Published : 26 Jan 2026, 05:23 PM
একের পর এক ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানালেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
সোমবার দুপুরে ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে আসায় কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মধ্যেই তার এমন সিদ্ধান্ত এল।
তবে এরই মধ্যে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন কিনা, সে বিষয়টি ফেইসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেননি।
ফেইসবুকে সর্বমিত্র লিখেছেন, “আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।
“সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।”
তিনি লেখেন, “এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়।
“ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।”
শিশুদের কান ধরে উঠবস করানোর বিষয়ে ডাকসুর এই নেতা লিখেছেন, “সময়টা ছিল গতমাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে, এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।
“আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন , মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।”
সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার সঙ্গে আমাদের কোনো আলাপই হয়নি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সর্বমিত্রকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বমিত্র এক হাতে স্টাম্প নিয়ে কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। কেউ কান না ধরলে স্টাম্প হাতে শাসাতে দেখা যায় তাকে।
গত নভেম্বরে গভীর রাতে লাঠি হাতে বৃদ্ধকে ‘উচ্ছেদের’ নেতৃত্বে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে।
ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হন সর্বমিত্র চাকমা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
গত নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় গভীর রাতে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ ওঠে সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে।
সবশেষ ক্যাম্পাসে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ নিয়ে ছাত্রদল ও বাগছাসের (বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তি) সঙ্গে বিবাদে জড়ান সর্বমিত্র।
শনিবার ফেইসবুক পোস্টে তিনি, ছাত্রশক্তির নুরুল গণি সগির ও মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাউসারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
তার অভিযোগ, এসব ব্যক্তি চাঁদার বিনিময়ে অন্যকে দোকান বসাতে দিয়েছেন, যার তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
তার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রোববার সংবাদ সম্মেলনে আসেন নুরুল গণি সগির।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটা যদি সর্বমিত্র চাকমা প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় কান ধরে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাব।
“আমি সর্বমিত্র চাকমাকে চ্যালেঞ্জ করছি, এ যেন আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ তুলেছে তার প্রমাণ দেয়। আর না দিলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
সর্বমিত্র চাকমার পোস্টের প্রতিবাদে শনিবার রাতে বিক্ষোভও করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন
গভীর রাতে লাঠি হাতে বৃদ্ধকে 'উচ্ছেদের' নেতৃত্বে ডাকসুর সর্বমিত্র
ঢাবিতে 'চাঁদাবাজি': ডাকসু ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঢাবির মাঠে 'খেলতে আসা' শিশুদের কান ধরে উঠবস করালেন ডাকসুর সর্বমিত্র