ম্যাচ হেরে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কের যে আক্ষেপ

নিজেদের ঘাটতির কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিক ভালো বোলিংয়ের প্রশংসা করলেন নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক টিম সাউদি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকসিলেট থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Dec 2023, 12:41 PM
Updated : 2 Dec 2023, 12:41 PM

'সমস্যা নেই, আমরা অপেক্ষা করি'- সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখে কয়েকবার এই কথা বললেন টিম সাউদি। বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ের মুহূর্তে চোখ রাখতে তখন ব্যস্ত সংবাদকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলন শুরুর জন্য বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করা নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক পরে শোনালেন একটি আক্ষেপের কথা। মাঠে লম্বা সময় তারা পারেননি বাংলাদেশের ওপর চাপ ধরে রাখতে!

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫০ রানে হেরে শুরু হয়েছে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে নিউ জিল্যান্ডের যাত্রা। স্বাগতিকদের নিখুঁত বোলিং-ফিল্ডিংয়ের তেমন জবাবই দিতে পারেনি সাউদির নেতৃত্বাধীন দল।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন কেন উইলিয়ামসন, দ্বিতীয়বারে ড্যারিল মিচেল পেয়েছেন পঞ্চাশের দেখা। বাকিরা থিতু হতে পারেননি উইকেটে। বাংলাদেশের বোলারদের টানা ভালো জায়গায় বোলিংয়ের সামনে দিয়ে এসেছেন নিজের উইকেট।

ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তাইজুল ইসলাম। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন নাঈম হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজরা। কিউইরাও খেলতে নেমেছিল তিন স্পিনার নিয়ে। কিন্তু ইশ সোধি, এজাজ প্যাটেলরা ঠিক কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের।

বড় পরাজয়ের পর তাই টানা ভালো বোলিং করতে না পারার আক্ষেপই প্রকাশ করলেন সাউদি।

"বাংলাদেশের বোলাররা লম্বা সময় ধরে আমাদের ওপর চাপ ধরে রাখতে পেরেছে। আমরাও ভিন্ন ভিন্ন ধাপে করেছি। তবে যথেষ্ট লম্বা সময়ের জন্য করতে পারিনি। আর ব্যাটিংয়ে সবসময় জুটি গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হয়।”

"শান্তর ইনিংসটা দুর্দান্ত ছিল। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। দল হিসেবে (আমাদের) পেছন ফিরে দেখার মতো অনেক কিছু আছে। সবসময় উন্নতির কথা চিন্তা করতে হয়। আশা করছি, এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।" 

পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে সিলেটের উইকেটকে 'ভালো' বলেন সাউদি। পরে সংবাদ সম্মেলনেও এক প্রশ্নের জবাবে উইকেটের প্রভাবের চেয়ে বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্বটাই বড় করে দেখালেন কিউই অধিনায়ক।

"বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ বোলিং করেছে। তারা নিখুঁত ছিল। তারা যেভাবে বোলিং করেছে... আমরা জানতাম বিশ্বের এই প্রান্তে ম্যাচ যত এগোবে, ব্যাটিং তত কঠিন হবে, টার্ন বাড়বে, বাউন্সের তারতম্য হবে। পেছন ফিরে তাকালে মনে হবে, কিছু জুটির প্রয়োজন ছিল। আর বল হাতে যেটা বললাম, লম্বা সময় চাপ ধরে রাখার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে ছিলাম।"

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রের চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয় আসর শেষ করে ছয় নম্বরে থেকে। তাই নতুন চক্রে নামার আগে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদের কথা জানায় তারা। সেই অভিযানে শুরুতেই ধাক্কা খেল তারা। এখান থেকে দ্রুত শিক্ষা নিয়ে পরের টেস্টে ভালো কিছুর আশা সাউদির।

"আমার মতে, সবসময় শেখার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে, উন্নতি করে যেতে হবে। আমরা এই ম্যাচের পর্যালোচনা করব এবং কিছু দিনের মধ্যেই আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমরা জানি, ক্রিকেট খেলার জন্য এটি চ্যালেঞ্জিং জায়গা। আমার মনে হয়, সব ক্ষেত্রে লম্বা সময় ধরে আমাদের ভালো খেলতে হবে।"