Published : 25 Dec 2025, 08:10 AM
বিপিএলের সঙ্গে মোহাম্মদ আমিরের সম্পর্ক একদম নিবিড়। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে এই টুর্নামেন্ট দিয়েই তিনি ফিরেছিলেন ক্রিকেটের মূল স্রোতে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ত তারকা অবশ্য পরে নিয়মিত খেলতে পারেননি বাংলাদেশের এই টুর্নামেন্টে। তবে ৩৩ বছর বয়সী পেসার এবার সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ গোটা মৌসুমের জন্যই। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি পেসার বললেন এই টুর্নামেন্টের প্রতি তার অনুরাগের কথা। পাশাপাশি তিনি কথা বললেন তার ক্যারিয়ার, প্রাপ্তি-আক্ষেপ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অকাল অবসর, ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ আরও অনেক ব্যাপারে।
এই নিয়ে পঞ্চমবার বিপিএল খেলতে এলেন। আইপিএল ছাড়া অন্য সব লিগই আপনি খেলেছেন। বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা কেমন আপনার কাছে?
মোহাম্মদ আমির: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বিপিএল আমার জন্য অনেকটা 'লাকি চার্ম'-এর মতো। সবসময় এটা বিশ্বাস করি। কারণ পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যখন জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে ছিলাম, তখন বিপিএলই ছিল প্রথম লিগ, যেখানে খেলেছিলাম। সেখানে আমি ভালো করি এবং পাকিস্তান জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাই।
বিপিএল দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। সত্যি বলতে, এ বছর যদিও খুব বেশি দল নেই, কিন্তু চারপাশে সুযোগ-সুবিধার যে মান দেখছি, তা দিন দিন ভালো হচ্ছে। এটি ক্রিকেটের জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি খুব ভালো ব্যাপার। কারণ তারা ক্রিকেট ভীষণ ভালোবাসে।
বিদেশের বড় তারকারা যখনই সুযোগ পান, এখানে এসে খেলতে চান। অতীতের কথা বললে এবি ডি ভিলিয়ার্স খেলেছেন, ক্রিস গেইল, ম্যাককালাম, অ্যালেক্স হেলস... সবাই এখানে খেলেছেন। এছাড়া আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড, শহিদ আফ্রিদি, স্টিভ স্মিথও এসেছেন। এর মানে হলো, ক্রিকেটের মান এখানে অনেক উন্নত। সবাই বিপিএলে খেলতে চায়।
আপনি বলছিলেন, নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর বিপিএলই ছিল আপনার প্রথম লিগ। নিশ্চয়ই হৃদয়ে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে এটি?
আমির: হ্যাঁ, শতভাগ। এটিই ছিল আমার খেলা প্রথম লিগ, একদম প্রথম লিগ। ২০০৯-এর আগে আমি আর কোনো ক্রিকেট লিগ খেলিনি। বিপিএলই ছিল আমার প্রথম আন্তর্জাতিক লিগ। তাই এটি সবসময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি।
সবশেষ যখন বিপিএল খেলেছেন (২০২৩), সিলেট স্ট্রাইকার্সে খেলেছিলেন। এবার সিলেটেরই আরেকটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলবেন। দলটিকে কেমন মনে হচ্ছে?
আমির: সত্যি বলতে, আমাদের দলটা সিলেট টাইটান্স দারুণ। মেহেদী হাসান মিরাজকে খুব ভালোভাবে চিনি। অসাধারণ ক্রিকেটার, অনেকদিন ধরে বাংলাদেশের হয়ে খুব ভালো খেলছে। আমাদের দলের কিছু তরুণ খেলোয়াড়ও বেশ প্রতিভাবান।
পুরো দলের কথা বললে, আমাদের দলে একঝাঁক দুর্দান্ত অলরাউন্ডার আছে। এমনকি ভালো মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং নতুন বলে বল করার মতো ভালো বোলার ও ডেথ বোলারও আছে।
আমি সবসময় বিশ্বাস করি—বোলাররাই টুর্নামেন্ট জেতায়। যদি একটা ভালো বোলিং আক্রমণ থাকে, তবে টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার বড় সুযোগ থাকে। আমাদের বোলিং বিভাগ সামগ্রিকভাবে বেশ শক্তিশালী।
অনুশীলনের সময় বিভিন্ন দলের ক্রিকেটাররা বলছিল, ‘‘তোমাদের দলটা তো বেশ শক্তিশালী!’’ তবে কাগজে-কলমে দল শক্তিশালী ঠিক আছে, কিন্তু মাঠে পারফর্ম করতে হবে। ছন্দ খুঁজে পেতে হবে, কারণ শুরুটা যদি ভালো করা যায়, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টে ভালো করার সুযোগ তৈরি হয়।
তাই আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। অন্যান্য দলগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, তারাও অনেক শক্তিশালী। তবে আমাদের শুরুটা ভালো করা খুব জরুরি, কারণ প্রথম পাঁচটি ম্যাচই আমাদের ঘরের মাঠে (সিলেটে)। তাই আমাদের ভক্তদের জন্য ভালো কিছু করতে হবে। আমি দেখেছি সিলেটের ভক্তরা কতটা পাগল, তারা আমাদের অনেক ভালোবাসেন। আমাদের দায়িত্ব তাদের মুখে হাসি ফোটানো। তাই আমরা সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব।

সিলেট টাইটান্স আপনাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে। সুযোগটি কিভাবে এলো?
আমির: মেহেদী মিরাজ আমাকে ম্যাসেজ পাঠিয়েছিল। সে জানতে চেয়েছিল, বিপিএলের পুরোটা সময় আমাকে পাওয়া যাবে কি না। সবশেষ বিপিএলে খেলেছিলাম সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে, তাই ভাবলাম কেন নয়! মিরাজ ম্যাসেজ পাঠানোর পর আমাদের দলের মালিক আমাকে কল করেছিলেন। তিনি খুবই ভালো মানুষ এবং বিনয়ী মানুষ।
তাকে ধন্যবাদ আমাকে সাইন করানোর জন্য। কারণ দিনশেষে একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়াটা মালিকপক্ষের সম্মানের বিষয়। তো হ্যাঁ, তাকে ধন্যবাদ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লিগে আপনি নিয়মিত খেলছেন। সেসবের তুলনায় বিপিএলকে কোথায় রাখবেন?
আমির: এখানকার কন্ডিশন বা পারিপার্শ্বিকতা খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে সিলেট এবং চট্টগ্রাম হলো ব্যাটিং স্বর্গ, যা বোলারদের জন্য বেশ কঠিন। আবার মিরপুরে খেলা হলে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই এখানে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে হয়। আমার মনে হয় এটাই বিপিএলকে আকর্ষণীয় করে তোলে। কারণ, তিনটি ভিন্ন ভেন্যু এবং তাদের রানের ধরণও আলাদা।
যদি সিলেট এবং চট্টগ্রামের কথা বলেন, সেখানে গড় রান ১৭০ থেকে ১৮০ হয়। কিন্তু ঢাকায় এটি নেমে আসে ১৪০, ১৫০ বা ১৬০-এ। এই যে আলাদা আলাদা কন্ডিশন, এটি একজন ক্রিকেটারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, আর এটাই বিপিএলকে অন্য লিগগুলো থেকে আলাদা করে তোলে।
বেশ আগেই আপনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। এখন শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই খেলছেন। কতটা উপভোগ করছেন ক্যারিয়ারের এই অধ্যায়? কাজটা কি কঠিনও নয়?
আমির: সত্যি বলতে, খুব উপভোগ করছি। এমনকি আমার মনে হয়, আগের চেয়ে আমি এখন অনেক বেশি ফিট। এই মুহূর্তে নিজের ক্রিকেট সত্যিই উপভোগ করছি। আমি যেখানেই যাচ্ছি বা খেলছি, ভালো করছি এবং দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয়, আগামী তিন-চার বছর এভাবেই ক্রিকেট উপভোগ করে যাব।
হ্যাঁ, একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে কাজটা কঠিন। কারণ ইদানীং এত বেশি লিগ আর এত বেশি ক্রিকেট হয় যে, রিকভারির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। এই যেমন সম্প্রতি আমি টি-টেন ক্রিকেট খেলেছি, তার মাত্র ১০-১৫ দিন পরই এখানে চলে এসেছি। এটি তাই কঠিন, তবে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নিজের যত্ন নিতেই হবে।
আমি বিশ্বাস করি, একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে এটি আমার এবং অন্যান্য সিনিয়রদের দায়িত্ব যে, আমরা আমাদের বোধ বা অভিজ্ঞতা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেব এবং নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখব।
নিষিদ্ধ হওয়ার আগে আপনি দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন, অনেক সম্ভাবনা ছিল। এখন পেছন ফিরে তাকালে কি আক্ষেপ হয়?
আমির: হ্যাঁ, অবশ্যই… অবশ্যই কাজ করে। কারণ যখন আমার বয়স মাত্র ১৭-১৮ বছর, সেই সময় থেকে আমার ক্যারিয়ারের সেরা পাঁচটি বছর আমি হারিয়েছি। নিশ্চিতভাবেই খারাপ লাগে। এমনকি ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরেও আমার ওই পাঁচটি বছর নিয়ে সবসময় আফসোস থাকবে। আমি যদি তখন খেলতে পারতাম, তবে আমার ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান হয়তো অন্যরকম হতে পারত। আমি পাকিস্তানকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করতে পারতাম, আরও অনেক উইকেট বা সাফল্য থাকতে পারত।
হ্যাঁ, ছোট্ট করে বলতে গেলে অবশ্যই অনুশোচনা করি, কারণ ওটাই ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা সময়।
বিভিন্ন লিগে আপনার পারফরম্যান্স তো যথেষ্টই ভালো। আবার জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছে আছে?
আমির: না, আর নয়। আমার অধ্যায় শেষ। আমি আগেই বলেছি, লিগ ক্রিকেট খুব উপভোগ করছি। আগামী তিন-চার বছর এভাবেই (ফ্র্যাঞ্চাইজি) ক্রিকেটটা উপভোগ করে যেতে চাই।
কিন্তু বড় আসরগুলোতে যখন পাকিস্তানকে খেলতে দেখেন, এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বা বিশ্বকাপের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্ট, তখনও কি ইচ্ছে করে না পাকিস্তানের জার্সি গায়ে চাপানোর?
আমির: দেখুন, সবাই তো সেখানে থাকতে চায়। কিন্তু মানুষ হিসেবে এটা বুঝতে হবে যে, একটা পর্যায়ে সবারই সময় ফুরিয়ে আসবে। একদিন দেশের হয়ে খেলবেন এবং একদিন দেশের হয়ে খেলা থেকে অবসরও নিতে হবে। এটাই ক্রিকেটের স্বাভাবিক জীবন।
হ্যাঁ, আমি অবশ্যই সেই দিনগুলো মিস করি। এটা অস্বীকার করছি না, কারণ প্রত্যেকেই চায় দেশের হয়ে খেলতে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। কিন্তু আমি অন্যদিকে এটাও বিশ্বাস করি যে, দেশের হয়ে যতটুকু করেছি, নিজের সেরাটা দিয়েই করার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়েছে, এটাই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় ছিল এবং সেটাই করেছি।
জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট বা নির্বাচকদের সাথে আপনার কি কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে ফেরা নিয়ে? বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা বা প্রস্তাব দেওয়া?
আমির: না, একদমই না। তবে বর্তমান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সাথে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। কিন্তু ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে কোনো কথা হচ্ছে না।
মানে আপনি এখনকার জীবনেই খুশি?
আমির: হ্যাঁ, ওসব এখন শেষ। এখন আমার পরিবার নিয়ে খুব সুখে আছি। তিনটি চমৎকার কন্যাসন্তান আছে আমার; লিগ ক্রিকেট আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো খুব উপভোগ করছি। এখনকার জীবন নিয়ে আমি খুবই খুশি।
কিন্তু আপনার যে প্রতিভা ও সম্ভাবনা ছিল, ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনাকে বলা হতো 'পরবর্তী ওয়াসিম আকরাম' … এখন এই সময়ে এসে মনে হয় না, গ্রেট হয়ে ওঠার সব উপকরণ আপনার ছিল?
আমির: না, সত্যি বলতে আমি খুশি। আমি এমন একজন মানুষ, খুব বেশি ভাবি না যে, 'ওহ, আমার এটা থাকা উচিত ছিল' বা 'ওটা হওয়া উচিত ছিল'। আমি সবসময় বর্তমানে বাঁচার চেষ্টা করি। আমার কোনো আক্ষেপ নেই। যেমনটা বলেছি, আমার চমৎকার একজন স্ত্রী এবং কন্যারা আছে, আমি লিগ ক্রিকেট উপভোগ করছি।
আপনি যদি পরিসংখ্যান দেখেন, পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট আমার। ওয়াহাব রিয়াজের উইকেট ৪১৩টি, আমার ৪০৯টি। আমি মনে করি এটি আমার জন্য অনেক বড় একটি অর্জন। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে যাব।
নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর আপনার সেই বিধ্বংসী রূপ বা ধার, কিংবা আগের সেই জাদুকরি চেহারা দেখা গেছে কম সময়ই!
আমির: ফেরার প্রথম দুই-তিন বছর মোটেও সহজ ছিল না। খুব কঠিন ছিল। পথে অনেক বাধা এসেছিল। এমনকি কিছু খেলোয়াড় আমার সাথে খেলতে পর্যন্ত চাইত না। এই ধরণের অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী দুই-তিন বছর খুব ভালো করেছি। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে দারুণ বোলিং করেছি, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলাম।
কিন্তু পাঁচ বছর কোনো ক্রিকেট না খেলে ফেরার পর হঠাৎ করে টানা চার বছর সব ম্যাচ খেলা শুরু করায় আমার ফিটনেস এবং গতি কমতে শুরু করেছিল। তখন বুঝতে পারলাম যে, আমাকে অন্তত একটি সংস্করণ ছাড়তে হবে। কারণ একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে নিজের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। তখন আমি টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি এখন আর কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, কিন্তু তৎকালীন ম্যানেজমেন্ট আমার সিদ্ধান্তটিকে ভুলভাবে নিয়েছিল এবং এরপরই আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিই।

আপনার ক্যারিয়ারের সেরা বা শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত কোনটিকে বলবেন?
আমির: প্রথমত, ২০০৯ সালের বিশ্বকাপ (টি-টোয়েন্টি)। পাকিস্তানের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ছিল আমার এবং আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। ফাইনাল ম্যাচে লঙ্কান ওপেনার তিলাকরাত্নে দিলশানের বিপক্ষে আমি দারুণ একটি ওভার করেছিলাম এবং তাকে আউট করেছিলাম; সে সময় সে ছিল টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
আর দ্বিতীয়ত, আপনি যদি মানুষকে জিজ্ঞেস করেন, তারা সবসময় আমার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই স্পেলটির কথাই বলবে। আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় বোলিং স্পেল হলো ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।
ওই ফাইনালই কি আপনার হৃদয়ে সবচেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে থাকবে?
আমির: হ্যাঁ, শতভাগ। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলা, সেই ম্যাচে জয়ী হওয়া এবং ভারতের টপ অর্ডারের তিন সেরা ব্যাটসম্যান শিখার ধাওয়ান, রোহিত শর্মা এবং ভিরাট কোহলিকে আউট করা; এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়ার থাকতে পারে! ওটাই আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত।
ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ তো অনেক বছর ধরেই বন্ধ। এখন তো দুই দলের সম্পর্ক আরও শীতল। এশিয়া কাপে করমর্দন না করা, ট্রফি না দেওয়া, সব মিলিয়ে যা হলো… এরপর মেয়েদের ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও এসব ছড়িয়ে পড়েছে। আপনি এসবকে কিভাবে দেখেন?
আমির: আপনি যদি সত্য উত্তর চান, তবে বলব এটা একদমই ভালো কিছু নয়। বরং খুবই খারাপ। ক্রিকেটের জন্য এটি মোটেও ভালো কোনো বার্তা দেয় না। এসবকে আর যাই হোক, ক্রিকেট বলা যায় না। ক্রিকেট আমাদের এই ধরণের পরিবেশ বা আচরণ শেখায় না।
সত্যি বলতে, এশিয়া কাপে যা ঘটেছিল তা, কোনোভাবেই 'ক্রিকেট' ছিল না। যদি খেলতে চান, তবে খেলুন। আর যদি খেলতে না চান, তবে খেলবেন না। আপনি খেলতে এসেছেন, অথচ হাত মেলাচ্ছেন না, ট্রফি নিচ্ছেন না—এই ধরণের নাটক ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর।
এমনকি কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড়ও যদি এমনটা করে থাকে, সেটিও সমর্থনযোগ্য নয়। এই ধরণের কোনো কাজকেই সমর্থন করি না, কারণ এটি ক্রিকেটের স্পিরিট বা মূল সুরের পরিপন্থী। আপনি যদি ক্রিকেট খেলতে চান, তবে বুক ভরা সাহস আর স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে খেলুন। এই আচরণের শুরুটা ভারতের পক্ষ থেকেই হয়েছিল, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নয়। পাকিস্তান সবসময়ই ভালো খেলোয়াড়সুলভ আচরণ দেখিয়ে আসছে।
তারা সবসময় এটিই বোঝানোর চেষ্টা করে যে, মাঠের বাইরের বিষয়গুলো মূলত রাজনৈতিক ইস্যু। আমরা ক্রিকেটাররা এখানে মানুষকে বিনোদন দিতে এসেছি, যুদ্ধ করতে বা যুদ্ধ দেখাতে আসিনি। যদি নোংরা রাজনীতি করতেই হয়, তবে সেটি ক্রিকেটের বাইরে গিয়ে করুন, দয়া করে রাজনীতিকে ক্রিকেটের ভেতরে টেনে আনবেন না।