Published : 31 May 2026, 02:38 PM
ম্যাচ শেষে একটি ভিডিও পোস্ট করা হলো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সামাজিক মাধ্যমের পাতায়। রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের অনার্স বোর্ডে নিজের নামটি লিখছেন আরাফাত মানহাস নিজেই। এই অনার্স বোর্ড শুধুই এই মাঠে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারদের জন্য। তার কীর্তি আসলে আরও অনেক বড়, ওয়ানডে ইতিহাসেই যা অনন্য। সেই অর্জন নিয়ে গর্বের কথা বললেন পাকিস্তানের তরুণ বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি দিয়েই শনিবার এই সংস্করণে পথচলা শুরু করেন মিনহাস। অভিষেকে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ধস নামান তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে।
ওয়ানডে ইতিহাসের ৪ হাজার ৯৬৬তম ম্যাচ এটি। অভিষেকে ৫ উইকেট শিকার প্রথম স্পিনার মিনহাসই।
স্পিনারদের মধ্যে অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের আগের রেকর্ড ছিল তাইজুল ইসলামের। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ১১ রানে ৪ উইকট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার।
পাকিস্তানের হয়ে তো পেস-স্পিন মিলিয়েই অভিষেকে ৫ উইকেট ছিল আর কোনো বোলারের। ১৯৮৪ সালে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ড ছিল জাকির খানের। স্পিনারদের মধ্যে অভিষেকে সেরা এতদিন ছিল আব্দুল কাদির। ১৯৮৩ সালে ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন কিংবদন্তি লেগ স্পিনার।
বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে পাঁচে নেমে ১৭ বলে অপরাজিত ১৮ করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন মিনহাস। ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজে এগিয়ে যায় পাকিস্তান।
এতসব রেকর্ড আর অর্জনের কথা জানা ছিল না মিনহাসের। স্বাভাবিকভাবেই তিনি উচ্ছ্বসিত। তবে ২১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বেশি খুশি দলের জয়ে।
“এটা আমার জানা ছিল না (রেকর্ডের কথা)। নিজের দেশের জন্য এমন পারফর্ম করেছি, আমার জন্য গর্বের মুহূর্ত যে অভিষেকে এত ভালো করেছি এবং দল জিতেছে।”
“রেকর্ড তো সামনেও হতে থাকবে। মূল ব্যাপার হলো, দল যেন জেতে। দল জেতায় আমার বেশি খুশি লেগেছে এবং সময়টা উপভোগ করেছি।”
মিনহাসের অভিষেক ম্যাচটি পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেও বিশেষ এক ম্যাচ। ওয়ানডে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে ১ হাজার ওয়ানডে পূর্ণ করল এ দিন পাকিস্তান। ১ হাজার ৭৫ ওয়ানডে খেলে সবার ওপরে ভারত, ১০২০ ওয়ানডে খেলে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া।
দলের মাইলফলকে ম্যাচে নিজের অভিষেক রাঙাতে পেরেও উৎফুল্ল মিনহাস।
“আজকে পাকিস্তানের হাজারতম ওয়ানডে ছিল, আমার অভিষেকও ছিল। যেভাবে আমরা দুটি ব্যাপারই দারুণভাবে উদযাপন করেছি… আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল, দলও জিতেছে… দুটিই উপভোগ করেছি।”
অভিষেক হলেও চাপ ততটা অনুভব করেননি তিনি। চেষ্টা করেছেন উপভোগের মন্ত্রে চাপকে দূরে রাখতে।
“অনেক সময়ই লোকে অনেক কিছু কল্পনা করে থাকে। তবে আমি এমন কিছু ভাবিনি যে অভিষেকে এভাবে পারফর্ম করতে হবে। কারণ, বেশি ভাবলে তা চাপ হয়ে যায়। চেষ্টা করেছি, মৌলিকত্বে থাকতে ও চেষ্টা করেছি নিজের সহজাত খেলা খেলতে।”
“সময়টাকে যতটা সম্ভব উপভোগ করতে চেয়েছি, এজন্য চাপ ততটা অনুভব করিনি। চাপ তো থাকেই। তবে মুহূর্তগুলি উপভোগ করলে চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সেভাবেই আমি চেষ্টা করেছি।”
ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হয়ে মাঠের বাইরে থাকা বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ নাওয়াজের বিকল্প হিসেবে মিনহাসকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। তবে তরুণ এই ক্রিকেটার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন, নিজের পথ তিনি নিজেই তৈরি করে নিতে চান।
“আমি আগেও যত ম্যাচ খেলেছি, পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল, পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) বা যেখানেই খেলেছি, চেষ্টা করেছি, ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেখাতে, প্রভাববিস্তারি পারফরম্যান্স করতে। এভাবেই সাফল্য পেয়েছি।”
“কারও বদলি হিসেবে খেলতে চাই না আমি। নিজের জায়গা নিজে করে নিতে চাই এবং দলে থিতু হতে চাই। চেষ্টা করব, ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স করতে।”
মিনহাসের দুই বছরের ছোট ভাই সামির মিনহাসও পাকিস্তানের সম্ভাবনাময় উঠতি ক্রিকেটারদের একজন। ছোট ভাই মূলত ব্যাটসম্যান। এবারের পাকিস্তান সুপার লিগে ১৫৫.৮০ গড়ে ৩৪৯ রান করে নজর কেড়েছেন ১৯ বছর বয়সী ওপেনার।
তাদের দুই ভাইকে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে তাদের বাবারও অবদান ও ত্যাগ অনেক। অভিষেকের দিনে বাবার কথাও তুলে ধরলেন মিনহাস।
“এটা ছিল তারই স্বপ্ন যে আমরা পাকিস্তানের হয়ে খেলব। আজকে তিনি আমার খেলা দেখেছেন এবং আমি নিশ্চিত, তিনি দারুণ খুশি হয়েছেন।”