১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘স্পেশাল’ জয়ের তৃপ্তি প্রধান নির্বাচকের

বাংলাদেশ এখন টেস্ট ম্যাচ নিয়মিতই জিতছে, তবু মিরপুরে এই জয়টি কেন বিশেষ কিছু, ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

‘স্পেশাল’ জয়ের তৃপ্তি প্রধান নির্বাচকের
দুই নির্বাচক নাদিফ চৌধুরি ও হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 May 2026, 04:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:36 PM

“আমি প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর প্রথম টেস্ট জয়, চার সদস্যের নির্বাচক কমিটির প্রথম টেস্ট জয়, এটিই সবচেয়ে বড় খবর…”, ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে এটুকু বলেই হেসে উঠলেন হাবিবুল বাশার। এই রসিকতাই বলে দিচ্ছে, কতটা ফুরফুরে আছেন তিনি। মজাটুকুর রেশ নিয়েই পরে তিনি যোগ করলেন, দারুণ কিছু ক্রিকেটীয় কারণেই এই জয়টা তার কাছে বিশেষ কিছু। 

পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এটি। তবে দুই বছর আগে পাকিস্তানে গিয়েই তাদেরকে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। টেস্ট জয়ও বাংলাদেশের জন্য এখন বিরল কিছু নয়। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ২০ বছরে ১১৯ টেস্টে জয় ছিল মোটে ১৪টি। গত সাড়ে পাঁচ বছরে ৩৮ টেস্টে জয় এসেছে ১২টি।

কিন্তু এই জয়টি হাবিবুলের মনে বাড়তি মনে আলাদা জায়গা পেয়ে গেছে শেষ দিনের নানা পারিপার্শ্বিকতার জন্য। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বললেন সেই রোমাঞ্চের কথা।

“আমরা তো এখন নিয়মিতই টেস্ট জিতছি। পাকিস্তানে গিয়ে ওদেরকে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছি। তার পরও এই জয়টা স্পেশাল। কারণ, ম্যাচজুড়ে যেভাবে খেলা হয়েছে এবং শেষ দিনে যা হলো। ৭৬ ওভার ছিল আমাদের হাতে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই ৬০-৬৫ ওভারের বেশি পেতাম না আমরা। উইকেটও যথেষ্ট ভালো ছিল (ব্যাটিংয়ের জন্য)। এত কম সময়ে ওদেরকে অলআউট করতে পারার চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেটি করে দেখানো দারুণ ব্যাপার।”

“শেষ সেশন শুরুর সময়ও তিনটি ফলাফলই সম্ভব ছিল। চা বিরতির পর ওই জুটি (আব্দুল্লাহ ফাজাল ও সালমান আলি আগা) যদি আরেকটু টিকে পারত, তাহলে কিন্তু ওদের জেতারও সুযোগ ছিল। রানের গতি ভালো ছিল ওদের, ওভারপ্রতি চার রান করে তুলছিল। সালমান যে ধরনের ব্যাটসম্যান, টিকে গেলে দ্রুত রান করত। বিরতির পর ওই জুটি দ্রুত ভেঙে দেওয়া, এরপর নাহিদের স্পেল, সব মিলিয়েই জয়টা অসাধারণ। একটা প্রোপার টেস্ট ম্যাচ জয়।”

শেষ সেশনে ৪৫ ওভারে ১৫২ রান প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের, উইকেট ছিল সাতটি। তখনও পর্যন্ত তাদের রানের যে গতি ছিল, সেই গতি ধরে রাখতে পারলে ম্যাচ জিতে যেত তারা। তবে সেশনের শুরুতেই জোড়া আঘাত তাদেরকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর নাহিদ রানার তোপে তারা স্রেফ গুঁড়িয়ে যায় ১১ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে।

শুধু শেষ দিনের কারণেই নয়, এই জয়টি হাবিবুলের মনে আরও দোলা দিয়েছে ম্যাচজুড়ে নানা দোলাচলের কারণেও।

“ম্যাচের শুরু থেকেও যদি দেখেন, শুরুতে উইকেট হারানো, পরে জুটি হওয়া, চারশ রান তোলা, বোলিংয়ে একদিন খারাপ করে পরের দিন ঘুরে দাঁড়ানো, দ্বিতীয় ইনিংসে সময়মতো ইনিংস ঘোষণা… সব মিলিয়ে এত ওঠা-নামা ছিল টেস্টজুড়ে, সবকিছুর পর জিততে পারাটা দারুণ একটা অনুভূতি।”

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, তাদের সাহসী ইনিংস ঘোষণার ব্যাপারটি ভবিষ্যতেও দলকে আত্মবিশ্বাসী করবে। একই কথা শোনা গেল প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠেও।

“ইনিংস ঘোষণার টাইমিংটা দারুণ ছিল। আমরা যদি আরেকটু বেশি খেলতাম, তাহলে পাকিস্তান হয়তো আর জয়ের চেষ্টা করত না। নিরাপদ খেলে ড্র করতে চাইত। ওদেরকে চ্যালেঞ্জটা দেওয়া গেছে। এরকম ইনিংস ঘোষণা করাটা দলের ভবিষ্যৎ আত্মবিশ্বাসের জন্য দারুণ কাজে দেবে।”