২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আম্পায়ারিং ছাড়ছেন আলিম দার

পাকিস্তানের চলতি ঘরোয়া মৌসুম শেষে প্রায় ২৫ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ৫৬ বছর বয়সী এই আম্পায়ার।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Sep 2024, 10:10 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:18 PM

আম্পায়ারিং থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আলিম দার। পাকিস্তানের ২০২৪-২৫ ঘরোয়া মৌসুম শেষে প্রায় ২৫ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন দেশটির অভিজ্ঞ এই আম্পায়ার।

২০২৩ সালের মার্চে আইসিসির শীর্ষ আম্পায়ারদের জন্য গড়া এলিট প্যানেল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন দার। তবে আন্তর্জাতিক প্যানেলের অংশ হিসেবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তিনি আম্পায়ারিং করে যাচ্ছেন। এই বছরের এপ্রিলে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টিতে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

সামনে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের ব্যস্ত সূচি, যেখানে বেশিরভাগই তারা খেলবে টেস্ট। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারের আম্পায়ারিং করার শেষ সুযোগ হতে পারে সেটি। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আগামী আসর হবে ২০২৫ সালের মে মাসে, যা হতে পারে দারের বিদায়ী মঞ্চ।  

লেগ স্পিনার হিসেবে ১৭টি প্রথম শ্রেণির ও ১৮টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলা দারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হয় ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে, কায়েদ-ই-আজম ট্রফি দিয়ে। ২০০০ সালে গুজরানওয়ালায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু হয় স্রেফ ৩১ বছর বয়সে।

দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ সময়ই বিশ্বের সেরা আম্পায়ারদের একজন মনে করা হয়েছে তাকে। ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা তিন বছর জিতেছেন আইসিসি বর্ষসেরা আম্পায়ারের খেতাব ‘ডেভিড শেফার্ড’ অ্যাওয়ার্ড।

আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সাল থেকে, তখন থেকেই এই প্যানেলের সদস্য ছিলেন তিনি।

চারটি বিশ্বকাপ ফাইনালে আম্পায়ারিং করেছেন দার। ১৪৫ টেস্ট ও ২২২ ওয়ানডেতে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তিনি, দুটিই রেকর্ড।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার বিবৃতিতে ৫৬ বছর বয়সী দার বলেন, গোটা ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে আম্পায়ারিং করার চেষ্টা করে গেছেন তিনি।

“প্রায় ২৫ বছর ধরে আম্পায়ারিংই আমার জীবন এবং সবচেয়ে আইকনিক কিছু ম্যাচ পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছি, এই প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়রা যেখানে খেলেছে। আমার ক্যারিয়ারজুড়ে, ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার চেষ্টা করেছি এবং বিশ্বের সেরা ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কাজ করা সম্মানের বিষয়।”

‘আলিম দার ফাউন্ডেশন’ নামে দাতব্য সংস্থা আছে তার। যেখানে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়ার পাশাপাশি একটি ব্লাড ব্যাংক এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়৷ সেখানেই আরও সময় কাটাতে চান বলে জানান দার। ম্যাচ অফিসিয়ালদের পরবর্তী প্রজন্মের মেন্টর ও গাইড হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।