১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘দুইদিন পর’ ডাকসু থেকে পদত্যাগ করব: সর্বমিত্র চাকমা

“আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি,” বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2026, 06:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:48 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে ‘দুইদিন পর’ পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। 

পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়ে বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি। আমার কিছু কাজ ‘পেন্ডিং’ রয়েছে। এ কাজগুলো শেষ করে আমি আগামী দুইদিন পর পদত্যাগ করবো।”

গত বছর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। 

একের পর এক ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে সোমবার ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। তবে এরই মধ্যে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন কিনা, সে বিষয়টি ফেইসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেননি।

গত নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় গভীর রাতে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ ওঠে সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে।

ক্যাম্পাসে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ নিয়ে ছাত্রদল ও বাগছাসের (বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তি) সঙ্গে বিবাদে জড়ান তিনি।

সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বমিত্র এক হাতে স্টাম্প নিয়ে কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। কেউ কান না ধরলে স্টাম্প হাতে শাসাতে দেখা যায় তাকে।

সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়েন ডাকসুর এ নেতা।

সোমবার দুপুরে ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।”

ডাকসুর এই নেতা লিখেছেন, “সময়টা ছিল গতমাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে, এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।

“আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।”

শিশুদের কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানায় সর্বমিত্র। 

সোমবার দুপুরে ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন,অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।”

এছাড়া, শিশুদের কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শোকজ করার কথা জানায় প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ। 

তিনি বিডিনিউজকে সোমবার বলেছেন, “ওর কাছে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি। ব্যাখ্যা দিক তারপর।”

এ ঘটনায় ছাত্রদলের ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে এ সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রক্টর।  

তবে এ ঘটনায় দুইদিন পার হলেও কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। 

বুধবার সকালে সাইফুদ্দিন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সর্বমিত্র চাকমা এতদিন বাইরে ছিলেন। আমরা তার কাছে শোকজ নোটিশ পৌঁছাতে পারেনি। গতকাল আমরা তাকে অনলাইনে পাঠিয়েছি। এখন তিনি কী জবাব দেন দেখি।” 

শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র বলেন, “আমার কাছে শোকজ লেটার এসেছে। তবে এ ব্যাপারে আমি জবাব দেব না। আগে আমাকে শিক্ষার্থীদের ফোন চুরি, সাইকেল চুরি, নারী শিক্ষার্থীরা হেনস্তার ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে। তখন আমি পদে থাকব কিনা জানি না। তবে আমি এসবের জবাব চাইবো। তখন আমি ডাকসুর পদে নাও থাকতে পারি।” 

আগের খবর:

ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা ডাকসু নেতা সর্বমিত্রের

গভীর রাতে লাঠি হাতে বৃদ্ধকে 'উচ্ছেদেরনেতৃত্বে ডাকসুর সর্বমিত্র

ঢাবিতে 'চাঁদাবাজি': ডাকসু ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ঢাবির মাঠে 'খেলতে আসাশিশুদের কান ধরে উঠবস করালেন ডাকসুর সর্বমিত্র