১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কার্সের ঘটনায় ভীষণ বিরক্ত রুট

ইংলিশ অধিনায়কের মতে, কার্সের এই ঘটনা দলকে নতুন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে।

কার্সের ঘটনায় ভীষণ বিরক্ত রুট
জো রুট। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 10:47 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

ব্রাইডন কার্সের মাঠের বাইরের ঘটনায় ইংল্যান্ড দলের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সতীর্থদের বারবার এমন বোকামি দেখে ভীষণ বিরক্ত জো রুট। দলের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এনে মাঠ ও মাঠের বাইরে নিজেদের আচরণে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে চান ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক।

ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ডারহামের জয় উদযাপন করতে গত শনিবার রাতে ডার্বির একটি নাইটক্লাবে যান কার্স। পরদিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নাইটক্লাবের বাইরে হাতকড়া পরা অবস্থায় পেছন দিকে হাত বাঁধা কার্সকে ঘিরে রেখেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার নিশ্চিত করা হয়, মাতাল ও বিশৃঙ্খল আচরণের সন্দেহে ইংলিশ পেসারকে অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করে তারা। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ক্রিকেট রেগুলেটর তদন্ত করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের দল থেকে কার্সকে বাদ দেয় ইংল্যান্ড।

ওই ভিডিওতে কার্সের ইংল্যান্ড দলের সতীর্থ ম্যাথু পটস ও সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসকেও দেখা যায়। এই তিন জনই ডারহামের হয়ে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে শনিবার শেষ হওয়া ম্যাচে খেলেছেন।

স্টোকসের অবসরের পর রুটকে আবারও টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজ দিয়ে নেতৃত্বের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেছেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে দল দুটির দ্বিতীয় টেস্ট। এই ম্যাচের ভেন্যু লর্ডসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্সের কাণ্ড নিয়ে কথা বলেন রুট। 

“সত্যি বলতে আমি ভীষণ বিরক্ত। খুবই হতাশ যে, গত সপ্তাহের (চমৎকার) পারফরম্যান্সের পর, আজ এখানে বসে এমন কিছু নিয়ে কথা বলছি, যার সঙ্গে মাঠের খেলার কোনো সম্পর্কই নেই। ঘটনাটির বিষয়ে বলতে গেলে, এটা এখন রেগুলেটরের তদন্তাধীন। তাই এটা নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার নেই। এটা এখন তাদের হাতে।”

ঘটনাটি জানার পরই কার্সের সঙ্গে কথা বলেন রুট। তিনি জানান, ওই সময় কার্সকে ভীষণ অনুতপ্ত মনে হয়েছে তার কাছে।

“ব্রাইডনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যখন প্রথম ঘটনাটি জানতে পারি, ব্যক্তি ব্রাইডনের কথা সবার আগে ভাবছিলাম আমি। কারণ সে এমন একজন যার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি এবং সে আমাদের এই ড্রেসিংরু মের অংশ।

“খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই আমার মনে হয় না এখন এটা বলা ভুল হবে যে সে খুবই হতাশ, খুবই অনুতপ্ত এবং নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। সুযোগ পেলে সে নিজেই নিশ্চয়ই এ কথা বলবে।”

ইংলিশ ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। এই গ্রীষ্মে রাতে মদ্যপান-সংক্রান্ত ঘটনায় তদন্তের মুখে পড়ে টেস্ট মিস করা ইংল্যান্ডের তৃতীয় ক্রিকেটার কার্স। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে নাইটক্লাব-কাণ্ডে একই পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তখনকার অধিনায়ক স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কদিনের মধ্যে হঠাৎ করেই অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। পরে নেতৃত্ব পান রুট।

একের পর এক এমন সব ঘটনা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মনে করছেন রুট।

“এটা বিচ্ছিন্ন কোনো একক ঘটনা নয়। মূল কথা হলো, আমরা মাঠের বাইরে বারবার এমন বোকামি করছি, যা আমাদের মাঠের পারফরম্যান্সকে ম্লান করে দিচ্ছে।”

দায়িত্ব নেওয়ার পর রুটের প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল দল থেকে মধ্যরাতের কারফিউ তুলে দেওয়া। সতীর্থদের ‘পরিণত ও দায়িত্বশীল’ মানুষের মতো আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

তার সেই ডাকে সবাই সাড়া না দিলেও, মঙ্গলবার আবারও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন রুট।

“আমি এখনও বিশ্বাস করি না, এটা (কারফিউ দেওয়া) সঠিক পথ। আমাদের এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করা গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব এবং পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিতে পারব, যাতে তারাও সেটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং গর্ব করতে পারে।”

নাইটক্লাবের ওই ঘটনার সময় কার্স ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে না থাকলেও, ইসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার তিনি। তার সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেটা চলমান তদন্তের ওপর ছেড়ে দেন রুট।

তবে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটিং গ্রেট মনে করেন, নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করার ‘দায়িত্ব ও সুযোগ’ খেলোয়াড়দের হাতেই রয়েছে। তার মনে হচ্ছে, কার্সের এই ঘটনা নতুন প্রধান কোচ স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের দায়িত্বে দলকে নতুন এক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে।

“আমি বলতে চাই, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ এখন আমাদের সামনে এসেছে। এটা স্পষ্ট যে, আমরা যেভাবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই, তা হচ্ছে না। আমার মনে হয়, আমরা এমন এক শক্তিশালী দলগত সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি, যা খেলোয়াড়দের উদ্যোগেই হবে এবং যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব।

“অবশ্যই এটা রাতারাতি হবে না। আমরা ইতোমধ্যে দল হিসেবে আলোচনা করেছি- এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হয়, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার অর্থ কী এবং ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে কী প্রয়োজন। তবে আমরা এমন কিছু তৈরি করতে চাই, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব এবং যারা আমাদের অনুসরণ করেন, তারাও গর্ব করতে পারবেন।”

হেডিংলিতে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড।