Published : 23 Jan 2026, 05:39 PM
বিকেল সাড়ে চারটার পরপর খুব কাছ থেকে একটি হেলিকপ্টার চক্কর দিল শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের আকাশে। একটু পর সেই আকাশযান আস্তে আস্তে নেমে এলো স্টেডিয়ামের সবুজ আঙিনায়। দুয়ার খুলে বেরিয়ে এলেন সালমা খাতুন ও আকবর আলি। ২০১৮ উইমেন’স এশিয়া কাপ জয়ের অধিনায়ক একজন, আরেকজন ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নেতা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই অর্জনের অধিনায়ক নামলেন বিপিএলের ট্রফি নিয়ে।
তখনও অবশ্য ট্রফির চেহারা দেখার উপায় নেই। লাল পর্দায় মোড়ানো সেটি। মাঠে নেমে লাল গালিচা ধরে হেঁটে গেলেন সালমা ও আকবর। পরে তাদের কাছ থেকে সেই ট্রফি রাখা হলো পোডিয়ামে। ফাইনালের দুই দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও শেখ মেহেদি হাসান গিয়ে দাঁড়ালেন দুপাশে। একটু পর এলো সেই মূহূর্ত। দুই অধিনায়ক একসঙ্গে উঠিয়ে নিলেন ঘোমটা। দৃশ্যমান হলো ট্রফি।
বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ফাইনাল শুরুর সোয়া ঘণ্টা আগে উন্মোচন করা হলো বিপিএলের ট্রফি।

সাধারণত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ট্রফি উন্মোচন ও ফটোসেশনের আয়োজন থাকে। ফাইনালের আগে ট্রফি উন্মোচনের ঘটনা বলা যায় নজিরবিহীন। তবে বিপিএলের ক্ষেত্রে এসব অপ্রত্যাশিত নয়।
গত ২৬ ডিসেম্বর টুর্নামেন্ট শুরুর দিন বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২৫ হাজার ডলার খরচ করে দুবাইভিত্তিক এক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ট্রফি তৈরি করা হচ্ছে। ‘ডায়মন্ড স্টাডেড’ ট্রফিটি বিপিএলের মাঝামাঝি কোনো একটা সময় ঘটা করে উন্মোচন করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল তখন। সেটি আর হয়নি। অবশেষে ফাইনালের আগে সেই আয়োজনটি হলো।
টুর্নামেন্ট শুরুর দিন বিসিবি জানিয়েছিল, দুটি ট্রফি তৈরি করা হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন দলকে একটি দিয়ে দেওয়া হবে, আরেকটি থাকবে বিসিবিতে। এটিই আপাতত বিপিএলের স্থায়ী ট্রফি হবে।
দুই অধিনায়ক ট্রফি উন্মোচনের পর ওড়ানো হয় কনফেত্তি। মাঠের চারপাশ থেকে ছড়ানো হয় কালার স্মোক। রঙিন ধোঁয়া ছেয়ে যায় গোটা মাঠ।

উন্মোচনের পর দর্শকদের কাছ থেকে দেখানোর জন্য একটি কার্টে করে গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করা হয় ট্রফি নিয়ে। গ্যালারির হাজার দশেক দর্শক ছিলেন তখন। গোটা মাঠ ঘোরানোর পর গ্র্যান্ড স্টান্ডের সামনে কিছুক্ষণ রাখা হয় ট্রফিটি।
ট্রফি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতার পর মাঠে ছিল ছোট্ট সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে পারফর্ম করেন নাট্যশিল্পী তানজিন তিশা ও সামান্থা পারভেজ।
বিপিএলের দ্বাদশ আসর এটি। ফাইনাল ম্যাচটি শুরু সন্ধ্যা ৬টায়।