Published : 09 Sep 2026, 01:53 PM
গত কয়েক বছরের মধ্যে ইংলিশ ক্রিকেটের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা সম্ভবত ইংল্যান্ড দলে কেভিন পিটারসেনের ফেরা। সাদা বলের ক্রিকেটে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেব তার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যেমন রোমাঞ্চের বাতাস বইছে, তেমনি তার ব্যক্তিত্বের ধরনের কারণেই আছে শঙ্কার হাওয়াও। জো রুট অবশ্য দুর্ভাবনাগুলোকে উড়িয়েই দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কের মতে, পিটারসেনের মতো ‘খেলামেলা ও সৎ’ একজনকেই এই দলে প্রয়োজন।
খেলোয়াড়ি জীবনে পিটারসেনের ব্যাট যেমন চলত সপাটে, তেমনি চলত তার মুখও। মনের কথা মুখে ফুটিয়ে তুলতে কখনও পিছপা হননি তিনি। এজন্য বিতর্কও ছিল তার নিত্যসঙ্গী। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে তার অধ্যায় দীর্ঘ হয়নি খুব একটা। পরে বিতর্কিত ঘটনার জের ধরেই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয় সম্ভাব্য সময়ের বেশ আগেই।
খেলা ছাড়ার পর ধারাভাষ্যে বা বিশ্লেষকের ভূমিকায় ও সামাজিক মাধ্যমেও তিনি অকপট। সাধারণত কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না তিনি। এজন্যই কিছু প্রশ্ন উঠছে যে, মেন্টরের ভূমিকায় তিনি কতটা কার্যকর হবেন। বিশেষ করে, ইংল্যান্ডের এই দলের মানসিকতা, ঢিলেমি আচরণ বা এসব নিয়ে অনেকবারই কড়া সমালোচনা তিনি করেছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওভাল টেস্ট শুরুর আগে প্রশ্নটি ছুটে গেল রুটের দিকে। ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হলেও সীমিত ওভারের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি। শঙ্কা উড়িয়ে রুট বললেন, ব্যক্তিত্বের ধরনের কারণেই পিটারসেনকে ইংল্যান্ড দলে বেশি প্রয়োজন।
“আমার মনে হয়, সব ঠিকঠাকই হবে। সবারই চাওয়া থাকে, লোকে তাদের সৎ মতামত দিক। তিনি (পিটারসেন) যা বলতে চান এবং খেলাটি নিয়ে ভেতরের যেসব কথা তুলে ধরতে চান, সেসব যদি তিনি বলতে না-ই পারেন, তাহলে তাকে দলে নিয়ে লাভ কী!
খেলাটি নিয়ে তার জানাশোনা অনেক। বিশেষ করে, ব্যাটিং সম্পর্কে তার খুব ভালো ধারণা আছে এবং তার প্রাণশক্তি প্রবল। আমার মনে হয়, তিনি দলের জন্য দারুণ সংযোজন এবং তাকে দলে পেতে মুখিয়ে আছি আমি।”
ইংল্যান্ডের এখনকার দলে কেবল রুটেরই অভিজ্ঞতা আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পিটারসেনের সঙ্গে খেলার। ২০১২ সালের স্মরণীয় ভারত সফরেই দুজনের প্রথম দেখা। সেই সফরে পঞ্চম টেস্টে নাগপুরে অভিষেকে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রুট এবং পিটারসেনের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি হয়েছিল তার।
২০১৩-১৪ অ্যাশেজের পর বিতর্কের জের ধরে অনেকটা অসম্মানজনকভাবে পিটারসেনকে বাদ দেয় ইংল্যান্ডের বোর্ড। তাই তার সঙ্গে খুব বেশি খেলা হয়নি রুটের। তার পরও ১২ টেস্ট ও ৯ ওয়ানডেতে একসঙ্গে মাঠে নেমেছেন দুজন।
রুট বললেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে পিটারসেনকে তিনি আদর্শ মানতেন। ব্যাটিং সমৃদ্ধ করতে তার কাছ থেকে সহায়তাও পেয়েছিলে তিনি।
“সম্ভবত আমিই শেষ ক্রিকেটার, তার সঙ্গে খেলে যে এখনও খেলে যাচ্ছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে তার অন্তর্ভুক্তিতে সত্যিই উপভোগ করেছি।
“তিনি এমন একজন, যাকে সবসময় অনুসরণ করতাম। বিশেষ করে ভারতের সেই প্রথম সফরে, আমি নেটে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করতাম, দেখতাম তিনি কীভাবে অনুশীলন করেন, কীভাবে কাজগুলো করেন, তার কাছে পরামর্শ চাইতাম। তিনি সত্যিই খোলামেলা, সৎ ছিলেন এবং স্পিনের বিপক্ষে আমার সেরাটা বের করে আনতে দারুণ সহায়তা করেছিলেন।”