Published : 26 Dec 2025, 11:52 PM
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন তুমুল আলোচনার জন্ম দেওয়া দুই দল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মাঠের লড়াই জমল না মোটেও। দায়িত্বশীল ব্যাটিং উপহার দিলেন মির্জা বেগ। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আলো ছড়ালেন শেখ মেহেদি হাসান। অন্য বোলাররাও রাখলেন অবদান। নোয়াখালীকে উড়িয়ে দিয়ে বিপিএলে যাত্রা শুরু করল চট্টগ্রাম।
বিপিএলের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৫ রানে জিতেছে চট্টগ্রাম। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭৪ রান তাড়ায় নোয়াখালী থেমেছে ১০৯ রানে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ছেড়ে দেয় ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস। শেষ পর্যন্ত দলটির দায়িত্ব চেপেছে বিসিবির কাঁধে! সেদিনই মাঠে এসে ফ্র্যাঞ্চাইজির লজিস্টিকাল অব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান কোচ খালেদ মাহমুদ ও সহকারী কোচ তালহা জোবায়ের। পরে অবশ্য মাঠে ফেরেন তারা।
এদিন কেবল দুই জন বিদেশি নিয়ে খেলতে নেমেছে চট্টগ্রাম। তাদের একজন পাকিস্তানী ওপেনার মির্জা। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ৮০ রানের ইনিংসে তিনি জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ১৩ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন অধিনায়ক মেহেদি। পরে বোলিংয়ে ১৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে মোহাম্মদ নাঈম শেখের উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। বিপিএল নিলামে তুমুল সাড়া ফেলা বাঁহাতি এই ওপেনার ফেরেন দুই চারে ১১ বলে ১১ রান করে।
ঝড়ের আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মাহফিজুল ইসলাম। মাজ সাদাকাতের ফুল লেংথ ডেলিভারির লাইন মিস করে বোল্ড হন তিনি।
অন্য প্রান্তে সাবধানী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন মির্জা। পাকিস্তানের এই ওপেনার ৪৯ বলে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। তার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪১ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। ১২ বলে এক চারে ১৭ রান করে তিনি ফিরলেন ভাঙে জুটি।
এরপর গতি পায় চট্টগ্রামের ইনিংস। চারে নেমে ঝড় তোলেন মেহেদি। অধিনায়কের সঙ্গে ২২ বলে ৩৯ রানের জুটি গড়েন মির্জা।
পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর রানের গতি বাড়ান মির্জা। ইনিংসের শেষ বলে এলবিডব্লিউ হয়ে থামেন তিনি। তার ৬৯ বলে খেলা ৮০ রানের ইনিংস গড়া দুই ছক্কা ও সাত চারে।
১ ওভারে ৯ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন সাব্বির হোসেন। ২৫ রানে ১ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ।
রান তাড়ায় তৃতীয় ওভারে ভাঙে নোয়াখালির উদ্বোধনী জুটি। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন হাবিবুর রহমান সোহান।
এক প্রান্ত আগলে রাখেন সাদাকাত। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি সাব্বির হোসেন, সৈকত আলি, জাকের আলি। দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তারা।
৫৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া নোয়াখালীকে কক্ষপথে ফেরাতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন সাদাকাত। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি এই ওপেনার। আবু হায়দারের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি ২৭ বলে ৩৮ রান করে।
দলকে টানতে পারেননি হায়দার আলি। তানভির ইসলামের বলে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দেন পাকিস্তানের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৪ বলে তিনি করেন ২৮ রান। এরপর আর বেশি দূর এগোয়নি নোয়াখালীর ইনিংস।
একটু খরুচে বোলিংয়ে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির। আঁটসাট বোলিংয়ে ১৭ রানে ২ উইকেট নেন মেহেদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৭৪/৬ (মির্জা ৮০, নাঈম ১১, মাহফিজুল ১৬, জয় ১৭, মেহেদি ২৬, আবু হায়দার ৪, জিয়াউর ৬*; হাসান ৪-০-২৫-১, রানা ৪-০-২৯-১, ইহসানউল্লাহ ৩-০-৪০-০, জাহির ৪-০-৩৫-১, সাদাকাত ৪-০-৩১-১, সাব্বির ১-০-৯-২)
নোয়াখালি এক্সপ্রেস: ১৬.৫ ওভারে ১০৯ (সাদাকাত ৩৮, সোহান ১৫, সাব্বির ৫, সৈকত ৪, জাকের ৬, হায়দার ২৮, মাহিদুল ৫, হাসান ০, রানা ২, জাহির ১*, ইহসানউল্লাহ ০; শরিফুল ৩-০-১৪-২, আবু হায়দার ৩-০-১৯-১, মেহেদি ৪-০-১৭-২, তানভির ৪-০-৩৯-৩, মুকিদুল ২.৫-০-১৮-২)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৬৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মির্জা বেগ