কোচের ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বললেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে কিছু দেখতে পাবেন’
পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্ট সিরিজ শেষে চান্দিকা হাথুরুসিংহের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে, জানালেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।
টেস্ট সিরিজ চলার সময় চান্দিকা হাথুরুসিংহের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না ফারুক আহমেদ। দলের চলমান প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার মতো কিছু তিনি করতে নারাজ। বিসিবির নতুন সভাপতি জানালেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে হাথুরুসিংহের প্রবল সমালোচকদের একজন ছিলেন তিনি। নানা সময়েই সেই ভাবনা তিনি তুলে ধরেছেন। দায়িত্ব নেওয়া কদিন আগেও ‘নট আউট নোমান’ ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হাথরুসিংহেকে বাংলাদেশের কোচের দায়িত্বে রাখার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।
বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, তার ব্যক্তিগত অবস্থান বা ভাবনা আগের মতোই আছে। তবে বোর্ড সভাপতি হিসেবে তিনি কোচের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চান সবার সঙ্গে কথা বলে।
বিসিবি সভাপতি হিসেবে প্রথমবার পরিচালনা পর্ষদের সভা করেন তিনি বৃহস্পতিবার। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার দীর্ঘ সেই সভায় হাথুরুসিংহেকে নিয়ে আলোচনা হয় অনেক। সভা শেষে বিসিবি সভাপতি জানান, আরও কয়েকটা দিন তারা অপেক্ষা করবেন কোচকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে।
“হাথুরুসিংহের ব্যাপারে আলাপ হয়েছে আমাদের। শেষবার সাকিব আল হাসানের (হত্যা মামলার) ব্যাপারে বলেছিলাম যে, টেস্ট ম্যাচের মাঝে কোনো কিছু করতে চাই না। এখন বলতে হচ্ছে সিরিজের মধ্যে… একটা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্তা হয়ে যে কোনো কিছু আপনি করতেই পারেন। কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হবে, অন্য কিছুকে যেন ডিস্টার্ব না করি।”
“তার মানে এই নয় যে, ডিস্টার্ব কখনোই করতে পারব না। আমাদের জন্য যেটা সেরা সিদ্ধান্ত হবে… এই টেস্ট সিরিজ যাক, আমরা আলোচনা করছি, সবার মতামত নিচ্ছি… আমরা চেষ্টা করব। এটা তো তদন্তের মতোই যে, কতটা ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। আমরা ভালো করে দেখে তারপর একটি সিদ্ধান্ত নেব। আমরা নিশ্চিত যে, কিছু একটা দেখতে পাবেন নিকট ভবিষ্যতে।”
পাকিস্তানে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের স্মরণীয় জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু শুক্রবার।
তার পরও সিরিজের মাঝখানে হাথুরুসিংহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা কোথায়, সেই প্রশ্ন উঠল। বিসিবি সভাপতি আবারও বললেন একটু অপেক্ষা করার কথা।
“যখন কেউ একটা সংগঠনের প্রধান হয়… আমি আসলে স্বেচ্ছাচারি হতে চাই না। আপনারা আমার কাজের ধরন জানেন। আমার কাজের ধরন আগে যেরকম ছিল, এখনও সেরকম আছে। ওটা আমি অনুসরণ করব। স্রেফ সাত দিন গেল, আর সাত দিন, ১৪ দিন পর একটা সিদ্ধান্ত হতে পারে। তাই না?”
২০১৪ সালে প্রথম দফায় বাংলাদেশের কোচ করে আনা হয় হাথুরুসিংহেকে। ২০১৭ সালে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন বিসিবির অনেক অনুরোধে সাড়া না দিয়ে। পরে গত বছর আবার তাকে প্রধান কোচ করে আনে বিসিবি। তার মেয়াদ আছে আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত।
