১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টেস্টের প্রস্তুতি নিতে দুই বছর পর ওয়ানডে খেলবেন কামিন্স

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে অধিনায়ক হলেও ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্রেফ দুটি ওয়ানডে খেলেছেন প্যাট কামিন্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 11:23 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে অধিনায়ক কে? প্রশ্নটি শুনলে ধন্দে পড়ে যেতে পারেন অনেকেই। আসলে যিনি অধিনায়ক, তাকে তো এই সংস্করণে খেলতেই দেখা যায় না! অবশেষে প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডেতে দেখা যাবে প্যাট কামিন্সকে। এটির পেছনেও অবশ্য অন্য উদ্দেশ্য আছে। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবেই ওয়ানডে সিরিজে খেলবেন এই পেসার। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজের আগে ওয়ানডে সিরিজটায় কামিন্সের সঙ্গী হতে পারেন বিখ্যাত পেসত্রয়ীর অন্য দুজন মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউডও। এই দুজনও ওয়ানডে নিয়মিত খেলছিলেন গত বিশ্বকাপের পর থেকে।

২০২৩ বিশ্বকাপের পর এখনও পর্যন্ত স্রেফ দুটি ওয়ানডে খেলেছেন কামিন্স। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেলবোর্নে ও অ্যাডিলেইডে ছিল ম্যাচ দুটি। পেসত্রয়ীকে সবশেষ একসঙ্গে এই সংস্করণে দেখা গেছে তখনই। মূলত চোটাঘাত, বিশ্রাম ও টেস্টকে গুরুত্ব দেওয়া মিলিয়েই ওয়ানডের সঙ্গে কামিন্সের এই দূরত্ব হয়ে গেছে। তার অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে স্টিভেন স্মিথ, মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস। 

স্টার্ক ও হেইজেলউড তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেললেও তারাও ছিলেন অনিয়মিত। গত বিশ্বকাপের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। স্টার্ক খেলেছেন এর ৭টি, হেইজেলউড ১১টি। তারা দুজনই সবশেষ খেলেছেন গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু আগামী ৯ অক্টোবর। এর আগে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। 

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ঠিক আগে জিম্বাবুয়েতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে অবশ্য থাকছেন না কামিন্স। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক জানালেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি ফিরছেন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে।

“আমার মনে হয়, অন্তত কিছুটা হলেও এর (দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ) অংশ হব আমি। যদিও ঠিক নিশ্চিত যে আমার এটা বলা উচিত কি না, তবে আমার মনে হয়, মূল মনোযোগ টেস্ট সিরিজের ওপরই থাকবে। তাই সাদা বলের সিরিজের বেশিরভাগ খেলা এবং আমরা যেভাবে খেলব, তা লাল বলের সিরিজকে মাথায় রেখেই হবে। তাই ধারণা করছি, ওই ছয়টি ম্যাচের মধ্যে এক, দুই, সম্ভবত সর্বোচ্চ তিনটি ম্যাচ খেলব।

আমার ধারণা, (বাংলাদেশ সিরিজের পর) আপাতত আমরা সবাই সম্ভবত এক বা দুই সপ্তাহ বোলিং থেকে ছুটি পাব, জিম অনুশীলন চালিয়ে যাব এবং তারপর আমরা ওই সিরিজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করব। আমি যদি জিম্বাবুয়ের ম্যাচগুলো না খেলি, তাহলে সম্ভবত এখানে আরও এক সপ্তাহ বাড়তি সময় পাব।”

ফক্স স্পোর্টসে আলোচনায় একইরকম ইঙ্গিত দেন স্টার্ক ও হেইজেলউডও।

ওয়ানডে সিরিজে খেলার পেছনে কামিন্স টেস্টের প্রস্তুতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বললেও ভাবনায় আছে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপও। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে প্রায় সব ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের ব্যস্ততম মৌসুম শুরু হয়ে গেছে, যেখানে এক বছরের মধ্যে ২০ থেকে ২১টি টেস্ট খেলতে হবে তাদের। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বেশি সময় না থাকলেও তাই টেস্টকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে তাদের।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই বল টেম্পারিং বিতর্কের তুমুল আলোচিত সিরিজের পর এই প্রথম সেখানে টেস্ট সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের সবশেষ সিরিজে দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। তবে গত বছর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে প্রোটিয়ারা হারিয়ে দেয় কামিন্সদের।

অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক জানেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় চ্যালেঞ্জটা অনেক কঠিন। তবে সেটি আলিঙ্গন করতেই মুখিয়ে আছেন তিনি। 

“ওরা সত্যিই একটি শক্তিশালী দল। বছর দুয়েক আগে অস্ট্রেলিয়ায় ওদের বিপক্ষে আমাদের দারুণ একটি সিরিজ হয়েছিল এবং আমরা সম্ভবত প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছিলাম। কিন্তু গত বছর লর্ডসে ওরা আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছিল এবং সেখানে আমাদেরকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছিল।

সুতরাং এবারের সিরিজও অনেক বড় ব্যাপার হতে চলেছে, বিশেষ করে তাদের ঘরের মাঠে এবং এমন সব জায়গায়, যেখানে আমরা অনেক দিন টেস্ট ক্রিকেট খেলিনি। কন্ডিশন সেখানে তাই কিছুটা অজানা। এমনকি ডারবান আর কেপ টাউনের পিচের ধরনেও বেশ পার্থক্য থাকতে পারে। তবে এটা দারুণ হবে। এসব কারণেই তো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি। এখানে কন্ডিশন ভিন্ন, প্রতিপক্ষ ভিন্ন, আর খেলা হয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। আমার বলতে পারেন, তর সইছে না।”