Published : 30 Jul 2026, 08:21 PM
সবশেষ টেস্ট খেলার পর কেটে গেছে এক বছর। আবারও সাদা পোশাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে মুখিয়ে আছেন জশ হেইজেলউড। তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছেন তিনি। তবে নিজের সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাসের কারণে খুব বেশি দূর ভাবছেন না অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার। আপাতত তার সব মনোযোগ বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টেস্টে।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরু আগামী ১৩ অগাস্ট। আর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাককায়তে, শুরু আগামী ২২ অগাস্ট।
৩৫ বছর বয়সী হেইজেলউড সবশেষ টেস্ট খেলেন গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। পরে দীর্ঘদিন বাইরে থাকতে হয় তাকে শুরুতে হ্যামস্ট্রিং ও পরে একিলিস টেন্ডনের সমস্যায়। গত পাঁচ অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মের মধ্যে চারটিতেই তিনি নিজের প্রথম টেস্ট বা প্রথম-শ্রেণির ম্যাচে চোট পেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সবশেষ ১৪ টেস্টের মধ্যে স্রেফ ছয়টিতে খেলেন হেইজেলউড। তার মধ্যে আবার দুটির মাঝপথে ছিটকে যান তিনি চোটের থাবায়।
২০২১-২২ অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ব্রিজবেনে সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন হেইজেলউড, আর তাতে খেলতে পারেননি মৌসুমের বাকি অংশে। ২০২২-২৩ মৌসুসের প্রথম টেস্টে আবারও তার সাইড স্ট্রেইন হয় এবং পরবর্তী দুটি টেস্টে খেলতে পারেননি।
এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথম টেস্ট খেলার পর একিলিস টেন্ডনের সমস্যায় পড়েন এবং ভারত সফর থেকে দেশে ফেরেন কোনো টেস্ট না খেলেই।
এরপর লম্বা একটা সময় চোট থেকে দূরে ছিলেন তিনি। ২০২৩-২৪ সালে টানা ৯ টেস্ট খেলে নিরবচ্ছিন্ন ধারা বজায় রাখেন। কিন্তু ২০২৪-২৫ গ্রীষ্মের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে আবারও সাইড স্ট্রেইন হানা দেয়। পরে তৃতীয় টেস্টের দলে ফিরলেও ব্রিজবেনে ম্যাচের শুরুতেই তার কাফ মাসলে টান লাগে।
গত মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালসহ টানা চারটি টেস্ট এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনটি টেস্ট খেলেন। কিন্তু প্রথম অ্যাশেজ টেস্টের আগে শেফিল্ড শিল্ডে প্রথম ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েন। এরপর মাঠে ফেরার চেষ্টার পথে একিলিস টেন্ডনে ক্রমাগত সমস্যা হতে থাকে এবং সিরিজের বাকি অংশ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি।
হেইজেলউডের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং বিভাগে আছেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ড। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার ন্যাথান লায়ন। ডারউইন টেস্টে লায়নের খেলার সম্ভাবনা প্রবল। আর এমন কিছু হলে হেইজেলউড কিংবা বোল্যান্ডকে থাকতে হতে পারে একাদশের বাইরে।
বারবার চোটের থাবায় মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেও, অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একজন হেইজেলউড। ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র ৫ উইকেট দূরে থাকা এই পেসারকে নিয়ে তাই কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছে দলটি। গত আইপিএলের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফর থেকে তাকে বিশ্রাম দেয় তারা। অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি গত সপ্তাহে বলেন, হেইজেলউড যেন আবারও চোটে না পড়ে সেজন্য তার প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এনেছে কোচিং ও মেডিকেল স্টাফরা।
সবকিছু মিলিয়ে, সাদা পোশাকে আবারও মাঠে ফিরতে আশাবাদী হেইজেলউড। ব্রিজবেনে বৃহস্পতিবার অনুশীলন ক্যাম্পে সাংবাদিকদের বলেন, ফেরার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
“সম্ভবত প্রথমবার কোনো ম্যাচ খেলা ছাড়া টেস্ট খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন্যান্য টেস্ট সিরিজ ও টেস্ট ম্যাচের আগে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে খেলতে হয়, ভ্রমণ করতে হয়, তাই দীর্ঘ বোলিং সেশনগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে। এবার পুরো প্রস্তুতিটাই টেস্টকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে। আশা করি এটা কাজে দেবে।
“টেস্ট ম্যাচে পুরো একটি দিন ফিল্ডিং করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক দিনে একাধিক স্পেল করা এবং টানা দুই দিন বোলিং করাই মূল লক্ষ্য।”
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বাইরে আপাতত আর কিছু নিয়ে ভাবতে চান না হেইজেলউড। ওই ম্যাচের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে কাজ করছেন তিনি।
“আমার মনে হয়, খেলাধুলায় খুব বেশি সামনে তাকালে দ্রুতই সেটার খেসারত দিতে হতে পারে। আমি সবসময় এভাবেই ভেবেছি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনের পর দিন লক্ষ্য পূরণেই মনোযোগ দিয়েছি এবং কাজের চাপ বাড়িয়েছি। আগামী সপ্তাহে আরও একটি লক্ষ্য পূরণ করতে হবে, আর সেটা পেরিয়ে গেলে তখন ডারউইনের কথা ভাবা যাবে। তাই বাকি সব কিছু এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আপাতত যা সামনে আসবে, সেটাই সামলাব।”