Published : 13 Sep 2026, 01:09 PM
মাঠের বাইরে একের পর এক বিতর্ক, মাঠের ভেতরে পড়তি পারফরম্যান্স। অধিনায়কের আচমকা অবসর, কোচ পরিবর্তন। অনেক প্রশ্ন আর সমালোচনা। সব মিলিয়ে এবারের মৌসুম ইংল্যান্ডের জন্য ছিল চরম অস্থির। মৌসুমের শেষ ভাগটায় অবশ্য মেলেছে স্থিরতা ও ধরা দিয়েছে সাফল্য। ইংলিশ গ্রীষ্মের শেষে পেছন ফিরে তাকিয়ে টেস্ট অধিনায়ক জো রুট বলছেন, ভজকট সময়টা থেকেই শিক্ষা নিয়ে সামনে চলার দিশা পেয়েছে তার দল।
পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে শেষ হয়েছে এবারের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের টেস্ট অভিযান। মৌসুমের শুরুটাও ছিল তাদের জয় দিয়েই। বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজে বিধ্বস্ত হওয়ার পর গুছিয়ে ওঠার শুরুটা করে তারা নিউ জিল্যান্ডকে সিরিজের প্রথম টেস্টে হারিয়ে। এরপরই বিপত্তির শুরু। দলীয় প্রটোকল ভেঙে আলোচনায় উঠে আসেন অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন।
সেই বিতর্কের জের ধরে এক টেস্ট বাইরে থাকতে হয় ওই দুই ক্রিকেটারকেই। স্টোকসের অবসরের গুঞ্জনও শোনা যায়। তবে সেটি উড়িয়ে দিয়ে কিউইদের বিপক্ষে শেষ টেস্টে ফেরেন স্টোকস। কিন্তু ওই টেস্টের মাঝেই হুট করে জানিয়ে দেন অবসরের ঘোষণা। জয় দিয়ে শুরু করা সিরিজ হেরে বসে ইংল্যান্ড।
নতুন অধিনায়ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহলের মধ্যে রুটকে আবার ফেরানো হয় দায়িত্বে। টেস্ট কোচের দায়িত্ব থেকে ছাঁটাই করা হয় ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। বহু আলোচিত ‘বাজবল’ ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিও ঘটে তাতে। নতুন টেস্ট কোচের দায়িত্ব পান স্টিভেন ফ্লেমিং। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে কাজ চালানোর ভার পান সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিক।
এর মধ্যেই মাঠের বাইরের বিতর্কে ছিটকে পড়েন ব্রাইডন কার্স, যিনি গত অ্যাশেজে ছিলেন দলের সেরা পেসার। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ও বোর্ডের তদন্ত চলছে এখনও।
এসবের মধ্যে মাঠের ক্রিকেটকে পথে ফেরাতে পারেন রুট ও ট্রেসকোথিক জুটি। যদিও প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ছিল বেশ দুর্বল ও বিতর্কে জেরবার, তবু তাদেরকে দাপটে হারিয়ে ব্যবধানটা বুঝিয়ে দিয়েছে রুটের দল।
সিরিজ শেষে রুট বললেন, পরিপার্শ্বিকতা সামলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়ায় তিনি দলকে নিয়ে দারুণ খুশি।
“একটি বল খেলা হওয়ার আগেই এই সিরিজকে ঘিরে অনেক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা মাঠের ভেতরে ও বাইরে যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছি, ক্রিকেটার হিসেবে প্রত্যেকের কাছে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং নিজেদের কীভাবে উপস্থাপন করতে চাই—এই বিষয়গুলো সবাই যেভাবে বোঝে, তা সত্যিই খুব ভালো ব্যাপার। সিরিজের শুরুতে আমাদের লক্ষ্য ছিল ৩-০ ব্যবধানের জয় এবং আমরা তা করেছি যথেষ্ট নিখুঁতভাবেই।”
মৌসুমজুড়ে যে অরাজক অবস্থা ছিল, তা মোটেও এড়িয়ে যাচ্ছেন না রুট। বরং খারাপ সময়টা থেকে পাওয়া শিক্ষা দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে বলেই মনে করেন টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সফলতম ব্যাটসম্যান।
“খুবই অস্বাভাবিক এক মৌসুম ছিল, তাই না? সম্ভবত এভাবেই বলাটা বেশি ভালো। অনেক কিছুই ঘটেছে। সিরিজের মাঝপথে একজন পদত্যাগ করেছেন, মাঠের বাইরে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে এবং আমরা একজন নতুন কোচ পেয়েছি।
এটিকে বিশৃঙ্খলা বলুন, অস্বাভাবিক বলুন বা অস্বস্তিকর বলুন, সবই উপযুক্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, যে বিষয়টি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো এর ফলাফল কী হয়। আমি মনে করি, আমরা যেভাবে সাড়া দিয়েছি, তা চমৎকার। ভবিষ্যতে দলের কাছে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে যে এখন একটি সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে, তা বেশ পরিষ্কার এবং আমরা এখন এর ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যাব।”
ইংল্যান্ড এখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। রুটের টেস্ট দলের পরের সিরিজ ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায়।