১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বোলার হান্ট: নিজেদের অভিজ্ঞতা শোনালেন ইবাদত-তাসকিনরা

বোলার হান্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীর দিনে কথা বললেন তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান ও নিশিতা আক্তারও।

বোলার হান্ট: নিজেদের অভিজ্ঞতা শোনালেন ইবাদত-তাসকিনরা
উদ্বোধন হলো বোলার হান্ট। ছবি: বিসিবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 08:19 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

দশ বছর আগে রবি পেসার হান্ট থেকে উঠে আসার ছোট গল্প বললেন পেসার ইবাদত হোসেন। স্পিনার নাঈম হাসান জানালেন, বোলার হান্টে অংশ নিতে কীভাবে প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে। তাইজুল ইসলাম বোলার হান্টে অংশ নিলে কোন বলগুলো করতেন, সেই সম্পর্কে দেন ধারণা। আগ্রহী তরুণ পেসারদের জন্য পরামর্শ দিলেন তাসকিন আহমেদ। আর নারী দলের ক্রিকেটার নিশিতা আক্তার মেয়েদের অংশ নেওয়ার আহবান জানালেন।

বোলার হান্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীর দিনে মঞ্চ মাতালেন পুরুষ ও নারী দলের এই পাঁচ বোলার। তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের আনাচে-কানাচে থাকা সম্ভাবনাময়ী বোলারদের খুঁজে বের করতে রবির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘বোলার হান্ট’ কার্যক্রম শুরু করবে বিসিবি। 

মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও রবির কর্মকর্তাবৃন্দ।

সিলেটে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আঞ্চলিক ট্রায়ালের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরে দেশের বাকি ৭ বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বসহ দুটি ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হবে।

বিভাগীয় ট্রায়াল শেষে প্রতিটি স্থান থেকে চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত বোলারদের ঢাকায় শেষ পর্বের অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য ডাকা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কতজনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। চূড়ান্ত বিজয়ীরা পুরস্কারের পাশাপাশি বিসিবি হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পাবেন।

বোলার হান্টের পুরো কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন- এইচপি প্রধান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, বিসিবি কোচ সোহেল ইসলাম, জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ ও এইচপির পেস বোলিং কোচ কোরি কলিমোর। এছাড়া ফাঁকা সময়ে জাতীয় দলের সাবেক কয়েকজন ক্রিকেটার বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন। 

মঙ্গলবার থেকে এই বোলার হান্টে অংশ নিতে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী আগ্রহী ছেলে ও মেয়েরা নিবন্ধন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ট্রায়ালের আগের দিন পর্যন্ত নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন তারা।

রবির উদ্যোগে এর আগে দুই দফায় পেস বোলিং হান্ট ও একবার স্পিন বোলিং হান্ট আয়োজন করেছিল বিসিবি। পূর্ববর্তী এই উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলতাও পেয়েছে। ২০১৬ সালে বোলিং হান্ট থেকে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন ইবাদত। পরের বছর আয়োজিত স্পিন বোলিং হান্ট থেকে উঠে এসে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন রিশাদ হোসেন।

এরপর আর কোনো ধরনের বোলার হান্ট কর্মসূচি আয়োজন করা হয়নি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, এই বিরতি বিসিবির জন্য ব্যর্থতা।

“শেষ সাত-আট বছর বা কম-বেশি হতে পারে। আট বছর ধরে এই প্রোগ্রাম হয় না। এটা বিসিবির ব্যর্থতা। শেষ দুইবার যখন হয়েছিল, আমরা দুইজন তারকা পেয়েছিলাম, রিশাদের মতো, ইবাদতের মতো। আমরা রিশাদ আর ইবাদতের কথা বলি, কারণ তারা বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করে।

“কিন্তু আরও অনেক ক্রিকেটার আছে, যারা এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের জীবন চালাচ্ছে, পরিবারকে চালাচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভ করছে। এই সাত-আট বছরের বিরতি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঠিক হয়নি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা।”

মেয়েদের জন্যও আলাদা করে বোলার হান্ট আয়োজন করার পেছনের কারণ জানান তামিম। পাশাপাশি ক্রিকেটে আগ্রহী মেয়েদের পাঠানোর অনুরোধও জানান। 

“আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ থেকেই আমরা চেয়েছি এবার মেয়েদের জন্য একটা বোলার হান্ট একসঙ্গে করব। আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে বার্তাটা দিতে চাই, যখন একটা ছেলেদের বোলার হান্ট হবে, তখন তাদের জন্য একটা কোচিং প্যানেল থাকবে। ঠিক আলাদাভাবে মেয়েদের জন্যও থাকবে।

আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ করতে চাই, যারা বাবা-মা, ভাই-বোন যারা আছেন আপনারা নিরাপত্তা বা ওসব নিয়ে চিন্তিত হবেন না। আপনাদের বাসার মেয়েদের, বাচ্চাদেরকে অবশ্যই পাঠাবেন। ওদের যদি ক্রিকেটে আগ্রহ থাকে তারা আসবে, তারা খেলবে। তাদের নিরাপত্তা বলেন বা তাদের সবকিছুর দায়-দায়িত্ব আমাদের।”

এই বোলার হান্ট কার্যক্রমে বিসিবির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম।

“আমি সম্ভাব্য সেরা কোচদের এই কার্যক্রম দেখভাল করতে পাঠাব। পাশাপাশি আমাদের জাতীয় দলে যারা ক্রিকেটার আছেন, যারা তারকা আছেন, যখন ফাঁকা থাকবেন তারা এই ক্যাম্পে যাবেন। আধা ঘণ্টার জন্য হলেও হোক না কেন, এক ঘণ্টার জন্য হলেও হোক না কেন ওরা ওখানে যাবে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। আমি আশাবাদী এই বোলার হান্ট থেকে হয়তো বা আরও চার-পাঁচজন পেয়ে যাবো যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।”