নাসিমকে নিয়ে লেজের লড়াইয়ে শাকিলের রেকর্ড গড়া দ্বিশতক
সাউদ শাকিলের অসাধারণ ইনিংসে গল টেস্টে প্রথম ইনিংসে লিড পেয়েছে পাকিস্তান।
ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার অফ স্টাম্পের বল কাট করে পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন সাউদ শাকিল। পৌঁছে গেলেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়, দ্বিশতক। এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন সঙ্গী আবরার আহমেদ। শাকিল হেলমেট ও ব্যাট উঁচিয়ে সারলেন উদযাপন। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের সবাই দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে জানালেন অভিনন্দন। যেন থামাথামির নাম নেই!
অমন উদযাপনের যথেষ্ট কারণও আছে। গল টেস্টে যেখান থেকে দ্বিশতক করলেন শাকিল, অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হয়। পাকিস্তানের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে যখন, শাকিলের রান ছিল ১২৭। সেখান থেকে নবম উইকেটে তরুণ পেসার নাসিম শাহর সঙ্গে গড়েন ২৪৩ বল স্থায়ী ৯৪ রানের জুটি। যেখানে নাসিমের অবদান স্রেফ ৬!
পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্টে দ্বিশতকের কীর্তি গড়লেন ২৭ বছর বয়সী শাকিল। ছোট্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার এই স্বাদ তিনি পেলেন দেশের বাইরে তার প্রথম টেস্টেই।
শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানের আগের সর্বোচ্চ ছিল মোহাম্মদ হাফিজের ১৯৬, ২০১২ সালে কলম্বোয়।
শেষ পর্যন্ত ২০৮ রানে অপরাজিত থাকেন শাকিল। তার ৩৬১ বলের ইনিংস গড়া ১৯টি চারে। ৪৬১ রান করে প্রথম ইনিংসে ১৪৯ রানের লিড পায় পাকিস্তান।
তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার রান বিনা উইকেটে ১৪। এখনও পিছিয়ে তারা ১৩৫ রানে।
৬ টেস্টে ২ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে শাকিলের রান হয়ে গেল ৭৮৮। অবিশ্বাস্যভাবে গড় ৯৮.৫০! ১১ ইনিংসে ২২ রানের নিচে কখনও আউট হননি তিনি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে এ দিন ৫ উইকেট নেন রমেশ মেন্ডিস। এই সংস্করণে পঞ্চমবার এই স্বাদ পেলেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
পাকিস্তান মঙ্গলবার তৃতীয় দিন শুরু করে ৫ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে। আগের দিন ১০১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধা শাকিল ও আঘা সালমান এ দিনও কাটিয়ে দেয় প্রায় এক ঘন্টা।
২১৮ বল স্থায়ী ১৭৭ রানের জুটি ভাঙেন মেন্ডিস। এই অফ স্পিনারকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে স্টাম্পড হন সালমান। ১১৩ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় গড়া তার ৮৩ রানের ইনিংস।
শাকিল দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১২৯ বলে। সপ্তম উইকেটে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন নুমান আলি। ১০৪ বলে ৫২ রানের এই জুটিও ভাঙেন মেন্ডিস। নুমান এলবিডব্লিউ হন ২৫ রান করে।
শাহিন শাহ আফ্রিদি টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৩৪৬ রানে ৮ উইকেট হারানো পাকিস্তানের চারশ হওয়াই তখন কঠিন। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয় নবম উইকেট জুটি।
নাসিম এক প্রান্তে শুধু সঙ্গ দিয়ে যান শাকিলকে। রান বাড়ানোর কাজটা করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৩৯ রানে তাকে ফেরানোর সুযোগ একটি এসেছিল বটে, কিন্তু ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।
নাসিমকে বোল্ড করে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন মেন্ডিস। দ্বিশতক থেকে তখনও ৩ রান দূরে শাকিল। পরের ওভারে ধনঞ্জয়ার বলে ডাবল নিয়ে তিনি পৌঁছে যান ১৯৯-এ। এরপর ওই বাউন্ডারিতে পা রাখেন কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে।
আবরারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূরণের পাশাপাশি পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন মেন্ডিস।
এরপর দিনের ৩.৪ ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেন নিশান মাদুশকা ও দিমুথ করুনারত্নে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩১২
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২২১/৫) ১২১.২ ওভারে ৪৬১ (শাকিল ২০৮*, সালমান ৮৩, নুমান ২৫, আফ্রিদি ৯, নাসিম ৬, আবরার ১০; বিশ্ব ১৮-১-৬৯-১, রাজিথা ১৯-১-৭৭-১, জয়াসুরিয়া ৩৫-৩-১৪৫-৩, রমেশ মেন্ডিস ৪২.২-২-১৩৬-৫, ধনাঞ্জয়া ৭-১-১৭-০)
শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ৩.৪ ওভারে ১৪/০ (মাদুশকা ৮*, করুনারত্নে ৬*; আফ্রিদি ২-০-৮-০, নাসিম ১-০-৪-০, সালমান ০.৪-০-২-০)
