১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই মৌসুমে ৫৪ কোটি রুপির প্রতিদান কতটা দিতে পারলেন পান্ত

আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন দুই মৌসুমেই, মুখ থুবড়ে পড়েছে তার দলও।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 May 2026, 04:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

সঞ্চালক গ্রায়েম সোয়ান জানতে চাইলেন, “রিশাভ, মৌসুমের সমাপ্তি… প্রাথমিক ভাবনা?” প্রশ্ন শুনে মাথা নাড়িয়ে হাসলেন রিশাভ পান্ত। কিন্তু সেই হাসিতে মিশে থাকল আক্ষেপ, চোখেমুখেও হতাশা। অনেকটা অসহায়ত্বের কণ্ঠেই লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক বললেন, “প্রাথমিক ভাবনা… এটা কঠিন… নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন…!”

পরিস্থিতি আসলেই কঠিন এবং তা না বোঝার কারণ নেই। আইপিএলে যে কোনো দলের জন্যই প্লেঅফে উঠতে না পারা মানেই ব্যর্থতা। সেখানে পান্তের লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস পয়েন্ট তালিকায় ১০ দলের মধ্যে আছে সবচেয়ে তলানিতে! 

দলের সেই বাজে পারফরম্যান্সের জন্য সবার আগে আঙুল ওঠার কথা পান্তের দিকেই। দলের অধিনায়ক তিনি, এটা বড় কারণ তো বটেই। আরেকটি বড় কারণ, তার পারিশ্রমিকও। আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটার তিনি।

এমনিতে পারিশ্রমিক দিয়ে পারফরম্যান্সকে বিচার করা কাম্য নয় কখনোই। তবে পান্তের টাকার অঙ্ক এতটাই চোখধাঁধানো যে, প্রসঙ্গটি উঠবেই।

২০২৫ আইপিএলের নিলামে তাকে ২৭ কোটি রুপিতে দলে নেয় লাক্ষ্নৌ। এবারও তাকে ধরে রাখা হয় সেই একই অঙ্কে। দুই মৌসুম শেষে প্রশ্নটি উঠতে বাধ্য, ৫৪ কোটি রুপির প্রতিদান কতটা দিতে পারছেন পান্ত।

তার নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কথা বললে, প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ব্যবধান আকাশ-পাতাল। গত আসরে ১৩ ইনিংসে রান করতে পেরেছিলেন তিনি মাত্র ২৬৯। এর মধ্যে এক ইনিংসেই করেছিলেন ১১৮। গতবারের চেয়ে এবার একটু ভালো করতে পেরেছেন। ১৩ ইনিংস খেলে রান এবার ৩১২। তবে প্রত্যাশার কথা বললে, এই পারফরম্যান্সকে বলা যায় পর্বতের মূষিক প্রসব। 

সেই ২০১৬ সালে আইপিএলের অভিষেক মৌসুমে ১৯৮ রান করেছিলেন পান্ত। এরপর আইপিএলে খেললেন আরও ৮ মৌসুম। সবচেয়ে বাজে দুটি মৌসুম কাটালেন এই লাক্ষ্নৌর হয়েই।

লাক্ষৌর হয়ে দুই মৌসুমে তার মোট রান ৫৮১। ২৬ ইনিংস খেলে সেঞ্চুরি ১টি, ফিফটি মোটে ২টি। ব্যাটিং গড় ২৬.৪, স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৭৪। তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেকটাই ফিকে এই পারফরম্যান্স।

যেহেতু পারিশ্রমিক তার ক্ষেত্রে দারুণ প্রাসঙ্গিক, সেখানে টাকার অঙ্কের সঙ্গে বিচার করা যায় এভাবে, দুই মৌসুমে প্রতি কোটি রুপিতে রান করেছেন তিনি ১০.৭৫।

পান্তকে এত উচ্চ পারিশ্রমিকে নেওয়ার একমাত্র কারণ অবশ্যই তার ব্যাটিংই নয়। তিনি কিপার-ব্যাটার, ভারতীয় এবং অধিনায়ক। সব মিলিয়ে এটা আকর্ষণীয় প্যাকেজ। তার কিপিং, নেতৃত্ব, এমন একজন ভারতীয় ক্রিকেটারের ঘাটতি, বিজ্ঞাপনের বাজার, ব্র্যান্ড ভ্যালু সব মিলিয়েই তাকে নিতে মরিয়া ছিল লাক্ষ্নৌ। তাদের চাওয়া ছিল এমন একজন ক্রিকেটার ও নেতা, যাকে ঘিরে দারুণ একটি দল গড়ে তোলা যাবে লম্বা সময়ের জন্য।

বাস্তবে হয়েছে উল্টো। গত মৌসুমে ১০ দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছিল লাক্ষ্নৌ। এবার দশম। পান্তকে ছেড়ে দিয়ে নতুন কিছু ভাববে কি না দল, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এখনই। 

উত্তরটা মিলবে হয়তো ভবিষ্যতে। আপাতত এই মৌসুম শেষে হতাশার কথা জানানোর পাশপাশি শেখার কথাও বললেন পান্ত। 

“প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া… এটা কঠিন। তবে যা-ই ঘটুক না কেন, কঠিন পরিস্থিতিটা আমাদের হজম করে নিতেই হবে। আমরা মাথা উঁচু করে রাখব। ভালো হোক বা খারাপ, সব কিছু থেকেই অনেক শেখার আছে। দল হিসেবে আমাদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে একটা কঠিন মৌসুম।”

সামনের মৌসুমে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যায়ও শোনা গেল তার কণ্ঠে। 

“কখনও কখনও দায়বদ্ধতা ছাড়া কোনো ধারণা বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে, ভালো-মন্দ নির্বিশেষে সঠিক জিনিসের ওপর মনোযোগ রাখতে হয় এবং সঠিক পথে চলতে হয়। সবকিছু মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

“মৌসুমটা অনেক দীর্ঘ ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা মাথা উঁচু রাখছি এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যা-ই ঘটুক না কেন, আগামী বছর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।”