১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদকের নেতৃত্বে ধাওয়া, ক্যাম্পাস ছাড়লেন অধ্যাপক জামাল

প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা জামাল স্যারকেও বলেছিলাম না আসতে। তারপরও তিনি এসেছেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Dec 2025, 05:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিভাগে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আ ক ম জামালসহ কয়েকজন শিক্ষক দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ যান। সেই খবর পেয়ে অনুষদ ভবনের সামনে জড়ো হন কয়েকজন। সেখানে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে আ ক ম জামালকে ধাওয়া করা হয়। 

সোশাল মিডিয়ায় আসা এক ভিডিওতে দেখা যায়, জুবায়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিঁড়িতে অধ্যাপক জামালকে জাপটে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেন। আ ক ম জামাল নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় তার হুডি খুলে ফেলেন। তিনি সিঁড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালালে তার পিছু ধাওয়া করেন জুবায়ের।

এক পর্যায়ে অধ্যাপক জামাল একটি গাড়িতে উঠে পড়েন। জুবায়ের তখনো গাড়ির দরজা টেনে ধরে তাকে নামানোর চেষ্টা করছিলেন।

ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত জুবায়ের পরে এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার দিতে হবে বলা আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার শিক্ষক আকম জামাল, নীল দলের পোস্টেড নেতা জিনাত হুদাসহ ৫ জন ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষক আজকে ক্যাম্পাসে এসে গোপন মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আনফরচুনেটলি আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় কুলাঙ্গারগুলো!”

তিনি লিখেছেন, “ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা এদের ক্লাস-পরীক্ষা সব বয়কট করেছে। তারপরও এরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সাহস কিভাবে পায়! প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। খুনিদের সাথে কোনো সহাবস্থানের সুযোগ নেই। সবগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে শীঘ্রই।”

এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে অধ্যাপক আ ক ম জামাল ও অধ্যাপক জিনাত হুদাকে একাধিক ফোন করা হলেও তারা ধরেননি। 

কোন পাঁচ শিক্ষক ক্যাম্পাসে ‘গোপন মিটিংয়ে’ এসেছিলেন জানতে এবি জুবায়েরকে একাধিক ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সে সময় ক্যাম্পাসে ছিলাম না। তবে এর আগে আ ক ম জামাল স্যার ক্যাম্পাসে এলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। পরে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করি যে, তিনি আর আসবেন না। আমরা জামাল স্যারকেও বলেছিলাম না আসতে। তারপরও তিনি এসেছেন।”

 কোন পাঁচ শিক্ষক বৈঠক করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তো বাইরে ছিলাম, আমি তো জানি না। তবে এক ভিডিওতে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের আজমল স্যারকে দেখেছি। আমি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।”