হৃদয়ে কষ্ট চাপা দিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিলেন জাকের-লিটনরা
মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমানবাহিনীর জঙ্গি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বাংলাদেশ দলের সবার বুক ভারী হয়ে ছিল, বললেন জাকের আলি।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অনায়াস জয়ের পরদিন বিশ্রামে ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। কিন্তু দুপুরে হানা দেয় ভয়াবহ এক সংবাদ। মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে সোমবারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোকের কালো ছায়া নেমে আসে দলে। ওই সময়টায় ফিরে গিয়ে জাকের আলি বললেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ছিলেন দলের সবাই।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮ রানে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচ জমে উঠলেও আগের পুরো সময়টায় দাপট দেখায় স্বাগতিকরাই।
তবে মাঠে শতভাগ দিয়ে খেললেও ক্রিকেটারদের মনের ছবিটা ছিল মলিন। আগের দিনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়েই খেলতে নামেন লিটন কুমার দাস, জাকের আলি, শরিফুল ইসলামরা।
ম্যাচের শুরুর ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জাকের। পরে সংবাদ সম্মেলনে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ধাক্কায় দলের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল জানান তিনি।
“জিনিসটা কঠিন ছিল। গতকাল একটা খুবই... মানে বুক ভারী হয়েই কাটাতে হয়েছে। আসলে এরকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কারোই কাম্য নয়। সবার জন্যই দোয়া। ওই সময়েই দোয়া করেছি। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আর যারা বেঁচে আছেন, তারা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যান।”
কথাগুলো বলার সময় যেন গলা ধরে আসছিল জাকেরের। দুর্ঘটনার গভীর দাগ যে তার হৃদয়ে কেটে গেছে, তা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্টই। তবু পেশাদারত্বের খাতিরে মাঠে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টার কথা বলেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
“আসলে দল হিসেবে কঠিন ছিল। সবারই মন খারাপ ছিল। কিন্তু যেটা আপনি বললেন, আমরা পেশাদার, তাই মাঠে নামতে হবে। তাই সব কিছু ভুলে মাঠে নেমে আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
