১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো নিয়ে বিভাজনের অপচেষ্টা চলছে: ঢাবি উপাচার্য

“ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং এগুলো বাংলাদেশের জাতীয় সত্তা ও ইতিহাস নির্মাণ করেছে,” বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Dec 2025, 08:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

ভাষা আন্দোলন থেকে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজন সৃষ্টির ‘রাজনৈতিক অপচেষ্টা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

রোববার বুদ্ধিজীবী দিবসে তিনি বলেন, “১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ এর ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং এগুলো বাংলাদেশের জাতীয় সত্তা ও ইতিহাস নির্মাণ করেছে।

“এসব ঘটনাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজন সৃষ্টির যে রাজনৈতিক অপচেষ্টা চলছে, সে ব্যাপারে জাতিকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

টিএসসিতে বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, “শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ শুধু স্মরণীয় কোনো ইতিহাস নয়, বরং আমাদের জাতীয় ঐক্য, পরিচয় ও অস্তিত্বের ভিত্তি। এই আত্মত্যাগ যতদিন আমাদের স্মৃতিতে জীবিত থাকবে, ততদিন জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে।

“শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো দিবস নয়; এটি আত্মত্যাগের দায় স্বীকার করার উপলক্ষ।”

বর্তমানে দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই সময়ে শহীদদের স্মৃতি আমাদের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণের কিছুটা হলেও শোধ করা সম্ভব।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শহীদ গিয়াস উদ্দিন আহমদের ছোট বোন অধ্যাপক সাজেদা বানু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমও উপস্থিত ছিলেন।

বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণস্থ কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণস্থ স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধ এবং মিরপুর ও রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদে দোয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তন স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেছেন সংগঠনটির সদ্যসরা।