পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া
Published : 31 Jan 2026, 08:24 PM
আগ্রাসী ব্যাটিয়ে দলকে সামনে থেকে পথ দেখালেন অধিনায়ক সালমান আলি আগা। সঙ্গে উসমান খানের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে প্রায় দুইশ রানের সংগ্রহ গড়ল পাকিস্তান। পরে স্পিনারদের চমৎকার বোলিংয়ে সফরকারীদের গুঁড়িয়ে রেকর্ড গড়া জয় তুলে নিল স্বাগতিকরা।
লাহোরে শনিবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানে জিতেছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সংস্করণে যা তাদের সবচেয়ে বড় জয়। ২০১৮ সালে ৬৬ রানের জয় ছিল আগের রেকর্ড।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সালমান ও উসমানের ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ২০১৮ সালে করা ১৯৪ রান ছিল তাদের আগের সর্বোচ্চ। দুইবার করেছিল তারা ১৯১ করে রান।
তিনে নেমে চারটি ছক্কা ও আটটি চারে ৪০ বলে ৭৬ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন সালমান। ৩৬ বলে ৫৩ রান করতে দুটি ছক্কা ও চারটি চার মারেন উসমান।
রান তাড়ায় পাকিস্তানের স্পিনারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে ১০৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের সবকটি উইকেটই পড়ে স্পিন বোলিংয়ে।
স্রেফ ১৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। সমান তিনটি উইকেট নিতে ২৬ রান খরচ করেন আরেক লেগ স্পিনার শাদাব খান। দুটি প্রাপ্তি অফ স্পিনার উসমান তারিকের। অফ স্পিনে সাইম আইয়ুব ও বাঁহাতি স্পিনে মোহাম্মাদ নাওয়াজ একটি করে শিকার ধরেন।
টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত বছর পর টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল তারা। ২০১৮ সালে তিন ম্যাচের সিরিজে তাসমান সাগর পারের দলটিকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে হারায় পাকিস্তান। ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন সালমান। চতুর্থ ওভারে ম্যাথু কুনেমানকে ছক্কার পর মারেন টানা দুই চার। পরের ওভারে শন অ্যাবটকে হাঁকান একটি করে চার ও ছক্কা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কুপার কনোলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান সাইম আইয়ুব (৪টি চারে ২৩)। ভাঙে ৫৫ রানের জুটি। বাবর আজমকে টিকতে দেননি অ্যাডাম জ্যাম্পা।
উসমানকে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি গড়েন সালমান। এই সময় ২৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। অ্যাবটের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়ে শেষ হয় তার ইনিংস।
সালমানের বিদায়ের পর দলের রান বাড়ানোর দায়িত্ব নেন উসমান। কুনেমানের পর ম্যাথু শর্টকে ছক্কায় ওড়ান তিনি। তাকে সঙ্গ দেন শাদাবও। শর্টের পর জেভিয়ার বার্টলেটকে ছক্কা হাঁকান তিনি।
শেষ ওভারের প্রথম বলে চার মেরে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন উসমান, ৩৫ বলে। পরের বলে তিনি বিদায় নিলে ভাঙে ৬৩ রানের যুগলবন্দি। দুটি ছক্কা ও একটি চারে ২০ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন শাদাব। দুই চারে ৩ বলে ৯ রান করেন নাওয়াজ।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলে উইকেট কিপার ও স্লিপের মাঝ দিয়ে চার পান মিচেল মার্শ। ওই ওভারের শেষ বলে নাসিম শাহকে চার হাঁকান ট্রাভিস হেড। ইনিংসে ওই একটি ওভারই পেসার দিয়ে করায় পাকিস্তান।
সাইমের পর আবরারকে ছক্কায় ওড়ান মার্শ। আবরারকে সুইপ করেই এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিনের ৩৫ রানের বেশি করতে পারেননি তাদের কেউ।
চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে হেডকে বিদায় করে দেন সাইম। পরের ওভারে জশ ইংলিশকে এলবিডব্লিউ করেন দেন আবরার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাইমকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন গ্রিন।
বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার দিন ভালো করতে পারেননি ম্যাট রেনশ। নাওয়াজের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি স্রেফ ২ রান করে। কুপার কনোলি করতে পারেন কেবল এক রান।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্ত ধরে রাখা গ্রিনকে ফেরান উসমান তারিক। ৩ চারে ২৭ রান করা শর্ট আবরারের শিকার। ১০ রানে শেষ ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ রোববার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (সাহিবজাদা ৫, সাইম ২৩, সালমান ৭৬, বাবর ২, উসমান ৫৩, শাদাব ২৮*, নাওয়াজ ৯*; বার্টলেট ৪-০-৫২-১, কুনেমান ৪-০-৪০-১, কনোলি ৪-০-৩০-১, অ্যাবট ৩-০-৩৩-১, জ্যাম্পা ৪-০-২৭-১, শর্ট ১-০-১৬-০)
অস্ট্রেলিয়া: ১৫.৪ ওভারে ১০৮ (মার্শ ১৮, হেড ৪, গ্রিন ৩৫, ইংলিস ৫, রেনশ ২, কনোলি ১, শর্ট ২৭, বার্টলেট ১০, অ্যাবট ০, কুনেমান ২, জ্যাম্পা ৩*; নাসিম ১-০-৯-০, সাইম ৩-০-৩২-১, আবরার ৩-০-১৪-৩, নাওয়াজ ২-০-১১-১, শাদাব ৪-০-২৬-৩, উসমান ২.৪-০-১৬-২)
ফল: পাকিস্তান ৯০ রান জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সালমান আলি আগা
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-০তে এগিয়ে পাকিস্তান