২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সেরার লড়াইয়ে সূর্যকুমার-রিজওয়ান-রাজা-কারান

আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন এই চার ক্রিকেটার।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Dec 2022, 09:28 PM

Updated : 29 Dec 2022, 09:28 PM

পরিস্থিতি যাই হোক, মাঠে নামলেই উত্তাল ব্যাট। প্রতিটি বল যেন বোলারদের জন্য একেকটি অগ্নিপরীক্ষা। প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠা সূর্যকুমার যাদব জায়গা পেয়েছেন আইসিসির টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। সেখানে ভারতীয় এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানের লড়াই হবে পাকিস্তানের কিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান ও জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজার সঙ্গে।

জানুয়ারির শুরুর দিকে আইসিসি ভোটিং একাডেমি ও বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট ভক্তরা ভোট দিতে পারবেন। মাসের শেষ দিকে অন্য ১২ ক্যাটাগরির সঙ্গে বর্ষসেরা পুরুষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের পুরস্কার দেবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।    

সূর্যকুমার যদব, ভারত

৩১ ম্যাচে ১ হাজার ১৬৪ রান

২০ ওভারের ক্রিকেটে কী দুর্দান্ত একটা বছরই না কেটেছে সূর্যকুমারের। মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকা বর্ষে হাজার রানের কীর্তি গড়েছেন তিনি। বছর শেষ করেছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে। ১ হাজার ১৬৪ রান এসেছে অবিশ্বাস্য ১৮৭.৪৩ স্ট্রাইক রেটে!

২০২২ সালে মেরেছেন ৬৮টি ছক্কা! অনেক এগিয়ে থেকে যা এক বছরে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কা। চল্লিশের মাঝামাঝি গড়ে স্পষ্ট, দারুণ ধারাবাহিকও সূর্যকুমার। ভারতের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে করেছেন ৯ ফিফটি। এই পারফরম্যান্সে চলতি বছর আলাদা করেই নজর কেড়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছয় ইনিংসে তিন ফিফটিতে প্রায় ৬০ গড় ও ১৮৯.৬৮ গড়ে রান করেন সূর্যকুমার। এই ধারা ধরে রাখেন পরেও। নিউ জিল্যান্ডে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে করেন বছরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এই বছরই প্রথম টি-টোয়েন্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠেন তিনি। অর্জন করেন ক্যারিয়ার সেরা ৮৯০ পয়েন্ট।

অসাধারণ একটি বছরে সূর্যকুমারের স্মরণীয় পারফরম্যান্সের কোনো অভাব নেই। নজর কাড়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সেরা হয়তো তার প্রথম সেঞ্চুরিই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যামে ৫৫ বলে করেছিলেন ১১৭ রান।

সিকান্দার রাজা, জিম্বাবুয়ে

২৪ ম্যাচে ৭৩৫ রান ও ২৫ উইকেট

একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন রাজা। ব্যাটে-বলে দ্যুতিময় পারফরম্যান্সের ধারা বজায় ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।

বছরে দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেটে করেন ৭৩৫ রান। টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানের চেয়ে আড়াইশর বেশি রানে এগিয়ে তিনি। ওভার প্রতি ৬.১৩ রান দিয়ে নেন ২৫ উইকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের অসাধারণ জয়ে ব্যাটে-বলে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন রাজা। বল হাতে ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। পরে শেষ বলে রান আউট করে দলকে এনে দেন ১ রানের জয়।

স্যাম কারান, ইংল্যান্ড

১৯ ম্যাচে ৬৭ রান ও ২৫ উইকেট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া কারান নজর কাড়েন দারুণ ডেথ বোলিংয়ে। চোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন পেসারের অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নেন তিনি। দারুণ বোলিংয়ে নেন ১৩ উইকেট, কেবল শ্রীলঙ্কার ভানিন্দু হাসারাঙ্গা নেন আসরে তার চেয়ে বেশি উইকেট।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে কেবল ১০ রানে ৫ উইকেট নেন কারান। বিশ্বকাপ তো বটেই টি-টোয়েন্টিতেই ইংল্যান্ডের কোনো বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এটাই প্রথম। চোটের জন্য ২০২১ আসরে খেলতে না পারা কারান এবার ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ে রাখেন সবচেয়ে বড় অবদান।

নিজের সেরাটা যেন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের জন্য তুলে রেখেছিলেন কারান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে তিনি নেন ৩ উইকেট। চার ওভারে দেন কেবল ১২ রান।

মোহাম্মদ রিজওয়ান, পাকিস্তান

২৫ ম্যাচে ৯৯৬ রান, নয় ক্যাচ ও তিন স্টাম্পিং

২০২১ সালে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের কীর্তি গড়া রিজওয়ান এবার করেছেন ৯৯৬ রান। তার চেয়ে বেশি রান কেবল সূর্যকুমারের।

চলতি বছর ১০টি ফিফটি করেছেন রিজওয়ান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে করেছেন ১৭৫ রান, পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

২০২২ সালে ৪৫.২৭ গড়ে রান করেছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। ৮৩৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে বছর শেষ করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের ১০ উইকেটের জয়ে বড় অবদান রাখেন রিজওয়ান। ৫১ বলে তিনি অপরাজিত থাকেন ৮৮ রানে।