Published : 24 May 2026, 03:39 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিবিরকর্মী ফেইসবুকে শিক্ষালয়টির এক ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাতে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’নামের ফেইসবুক গ্রুপে এক পোস্টে ওই আক্রমণ করা হয়।
অভিযোগ ওঠা আলি আহসান মোজাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির, ভয়েস অব স্টুডেন্টসহ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে ভয়েস অব স্টুডেন্ট মোজাহিদ কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, “শামসুন নাহার হল এবং হল সংসদকে নিয়ে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে করা এক পোস্টে আমি কমেন্ট করি এবং সেখানে এক বট আইডি আমাকে অশ্লীল ভাষায় রিপ্লাই করেন।”
পরে ফেইসবুক গ্রুপটির মডারেটরের মাধ্যমে আক্রমণকারী প্রকৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, “এই অ্যানোনিমাস কমেন্টকারী আইডির মালিকের পরিচয় জানতে পারা যায়, দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি আমার ফেইসবুক লিস্টেরই একজন। আমরা একসাথে কয়েকটি প্রোগ্রামে ছিলাম এবং আমি আমার ছোটভাই পরিচয়ও দিতাম তাকে। সে পূর্বে অনেকবার নিজেকে শিবির সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে দাবি করেছে।"
ওই ছাত্রী বলেন, “জানার পর আমি সাথে সাথে মোজাহিদকে মেসেজ দেই; আর সে স্বীকার করেছে যে—এই কাজ সে করেছে। পরবর্তীতে সে বলে, তাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে এই কাজ করার জন্য।”
ভাইরাল হওয়া কিছু স্ক্রিনশটে মোজাহিদকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা যায়। গালি দেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী মেসেঞ্জারে জানতে চাইলে মোজাহিদ বলেন, “আপু আমাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই জন্য আর কিছু না ভেবে করতে বাধ্য হয়েছি। সরি আপু। আমি অনেক বেশি অনুশোচনা বোধ করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে আলি আহসান মোজাহিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে সংগঠনে নিষ্ক্রিয় থাকলেও সে শিবিরের কর্মী। তবে সক্রিয়-নিষ্ক্রিয় কোনো বিষয় নয়, তার বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“দল-মত নির্বিশেষে এ ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। তার বিচারের ক্ষেত্রে ছাত্রশিবির সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি সে শুধু শিবিরের সাথেই নয়, ভয়েস অব স্টুডেন্টসসহ আরও কয়েকটি সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছে।”
ভয়েস অব স্টুডেন্টসের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, “মোজাহিদকে ঘিরে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, সেটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তবে তার কাজটি সে ব্যক্তিগতভাবে করেছে।
“ব্যক্তির দায় সংগঠন নিবে না। তবে আমরা বিষয়টি দেখার সাথে সাথেই কারণ দর্শনার নোটিস দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে তাকে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারও করা হয়েছে।”
কটূক্তির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী ফেইসবুকে লিখেছেন, “দুই দিন আগেও দেখলাম সে ‘আদর্শে শিবির, সংগ্রামে শিবির’ স্লোগান দিচ্ছে। আজ একজন নারী শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে সেই আদর্শেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।”
চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দীপা বলেন, “নারীর প্রতি প্রতিহিংসা এবং নারীদেরকে নিয়ে বুলিংকারী সে যেই হোক না কেন, তাকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
“কোনো ধরনের মারসি চলবে না। দল-মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু ভাষা প্রয়োগের আদব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর থাকা প্রয়োজন, যেটা ছেলেটি লিমিট ক্রস করেছে।”
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “একজন নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত যে লেলিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে, তার পেছনে কারা রয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নারী শিক্ষার্থীকে বুলিং বা হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চাকসুর লিগ্যাল এইড সেল থেকে আইনি সহায়তাও দেওয়া হবে।”
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “শিবির কেন গুপ্ত থাকে এটা তার দৃষ্টান্ত উদাহরণ।
“কারণ দলীয় পদ-পদবী নিয়ে কোনো অপকর্ম করলে সেটি শিবিরের উপর বর্তাবে। তারা নেতাকর্মীদেরকে লুকিয়ে রেখে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন বিষয়গুলোর জন্য নির্ধারিত সেল রয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”