Published : 04 Aug 2026, 07:01 PM
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শিরোনামে লেখা হয়েছে, “বোর্ডের সঙ্গে শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সম্পৃক্ততা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করছে বিসিবি।” আইসিসি এলিট প্যানেলের এই আম্পায়ারকে নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোর প্রেক্ষিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি’ হতে পারে উল্লেখ করে বিস্তারিত ব্যাখা করেছে বোর্ড।
আইসিসি এলিট প্যানেলে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি শরফুদ্দৌলা। ২০২৪ সালের মার্চে দেশের প্রথম আম্পায়ার হিসেবে শীর্ষ আম্পায়ারদের এই ছোট্ট তালিকায় তিনি জায়গা করে নেন এবং বেশ সাফল্যের সঙ্গে আম্পায়ারিং করে এখনও জায়গা ধরে রেখেছেন।
সম্প্রতি বিসিবির সঙ্গে ৪৯ বছর বয়সী এই আম্পায়ারের চুক্তি নিয়ে দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। কোনো খবরে বলা হয়, শরফুদ্দৌলাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কোনোটিতে বলা হয় বরখাস্ত করা হয়েছে, কোনোটিতে আবার বলা হয়, তাকে চুক্তিতে রাখা হয়নি।
এসবের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তুলে ধরে বিসিবি।
“আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এলিট প্যানেল আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের বোর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আমলে নিয়েছে, যা তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
শরফুদ্দৌলা বিসিবির আম্পায়ার হিসেবে বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। তার চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং পরবর্তীতে তা এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, আইসিসি এলিট প্যানেল আম্পায়ার হিসেবে শরফুদ্দৌলার দায়িত্ব বৃদ্ধি এবং একই ভূমিকায় বিসিবিতে অবদান রাখার সুযোগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে চুক্তির আর কোনো মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়নি। বোর্ডের সাথে তার পূর্ববর্তী চুক্তিটি তাই ২০২৬ সালের এপ্রিলে শেষ হয়ে গিয়েছিল।”
বিসিবি জানায়, আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের ব্যস্ততার কারণেই সাধারণত নিজ দেশের বোর্ডের চুক্তিতে রাখা হয় না। চুক্তিতে না থাকলেও শরফুদ্দৌলার ফাঁকা সময়ে তাকে দেশের ক্রিকেটে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
“এটিও উল্লেখ্য যে, পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আইসিসি এলিট প্যানেল আম্পায়ারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির অধীনে রাখাটা কোনো প্রচলিত রীতি নয়। এর প্রধান কারণ হলো জাতীয় বোর্ডগুলোর সময়সূচির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে তাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার অসুবিধা।
তবে, শরফুদ্দৌলার প্রাপ্যতা সাপেক্ষে তাকে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সিরিজের পাশাপাশি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ এবং টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায়ও নিযুক্ত করতে পারে বিসিবি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, একই ধরনের একটি ব্যবস্থার আওতায় ২০২৬ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ম্যাচ পরিচালনার জন্য শরফুদ্দৌলাকে নিয়োগ করেছিল বিসিবি।”
এ ব্যাপারে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে শরফুদ্দৌলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে একটি সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।