১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবির মাঠে ‘খেলতে আসা’ শিশুদের কান ধরে উঠবস করালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে; ব্যাখ্যা দিক, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বলেন প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jan 2026, 05:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:47 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে আসায় কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।  

সর্বমিত্র চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসুর) কার্যনির্বাহী সদস্য। 

ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক হাতে স্টাম্প নিয়ে কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। কেউ কান না ধরলে স্টাম্প হাতে শাসাতে দেখা যায় তাকে। 

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু ফেইসবুকে লিখেছেন, “এবার শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। অথচ বাচ্চারা কোনো অন্যায় করে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসন ব্যবস্থার নমুনা। এইটুক ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা করতেছে।”

ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হন সর্বমিত্র। 

শিশুদের কান ধরে উঠবস করানোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

তবে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি নিজের সাফাই করে লেখেন, “নো নিড টু ক্ল্যারিফাই। যারা সেন্ট্রাল ফিল্ডে খেলতে গিয়ে মোবাইল-মানি ব্যাগ হারিয়েছেন, নারী শিক্ষার্থীরা হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়েছেন, তাদের মন্তব্যগুলো দিলাম। 

“তাদের বারবার আসতে মানা করা হয়েছে এ পর্যন্ত, কিন্তু তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এখানে আসে এবং দেয়াল টপকিয়ে যাবার সময় স্টাফদের ঢিল ছোঁড়ে। 

“প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও দেয়াল সংস্কারে তারা অনীহা দেখায়, ফাইল বারবার ফিরে আসে। সেদিন গার্ডকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছিল।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওর কাছে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি। ব্যাখ্যা দিক তারপর।”