১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকাপের ভাবনায় ইংল্যান্ডের ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ পিটারসেন

ইংলিশ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে থাকার কথা বলেছেন কেভিন পিটারসেন।

বিশ্বকাপের ভাবনায় ইংল্যান্ডের ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ পিটারসেন
কেভিন পিটারসেন। ছবি: আইসিসি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 07:53 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

ইংলিশ ব্যাটিং গ্রেট কেভিন পিটারসেনের জন্ম, বেড়ে ওঠা, ক্রিকেটের হাতেখড়ি; সবই দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে তার জ্ঞানকে আগামী বছরের বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে চায় ইংল্যান্ড। তাই সাদা বলের দলের কোচিং স্টাফে তাকে যোগ করেছে তারা।

পিটারসেনকে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আর এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার ‘বিতর্কিতভাবে’ শেষ হওয়ার ১২ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো দায়িত্বে ফিরতে যাচ্ছেন পিটারসেন।

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কোচিং স্টাফে পিটারসেনের দায়িত্ব শুরু হবে চলতি মাসের শেষ দিকে। তখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলবে ইংল্যান্ড।

আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের পরামর্শক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে পিটারসেনের। ২০২৩ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অল্প সময়ের জন্য ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের নিয়েও কাজ করেন তিনি।

২০১৮ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ করার পর মূলত ধারাভাষ্যকার হিসেবেই কাজ করেছেন পিটারসেন। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারত সফরে ইংল্যান্ডের অনুশীলনের ঢিলেঢালা মনোভাব নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। তার সেই সমালোচনাকে ম্যাককালাম ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসিবি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পিটারসেনকে নিয়োগ দেওয়ার অন্যতম কারণ তার স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা।

“দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়ে ওঠায় পিটারসেনের জ্ঞান ও বোঝাপড়া ওয়ানডে দলকে সহায়তা করবে। কারণ দলটি আগামী বছরের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যা দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।”

অক্টোবরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে থাকবেন না পিটারসেন। তবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি। এরপর বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজেও কাজ করবেন। ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি ম্যাককালামের কোচিং স্টাফে থাকবেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক সতীর্থ মার্কাস ট্রেসকোথিকের সঙ্গে কাজ করবেন পিটারসেন। কোচিং স্টাফে তাদের সঙ্গে থাকবেন টিম সাউদি, জিতান প্যাটেল ও সারাহ টেইলর।

এক দশকের বেশি সময় আগে পিটারসেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ইংলিশ ক্রিকেট। তখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বলেছিলেন পিটারসেন ও ইসিবির মধ্যে ‘বিশাল আস্থার সংকটের’ কথা। একই সময়ে স্ট্রাউস জানিয়েছিলেন, সাদা বলের ক্রিকেটে ‘পরামর্শক’ হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পিটারসেন। আর এখন যে দায়িত্বই তিনি নিতে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিতর্কিত সমাপ্তি হলেও, ইংলিশ অনেক ক্রিকেটারের কাছেই নায়ক ও আদর্শ পিটারসেন। তাদের মধ্যে আছেন হ্যারি ব্রুক, টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। আগামী ১৫ মাস তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন পিটারসেন। যে কাজ শুরু করতে তর সইছে না তার।

“দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জিততে এই দলের যাত্রায় সহায়তা করার জন্য আমাকে ডাকায় আমি ভীষণ গর্বিত। ২০১৪ সালের পর প্রথমবার ইংল্যান্ডের জার্সি পরা আমার জন্য গভীর সম্মানের এবং অত্যন্ত বিশেষ একটি মুহূর্ত।

“আমাদের সাদা বলের দলটি অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে, তাদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী ১২ মাস ব্রেন্ডনের ‘থিংকট্যাংকের’ অংশ হতে পারা দারুণ একটি সুযোগ। কাজ শুরু করার জন্য আর তর সইছে না।”

২০০৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৪ বার পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছেন পিটারসেন ও ম্যাককালাম। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে দুই মৌসুম সতীর্থ ছিলেন তারা। এবার কোচিংয়ে পিটারসেনকে পাশে পেয়ে ভালো লাগছে ম্যাককালামের।

“কেপি (পিটারসেন) এবং ক্রিকেটে তার অর্জনের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে। ইংলিশ ক্রিকেটে তার অসাধারণ প্রভাব রয়েছে। তার মতো অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মর্যাদাসম্পন্ন একজন এই দলের সঙ্গে ভূমিকা রাখতে চাওয়াটা দারুণ ব্যাপার।

“বিশেষ করে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে- এটা নিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে কী প্রয়োজন, সে বিষয়ে কেপির অনন্য ধারণা আছে। আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য এটা অত্যন্ত মূল্যবান হবে। আমরা সব সময় পরস্পরকে সম্মান করেছি এবং ক্রিকেটে আরেকজন কী নিয়ে আসে, এটা প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা আছে। তাই একসঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি।”