মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩১ রানে এগিয়ে সফরকারীরা।
Published : 06 Apr 2023, 10:08 AM
মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিন শেষেই জয়ের ছবি দেখছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি এবং সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ৩৬৯ রান করে ১৫৫ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ। সাকিব ও তাইজুল ইসলামের স্পিন ঝলকে সেটাই যেন হয়ে গেছে পাহাড়সম।
দ্বিতীয় দিন শেষ বেলায় ১৭ ওভার ব্যাটিং করে ৪ উইকেট হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। করতে পেরেছে কেবল ২৭ রান।
বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে আরও ১২৮ রান করতে হবে আইরিশদের। ধীরে ধীরে স্পিনারদের জন্য সহায়তা বাড়ছে উইকেটে। সাকিব, তাইজুল ও মেহেদী হাসান মিরাজের সামনে কাজটা সহজ নয় সফরকারীদের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে):
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২১৪
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৬৯
আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৭ ওভারে ২৭/৪ (কমিন্স ১, ম্যাককলাম ০, বালবার্নি ৩, টেক্টর ৮*, ক্যাম্পার ১, মুর ১০*; সাকিব ৭-২-১১-২, তাইজুল ৭-৪-৭-২, মিরাজ ২-১-১-০, ইবাদত ১-০-৪-০)
দিনের শুরুতেই উইকেটের সম্ভাবনা জাগালেন তাইজুল ইসলাম। তবে বল গ্লাভসে নিতে পারলেন না লিটন দাস। ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন হ্যারি টেক্টর।
তাইজুলের ফুল লেংথে বাতাসে ঝুলিয়ে করা ডেলিভারি সামনের পায়ে ডিফেন্ড করেছিলেন টেক্টর। টার্নের মুখে তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। তবে বেশ জোরের ওপর যাওয়া বল ধরতে পারেননি লিটন।
প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা টেক্টরের সে সময় রান ছিল ৯। বেঁচে গিয়ে তাইজুলের পরের ওভারে ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন আইরিশ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
সাকিব আল হাসান ও তাইজুলের করা দিনের প্রথম পাঁচ ওভারে ৭ রান করেছে আয়ারল্যান্ড। ২২ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৪ রান। টেক্টর ১৫ ও পিটার মুর ১০ রানে খেলছেন।
তৃতীয় দিনের প্রথম আধ ঘণ্টায় কোনো বিপদ ঘটতে দেননি হ্যারি টেক্টর ও পিটার মুর। এই সময়ের মধ্যে ১০ ওভারে ১৯ রান তুলেছেন এই দুজন। জুটির সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ রান।
দুই প্রান্ত থেকে বোলিং শুরু করেন সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। আউটের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তাইজুল। তবে উইকেটের পেছনে কঠিন সেই ক্যাচ নিতে পারেননি লিটন কুমার দাস।
তিন ওভার করে আক্রমণ থেকে সরে যান সাকিব। তার জায়গায় আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল-মিরাজের বোলিংয়ে বেশ কয়েকবার পরাস্ত হন টেক্টর ও মুর। তবে কোনোটিতেই আউটের জোরাল সম্ভাবনা জাগেনি।
উল্টো আলগা ডেলিভারি পেলেই শট খেলেছেন টেক্টর। তাইজুলকে লং অন দিয়ে মেরেছেন ছক্কা। মিরাজের বলে রিভার্স সুইপে আদায় করে নিয়েছেন বাউন্ডারি। ব্যাক ফুট পাঞ্চে চার মেরেছেন মুরও।
২৭ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৬ রান। ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আরও ১০৯ রান। মুর ১৫ ও টেক্টর ২১ রানে খেলছেন।
তৃতীয় দিনে প্রথম সাফল্য এনে দিলেন শরিফুল ইসলাম। পিটার মুরকে ফিরিয়ে ভাঙলেন আইরিশদের প্রতিরোধ।
স্পিনার দিয়ে আক্রমণ শুরু করে উইকেট না পাওয়ায় দিনের ১৩ ওভার পর বাঁহাতি পেসারের হাতে বল তুলে দেন সাকিব আল হাসান। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই দলকে আনন্দে ভাসালেন শরিফুল।
অফ স্টাম্পে পিচ করা শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিটি অ্যাঙ্গেলে আরও বেরিয়ে যাচ্ছিল। পেছনের পায়ে দাঁড়িয়ে স্কয়ার কাট খেলার চেষ্টা করেন। ব্যাটের বাইরের কানায় লাগা বল অনায়াসে গ্লাভসে নেন লিটন কুমার দাস।
দলীয় পঞ্চাশ পেরোনোর পরপর ১৬ রানে ফিরলেন মুর। তার বিদায়ে ভাঙল ১৫৪ বল স্থায়ী ৩৮ রানের জুটি।
৩৩ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৫২ রান। ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আরও ১০৩ রান।
নতুন ব্যাটসম্যান লরকান টাকার। ২৫ রান নিয়ে খেলছেন হ্যারি টেক্টর।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে একটির বেশি উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শুধু পিটার মুরের উইকেট হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। হ্যারি টেক্টর ও লরকান টাকারের জুটিতে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়ানোর লড়াইয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।
ইনিংসের ৪৭ ওভার শেষে আইরিশদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৯৩ রান। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৩০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তুলেছে তারা। বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে তাদের করতে হবে আরও ৬২ রান।
আগের দিন গড়া ৬৩ বলে ১৪ রানের জুটিতে এদিন প্রায় এক ঘণ্টা টেনে নেন মুর ও টেক্টর। প্রথম ঘণ্টার বিরতির ঠিক আগে ৭৮ বলে ১৬ রান করে মুরকে কট বিহাইন্ড করেন শরিফুল ইসলাম।
তার বিদায়ে ভাঙে ১৫৪ বল স্থায়ী ৩৮ রানের জুটি।
আবার প্রতিরোধের আভাস দিচ্ছেন টেক্টর ও টাকার। তবে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছে এই জুটি। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত দুজন মিলে একসঙ্গে ব্যাটিং করে ৮৯ বলে যোগ করেছেন ৪২ রান।
নিজের অভিষেকে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা টেক্টর আরেকটি পঞ্চাশের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন। ৫ চার ও ১ ছয়ে ১৩২ বলে ৪৩ রান করেছেন তিনি। কিপার-ব্যাটসম্যান টাকার ৪ চারে ৪৩ বলে ২৪ রানে অপরাজিত।
লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারেই জোরাল আবেদন বাংলাদেশের। তবে মেলেনি সাফল্য। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েও উইকেট পায়নি স্বাগতিকরা।
মেহেদী হাসান মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা অফ স্পিন ডেলিভারি রিভার্স সুইপ করেন লরকান টাকার। তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার।
সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে কিছুক্ষণ ভেবে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেন লিটন দাস। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যেত ওই বল। তাই বিফলে যায় বাংলাদেশের রিভিউ
৫০ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৯৫ রান। ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আর ৬০ রান। হ্যারি টেক্টর ৪৪ ও টাকার ২৫ রানে খেলছেন।
খালেদ আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল শরীরের দূর থেকেই খেলেন হ্যারি টেক্টর। অল্পের জন্য স্লিপ ও গালির মাঝে দিয়ে বল চলে বাউন্ডারিতে। একই শটে নিজের পাশাপাশি লরকান টাকারের সঙ্গে জুটিরও পঞ্চাশ পূরণ করেন টেক্টর।
নিজের অভিষেকে দুই ইনিংসেই ফিফটি করলেন টেক্টর। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ ছোঁয়া প্রথম আইরিশ ব্যাটসম্যান তিনি। দ্বিতীয় ফিফটি ছুঁতে তার লেগেছে ১৪৫ বল। ৬ চার ও ১ ছয়।
টাকারের সঙ্গে টেক্টরের ষষ্ঠ উইকেট জুটির পঞ্চাশ এসেছে ১১৩ বলে। যেখানে টাকারের অবদান ২৬ রান।
৫১ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১০২ রান। ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে করতে হবে আর ৫৩ রান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে ফিফটি করা তৃতীয় ব্যাটসম্যান হেক্টর। আগের দুজনই পাকিস্তানের। ২০০৩ সালে ইয়াসির হামিদ দুই ইনিংসেই করেন সেঞ্চুরি (১৭০ ও ১০৫)। পরে ২০২১ সালে দুই ইনিংসে ৭৩ ও ৫২ রান করেন আব্দুল্লাহ শফিক।
হ্যারি টেক্টরের দীর্ঘ প্রতিরোধে বাধ টানলেন তাইজুল ইসলাম। এলবিডব্লিউ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরলেন অভিষেকে জোড়া ফিফটি করা আইরিশ মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান।
তাইজুলের ফুল লেংথ ডেলিভারি প্যাডেল সুইপ করতে চেয়েছিলেন টেক্টর। ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত হানে প্যাডে। জোরাল আবেদনে সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি টেক্টর।
প্রথম ইনিংসে ঠিক ৫০ রান করা টেক্টর এবার খেলেছেন ১৫৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। ৭ চার ও ১ ছয়। তার বিদায়ে ভেঙেছে ১৪৫ বল স্থায়ী ৭২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি।
টেক্টর ফিরলেও আইরিশদের ভরসা হয়ে টিকে আছেন লরকান টাকার। ৭২ বলে ৪০ রান। নতুন ব্যাটসম্যান অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন।
৫৭ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১২৭ রান। ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আর ২৮ রান।
ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছেন লরকান টাকার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অভিষেক টেস্টে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ফিফটি।
৯২ বলে পঞ্চাশ করার পথে টাকারের ব্যাট থেকে আসে ছয়টি চার। হ্যারি টেক্টরের সঙ্গে ৭২ রানের জুটি উপহার দেওয়ার পর অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইনের সঙ্গেও গড়েছেন আরেকটি ভালো জুটি।
৬৪ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৫০। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে আর কেবল ৫ রান চাই সফরকারীদের।
৯৮ বলে ৫৭ রানে খেলছেন টাকার। ২১ বলে এক চারে ১০ রানে খেলছেন ম্যাকব্রাইন। তাদের জুটিতে ২৭ রান এসেছে ৪৬ বলে।
দ্বিতীয় দিন শেষ বেলায় যেটা মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। হ্যারি টেক্টর ও লরকান টাকারের ফিফটিতে সেটাই বাস্তবে পরিণত করেছে আয়ারল্যান্ড।
ইনিংস ব্যবধানে হারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে লিড নিয়েছে সফরকারীরা।
৬৭ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৬৩। সফরকারীরা এগিয়ে ৮ রানে।
১০৬ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৬২ রানে খেলছেন টাকার। ৩১ বলে অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইনের রান ১৮। তাদের জুটিতে ৪০ রান এসেছে ৬৫ বলে।
ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা এড়ানোর পর ধীরে ধীরে লিড বাড়াচ্ছেন লরকান টাকার ও অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে তারা ৭৩ বলে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোলারদের ব্যবহার করছেন সাকিব আল হাসান। অধিনায়ক নিজে অবশ্য খুব একটা বোলিং করছেন না। কোনো বোলারই সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারছেন না। খুব বেশি ভাবাতেও পারছেন না ব্যাটসম্যানদের।
৬৯ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৭৭। ১১৬ বলে ৭৬ রানে খেলছেন টাকার। ৩৩ বলে ম্যাকব্রাইনের রান ১৮। তাদের জুটি এখন ৫৪ রানের।
সফরকারীরা এগিয়ে ২২ রানে।
উইকেটে বোলারদের জন্য বেশ সহায়তা আছে। সেটা একেবারেই নিতে পারছেন না বাংলাদেশের বোলাররা। বল করতে পারছেন না একটা লাইথ ও লেংথে। তাদের অধারাবাহিকতার সুযোগ নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা এড়িয়ে লিড বাড়িয়ে নিচ্ছে আয়ারল্যান্ড।
তৃতীয় দিন চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় সফরকারীদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৯৯। প্রথম সেশনের মতো এবারও স্বাগতিকরা নিতে পেরেছে কেবল একটি উইকেট।
প্রথম সেশনে তাও রানের গতি ছিল নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয় সেশনে সেটিও নেই। ২৭ ওভারে ১০৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। এতে সবচেয়ে বড় অবদান লরকান টাকারের। ১৩২ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় ৮৯ রানে খেলছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন। অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে ১০৭ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়ার পথে ৪৭ বলে করেছেন ২৭ রান।
বিরতিতে যাওয়ার সময় আয়ারল্যান্ডের লিড ৪৪।
সেটি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ সফরকারীদের সামনে। বাংলাদেশ তাকিয়ে দ্বিতীয় নতুন বলের দিকে। আর ৬ ওভার পরেই নতুন বল নিতে পারবেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সুইপ করেছিলেন অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন। কিন্তু ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। বল গিয়ে প্যাডে আঘাত করলে বাংলাদেশের জোরাল আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার।
সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ম্যাকব্রাইন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, প্যাডে লাগার আগে খুবই সূক্ষ্মভাবে তার ব্যাট ছুঁয়েছে মিরাজের ডেলিভারি। তাই মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে দেন তৃতীয় আম্পায়ার।
ম্যাকব্রাইন তখন খেলছিলেন ৩৪ রানে। অপরপ্রান্তে সেঞ্চুরির দুয়ারে দাঁড়িয়ে ৯১ রানে অপরাজিত লরকান টাকার।
দুজনের অষ্টম উইকেট জুটিতে এসেছে ৮৫ রান। ম্যাচে এটিই আইরিশদের সবচেয়ে বেশি রানের জুটি।
৭৮ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২০৮ রান। এরই মধ্যে লিড হয়েছে ৫৩ রানের।
৮০ ওভার শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় নতুন বল নিতেই দারুণ মাইলফলক ছুঁলেন লরকান টাকার। নতুন বলে তাইজুল ইসলামের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে দুই রান নিয়ে সেঞ্চুরি করলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করলেন টাকার। অভিষেকে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় আইরিশ ব্যাটসম্যানও তিনি।
২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের অভিষেক টেস্টে আইরিশদের প্রথম সেঞ্চুরি করেন কেভিন ও'ব্রায়েন (২১৭ বলে ১১৮)। ও'ব্রায়েনের সেঞ্চুরিটিও ছিল দলের দ্বিতীয় ইনিংসে।
১৪৯ বলে ১৩ চার ও ১ ছয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান টাকার। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরপর ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে তাইজুলকে চার মারেন তিনি।
এই চারের সৌজন্যে অষ্টম উইকেট জুটিতে শতরান পূরণ হয়েছে টাকার ও অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইনের। টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি ছোঁয়া আয়ারল্যান্ডের তৃতীয় জুটি এটি।
৮১ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৪ রান। লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ রান। টাকার ১০৭ ও ম্যাকব্রাইন ৩৪ রানে খেলছেন।
নতুন বলে প্রথমবার আক্রমণে এসেই ব্রেক থ্রু দিলেন ইবাদত হোসেন। ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠালেন সেঞ্চুরি করা লরকান টাকারকে।
ফুল লেংথে করা অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল বেশ দূর থেকে ড্রাইভ করেন টাকার। কিছুটা লাফিয়ে দ্বিতীয় চেষ্টায় ক্যাচ নেন কভারে দাঁড়ানো শরিফুল ইসলাম।
১৪ চার ও ১ ছয়ে ১৬২ বলে ১০৮ রান করে ফিরেছেন আয়ারল্যান্ডের কিপার-ব্যাটসম্যান। তার বিদায়ে ভাঙল অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে গড়া ১৭১ বলে ১১১ রানের সপ্তম উইকেট জুটি।
৮৫ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৩৪ রান। তাদের লিড ৭৯ রান।
ম্যাকব্রাইন খেলছেন ৪৩ রানে। নতুন ব্যাটসম্যান মার্ক অ্যাডায়ার।
দ্বিতীয় দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতার কথা বলেছিলেন অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন। বৃহস্পতিবার নিজেই এর প্রমাণ দিলেন তিনি। আট নম্বরে নেমে করলেন দারুণ এক ফিফটি।
সাকিব আল হাসানের কোমরের অনেক ওপরে করা ফুল টসে চার মেরে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তার ৯৩ বলেই ইনিংসে ৫ চারের পাশে ছক্কা একটি।
৯১ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৫১ রান। লিড ৯৬ রান। আরেক ব্যাটসম্যান মার্ক অ্যাডায়ার অপরাজিত ৯ রানে।
ধীরে ধীরে জমে যাচ্ছে মার্ক অ্যাডায়ার ও অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন জুটি। বাংলাদেশের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠছে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধ।
পঞ্চাশ ছুঁয়ে এগোচ্ছেন ম্যাকব্রাইন। তার দৃঢ়তায় তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে আইরিশদের লিড।
৯৪ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৭ উইকেটে ২৫৮। ১০০ বলে ৫৫ রানে খেলছেন ম্যাকব্রাইন। ৩৮ বলে অ্যাডায়ারের রান ১১। সফরকারীরা এগিয়ে ১০৩ রানে।
মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম। চমৎকার এক ডেলিভারিতে কট বিহাইন্ড করে দিলেন মার্ক অ্যাডায়ারকে।
অফ স্টাম্পের বাইরের বল পা বাড়িয়ে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন অ্যাডায়ার। ঠিক মতো পারেননি তিনি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমে পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। ভাঙে ৮৪ বল স্থায়ী ৩১ রানের জুটি।
৪৯ বলে এক চারে ১৩ রান করেন অ্যাডায়ার।
৯৯ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৮ উইকেটে ২৬৫। ক্রিজে অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইনের সঙ্গী গ্রাহাম হিউম। সফরকারীদের লিড এখন ১১০ রান।
আগের দিন শেষ বেলায় ১৭ ওভার বোলিং করে ৪ উইকেট নিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন ৯০ ওভার বোলিং করে স্বাগতিকরা নিতে পেরেছে কেবল কেবল চার উইকেট!
ইনিংস ব্যবধানে হারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ার হাতছানি আয়ারল্যান্ডের সামনে। তৃতীয় দিন শেষে সফরকারীদের রান ৮ উইকেটে ২৮৬।
বল হাতে বাংলাদেশকে ভোগানো অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইন খেলছেন ৭১ রানে। তার ১৪৪ বলের চমৎকার ইনিংস গড়া আট চার ও এক ছক্কায়। গ্রাহাম হিউম ব্যাট করছেন ৯ রানে। অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেটে তারা ৫১ বলে গড়েছেন ২১ রানের জুটি।
১৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ড, ৫১ রানে পঞ্চম। সেখান থেকে তিনশ রানের দুয়ারে পৌঁছে গেছে মূলত তিন ব্যাটসম্যানের অবদানে। পথটা দেখান হ্যারি টেক্টর। আয়ারল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একই টেস্টের দুই ইনিংসে ফিফটি করেন তিনি। খেলেন ৫৬ রানের দারুণ ইনিংস।
আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া লরকান টাকার দলকে টানেন লম্বা সময়। এই কিপার-ব্যাটসম্যান উপহার দেন ১০৮ রানের চমৎকার ইনিংস।
তার বিদায়ের পর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দলকে টানছেন ম্যাকব্রাইন। সফরকারীরা এরই মধ্যে এগিয়ে গেছে ১৩১ রানে। সেটি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ তাদের আছে।
৮৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার তাইজুল ইসলাম। এদিন একটি করে উইকেট নেন দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন।
২৮ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।
দিনের শুরুতে ৩ ওভার বোলিং করেন সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় সেশনে ৫০ মিনিট মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। সেই বল বল হাতে নেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তৃতীয় সেশনে করেন এক ওভারের দুটি স্পেল।
দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর ৫ ওভারের মধ্যে ব্যবহার করেন ৪ বোলার!
লাইন ও লেংথে ধারাবাহিক ছিলেন না স্বাগতিক বোলাররা। তাদের সাদামাটা বোলিংয়ের বিপরীতে অসাধারণ ব্যাটিং করেন টাকার, টেক্টর ও ম্যাকব্রাইন। এই দুইয়ের সম্মিলনে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২১৪
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৬৯
আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: (আগের দিন ২৭/৪) ১০৭ ওভারে ২৮৬/৮ (টেক্টর ৫৬, মুর ১৬, টাকার ১০৮, ম্যাকব্রাইন ৭০, অ্যাডায়ার ১৩, হিউম ; সাকিব ১৩-৪-২৬-২, তাইজুল ৩৮-১৫-৮৬-৪, মিরাজ ২৮-৭-৫৭-০, ইবাদত ১২-১-৩৬-১, শরিফুল ৮-১-৩৫-১, খালেদ ৭-২-৩৮-০)