Published : 04 Sep 2026, 09:11 PM
কয়েক দিন ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বাইরের ঘটনা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে বেশি। চলমান ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে টেস্ট স্কোয়াড ও টিম ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক রদবদল করায় চলছে তীব্র সমালোচনা, উঠছে নানা প্রশ্ন। দলে অধিনায়ক বাবর আজমের কতটা কর্তৃত্ব আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আথারটন।
ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই বাজেভাবে হেরেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর দল থেকে সাত জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় যে সাত জনকে দলে নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে পাঁচ জনই টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন।
এছাড়া প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাদা বলের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে টেস্ট দলের কোচিং স্টাফে যোগ দিয়েছেন।
এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বাবরও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রাশিদ লাতিফ এরই মধ্যে বাবরকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাকে ‘ডামি অধিনায়ক’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
স্কাই স্পোর্টসে আলোচনায় আথারটন বলেন, টিম ম্যানেজমেন্টে মধ্যে বাবর বা পাকিস্তানের যেকোনো অধিনায়কের কতটা কর্তৃত্ব আছে, তা নিয়ে তিনি সন্ধিহান। হুট করে দলে এত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না বলেও মনে করেন সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
“এই ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে। এভাবে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করা যায় না এবং কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা যায় না। আমার মনে হয়, বাবর আজমের মতো একজন অধিনায়কের জন্য এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। এই দলে তার বা পাকিস্তানের অন্য কোনো অধিনায়কের আসলে কতটা কর্তৃত্ব আছে?
“এটা ঠিক যে, এখনকার সময়ে অধিনায়ক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন; ৩০ বছর আগের সেই সময়ে ফিরে যেতে পারবেন না, যখন তারা (অধিনায়ক) হয়তো সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন, কিন্তু একটি দলে তাদের কিছুটা কর্তৃত্ব তো থাকতেই হবে।”
গত জুলাইয়ে শান মাসুদকে সরিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে বাবরকে টেস্টের অধিনায়ক করে পাকিস্তান। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একটি টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করে দলটি। কিন্তু প্রথম টেস্টে তিনি খেলতে পারেননি চোটের কারণে। দ্বিতীয় টেস্টে ফিরে তিনি নিজে যেমন ভালো করতে পারেননি, তেমনি দলও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
আগামী বুধবার এজবাস্টনে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট।