Published : 06 Aug 2026, 05:25 PM
টেস্ট ক্রিকেটকে হৃদয়ে লালন করার প্রতিদান পাচ্ছেন মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশ সিরিজে এই সংস্করণের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নেওয়ার হাতছানি তার সামনে। তবে এ নিয়ে খুব একটা রোমাঞ্চিত নন অস্ট্রেলিয়ান তারকা পেসার। রেকর্ড-কীর্তির চেয়ে তার মনোযোগ মাঠের পারফরম্যান্সে।
গত আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ছয় ম্যাচ খেলার পর আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি স্টার্ক। সবকিছু ঠিক থাকলে, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে আড়াই মাস পর মাঠে ফিরবেন তিনি। ডারউইনে ম্যাচ শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার।
ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে গত বছরটা দুর্দান্ত কাটে স্টার্কের। ১১ টেস্ট ৫৫ উইকেট নেন তিনি- ২০২৫ সালে যা কোনো বোলারের সর্বোচ্চ। ঘরের মাঠের অ্যাশেজে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পথে তার অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি।
ঐতিহ্যবাহী ওই সিরিজে দুই অভিজ্ঞ পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউডের অনুপস্থিতিতে দলের বোলিংকে নেতৃত্ব দেন স্টার্ক। ৩১ উইকেট নিয়ে জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও সিরিজ সেরার হন তিনি।
একশ টেস্ট খেলা পেসারদের বিরল ক্লাবের সদস্য ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক। এখন পর্যন্ত ১০৫ টেস্ট খেলে তার প্রাপ্তি ৪৩৩ উইকেট। এই সংস্করণে বর্তমানে দ্বাদশ স্থানে আছেন তিনি। ভারতের কাপিল দেবের ৪৩৪ উইকেট থেকে মাত্র এক উইকেট পিছিয়ে স্টার্ক। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেট থেকে দূরে মাত্র ছয়টি।
অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে স্টার্কের চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল শেন ওয়ার্ন, ন্যাথান লায়ন ও গ্লেন ম্যাকগ্রার। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দুই কিংবদন্তি কাপিল ও স্টেইনকে টপকে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্টার্ক বলেন, এটা তার জন্য অনেক বড় সম্মানের হবে। তবে এসব যে তাকে খুব একটা স্পর্শ করে না সেটাও বলেছেন তিনি।
“এর মানে, আমি অনেক দিন খেলে ফেলেছি। কাপিল দেব ও ডেল স্টেইনের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়া সত্যিই দারুণ এবং অত্যন্ত সম্মানের। তবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সময় এসব রেকর্ডের খুব একটা মূল্য থাকে না। খুব বেশি দূর ভাবতে চাই না।”
বয়সের ছাপ স্টার্কের খেলায় একটুও পড়েনি; এখনও যেমন ছুঁড়তে পারেন আগুনের গোলা, তেমনি দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করে বের করে আনতে পারেন ম্যাচও। ২০২২ সালের শুরু থেকে বাঁহাতি এই পেসার ৪১ টেস্ট খেলে ১৬৪ শিকার ধরেছেন। আর ২০২৫ সালে ১৭.৩২ বোলিং গড় ছিল এক পঞ্জিকাবর্ষে তার ক্যারিয়ারের সেরা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দেওয়া স্টার্কের মতে, তার সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় কারণ টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে পরিষ্কার মানসিকতা।
“আপনি নিজেকে যেমন ভাবেন কিংবা অন্যরা আপনাকে যেমন ভাবে, আপনি ততটা ভালো কিংবা খারাপ নন। এখনও কোনো কিছু ঠিকমতো না হলে আমি বিরক্ত হই, নিজেকে নিয়ে অভিযোগও করি। গত গ্রীষ্মের শুরুতেও মনে হয়নি সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে। অ্যাশেজ শুরুর আগের দিন পর্যন্তও সেই অনুভূতি ছিল।
তবে কোচ রন (অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড) ও প্যাটের (কামিন্স) নেতৃত্বে এই দলের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, দিনটা ভালো হোক কিংবা খারাপ, ভালো ওভার কিংবা খারাপ স্পেল যা-ই হোক, সেটা সেখানেই শেষ। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে কী বদল (অবদান রাখা যায়) আনা যায়, সেটাই আসল।”
দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ অগাস্ট।