Published : 12 Mar 2024, 05:30 PM
ছয় উইকেট হারানো সিটি ক্লাবের জয়ের আশা জাগালেন রাফসান আল মাহমুদ ও মইনুল হোসেন সোহেল। এক ওভারে দুজনকেই ফেরালেন আরিফুল ইসলাম। শেষ বলে তিনি নিলেন আরও এক উইকেট। তার অফ স্পিনের সঙ্গে মুশফিক হাসানের তোপে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ৪৩ রানে জিতেছে মোহামেডান। বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে ২৪১ রানের লক্ষ্যে ২২ বল বাকি থাকতেই ১৯৭ রানে গুটিয়ে গেছে সিটি ক্লাব।
ব্যাটিংয়ে তেমন কিছু করতে না পারলেও ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বড় অবদান রেখেছেন আরিফুল ইসলাম। তাকে ছাপিয়ে গেছেন মুশফিক। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪৩ রানে ৪ উইকেটের সৌজন্যে ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন তরুণ পেসার।
টস জিতে বোলিং করা সিটি ক্লাবের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। পঞ্চম ওভারে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ইমরুল কায়েস। ইফরান হোসেন, মেহেদি হাসানদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম পাওয়ার প্লেতে ২৪ রানের বেশি করতে পারেনি মোহামেডান।
শুরুর চাপ সামলে বড় জুটি গড়েন রনি তালুকদার ও মাহিদুল ইসলাম। তবে রানের গতি বাড়াতে পারেননি তারা। পঞ্চাশ করতে ৯১ বল খেলেন রনি। মাহিদুল একই মাইলফলকে পৌঁছান ৭০ বলে। ১৭৮ বলে ১৩৭ রান যোগ করেন তারা।
দলকে দেড়শর কাছে রেখে ৪টি করে চার-ছক্কায় ১০৮ বলে ৭১ রান করে ফেরেন রনি। পরের ওভারে আউট হওয়া মাহিদুলের ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৮৮ বলে ৬৭ রান।
এরপর প্রান্তিক নওরোজ, আরিফুল ইসলাম, আরিফুল হকরা বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। রুবেল মিয়ার ব্যাটে এগোতে থাকে মোহামেডান। তবে মেহেদির শেষ দিকের তোপে স্রেফ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় তারা। রুবেল করেন ৩৩ রান।
৯.৩ ওভারে দুই মেডেনসহ ৩৫ রানে ৪ উইকেট নেন মেহেদি।
রান তাড়ায় চল্লিশ পেরোনোর আগেই ৩ উইকেট হারায় সিটি ক্লাব। ইতিবাচক শুরু করা হাসানুজ্জামান বড় করতে পারেননি ইনিংস।
রাফসানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক শাহরিয়ার কোমল। দলের একশ হওয়ার আগে ফেরেন ৩৮ রান করা শাহরিয়ার। আশিক উল আলম, সাজ্জাদুল হকরা দ্রুত ফিরলে বড় পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে সিটি ক্লাব।
এরপর রাফসান ও সোহেলের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। ধীরে ধীরে দলকে জয়ের পথে নেন তারা। সপ্তম উইকেটে ৭৭ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪৪তম ওভারে দুজনকেই ফিরিয়ে মোহামেডানের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন আরিফুল ইসলাম।
৫৬ রান করেন রাফসান। সোহেলের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৪৯.৩ ওভারে ২৪০ (ইমরুল ৮, রনি ৭১, মাহিদুল ৬৭, প্রান্তিক ১, আরিফুল ইসলাম ১৯, রুবেল ৩৩, আরিফুল হক ১৬, নাসুম ৬, আবু হায়দার ৯, নাঈম ৩, মুশফিক ০*; ইফরান ১০-১-৪৭-১, মেহেদি ৯.৩-২-৩৫-৪, মইনুল ১০-১-৪৬-০, সঞ্জিত ১০-০-৫৫-২, সাজ্জাদুল ২-০-১৫-০, সোহেল ৩.১-০-১৬-০, রাফসান ৪.৫-০-২৫-২)
সিটি ক্লাব: ৪৬.২ ওভারে ১৯৭ (সাদিকুর ১, হাসানুজ্জামান ২৮, শাহরিয়ার ৩৮, মইনুল ২, রাফসান ৫৬, আশিক ৯, সাজ্জাদুল ৭, সোহেল ৩৬, ইফরান ৩*, সঞ্জিত ০, মেহেদি ৫; আবু হায়দার ৮-১-৪২-০, মুশফিক ৮.২-১-৪৩-৪, নাঈম ১০-২-৩২-২, নাসুম ১০-১-২৯-০, আরিফুল হক ৫-০-২৯-১, আরিফুল ইসলাম ৫-০-২২-৩)
ফল: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৪৩ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মুশফিক হাসান