্টে উনি খুব ভালো বোলিং করছেন।”
১০ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে এবারের বিপিএলে চিটাগংয়ের সেরা বোলার খালেদ। শরিফুল এই ম্যাচের আগে ঠিক ছন্দে ছিলেন না। ৯ ম্যাচে তার উইকেট ছিল ৮টি। এই ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে তার উইকেট এখন স্পিনার আলিস আল ইসলামের সমান ১২টি।